সারা দেশ

চেয়ারম্যানের উদ্যোগে  জনগনের  স্বেচ্ছা শ্রমে  খাল খনন

  • ''
  • প্রকাশিত ১৯ অক্টোবর, ২০২৩

সাইফুল ইসলাম,  (সিংগাইর) মানিকগঞ্জ : মানিকগঞ্জের  সিংগাইরে  উপজেলা  চেয়ারম্যান  ও স্থানীয়  জনগনের  স্বেচ্ছা শ্রমে দীর্ঘদিন  বন্ধকৃত  খালের  মুখের মাটি কেটে পানি নিষ্কাশনের  ব্যবস্থা  করেছেন।  ১৯ শে অক্টোবর  ( বৃহস্পতিবার )   সকালে উপজেলা  চেয়ারম্যান  বীর মুক্তিযোদ্ধা  মোঃ মুশফিকুর রহমান খান  হান্নান  ও স্থানীয়  শতাধিক   জনগন নিয়ে     উপজেলার  বায়রা ইউনিয়নের  চর চারাভাংগা খাল টি কাটা  শুরু  করেন৷  এ ব্যতিক্রম কর্মকান্ড দেখে  স্থানীয়  জনগনের   প্রশংসার ভাসছেন   ঐ চেয়ারম্যান ।

 


সরেজমিনে  গিয়ে দেখা যায়   উপজেলার  বায়রা ইউনিয়নের  চরচারাভাংঙ্গা  খালটি আলালের বড়ী হতে  খৈমুদ্দিনের বাড়ীর সংলগ্ন  ধলেশ্বরী  নদীর  সাথে সংযোগ হয়েছে। প্রায় এক কিলোমিটার  এ  খালটি এক সময়ে পানি প্রবাহ সচল থাকলেও   পলি ও বালি মাটি পড়ে  খালটির নব্বই শতাংশ  ভরাট হয়ে , খালের    পানি নিষ্কাশন বন্ধ  হয়ে  যায় । ফলে   চরচারাভাংঙ্গা,  চরজামালালপুর , বাঘার চর এলাকার  ৭ শত - ১ হাজার একর জমি  জলাবদ্ধতার  সৃষ্টি  হয়েছে ।   খালের নালা ভরাট ও এলাকা নিচু হওয়ায়  বছরে  ছয়মাস কৃষকের স্বপ্ন  ডুবে থাকে পানির নিচে ফলে   শতশত কৃষকের চাষাবাদ  ব্যাহত হয়। এলাকার  ৯০ ভাগ মানুষ  কৃষি  কাজ করে জীবন জীবিকা  নির্বাহ  করে থাকেন। কার্তিক ও অগ্রহায়ণ মাসে ভরা মৌসুমে  তাদের জমি তে পানি থাকায়  রবিশস্য সরিষা, গম, শাক সবজি উৎপাদন  ব্যাহত হয়।  এ কারণে  কোটি কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন  স্থানীয়   কৃষকরা । ভরা মৌসুমেও  অন্ন ভান্ডার  পানির নিচে থাকায়   পরিবার পরিজন নিয়ে কষ্টে  কাটে  তাদের  দিন । স্থানীয়রা জানান এ এলাকর জমি খুব উর্বর    এক সময়  ফসলের  বাম্পার ফলন হলেও  এ খালটি  এখন কৃষকের গলার কাটা হয়ে  দাঁড়িয়েছে। এছাড়া চরএলাকার  রাস্তা ঘাটের করণ দশা হওয়ায়  শুকনো মৌসুমে  যে শস্য উৎপাদন হয়  তা সঠিক সময়ে  বাজার জাত করনের অভাবে  ন্যায্য মূল্য হতে বঞ্চিত  হচ্ছেন  কৃষকরা।

 


কৃষক লতিফ বলেন, খালটি বন্ধ  হওয়ার কারণে  আমাদের জমি ছয় মাস  পানির নিচে থাকে।   আর ছয়মাসে চাষ বাস করে সংসার চালান কষ্ট  কর।  উপজেলা চেয়ারম্যান  আমাদের  নিয়ে এ খালটি  খননের কাজ  আজ সকাল হতে শুরু করছে।  খলটি খননের  ব্যবস্থা করে  আমাদের   জন্য অনেক উপকার করলেন তিনি।

 


কৃষক ইউসুফ  বলেন, ৪০ -৫০ বিঘা জমির মধ্যে ৩০ বিঘা জমি বছরের ছয়মাস পানির নিচে  থাকে । চেয়ারম্যান ও আমাদের  স্বেচ্ছায়  শ্রমে  খালটি খনন হচ্ছে। এতে আমরা তিন গ্রামের  কৃষকরা উপকৃত হবো ।

 

সিংগাইর উপজেলা  চেয়ারম্যান  বীর মুক্তিযোদ্ধা  মোঃ   মুশফিকুর রহমান  খান হান্নান  বলেন,  কোন  কৃষি  জমির এক ইঞ্চি  জায়গা যেন অনাবাদি   না  থেকে  মাননীয়  প্রধানমন্ত্রী  শেখহাসিনার  এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে  আমি বদ্ধপরিকর। দীর্ঘদিন  চর চারা ভাংঙ্গা খালটি বালি ও পলি পড়ে  ভরাট হয়ে যায়। এতে  এলাকার কৃষক দের স্বপ্ন পানির নিচে ডুবে যায়।  চরজামালপুর চারাভাংঙ্গা, বাঘারচর তিনটি গ্রামের   প্রায় একহাজার একর জমি  জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।  কৃষকের কষ্ট  লাঘবে আমি ওএলাকার কৃষকদের  স্বেচ্ছায়  শ্রমে খাল খননের কাজ করা হচ্ছে ।  যাতে পাশেই ধলেশ্বরী নদীতে  পানি নিষ্কাশন হয়। এলাকা বাসীর  এ  স্বেচ্ছায় শ্রমের প্রতি আমি সাধুবাদ জানাই।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads