ফুলবাড়ীতে উপশহর প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘ ৪২ বছর আগে ১৯৭৯ সালের শেষ দিকে অধিগ্রহণ করা হয় ফুলবাড়ী পৌরশহরের প্রাণকেন্দ্র গৌরীপাড়া এলাকায় ফুলবাড়ী-গোবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের উত্তর প্রান্তে। কিন্তু প্রকল্পটি ৪২ বছরেও বাস্তবায়িত না হওয়ায় অধিগ্রহণকৃত ১২ একর জমি ক্রমান্বয়ে চলে যাচ্ছে ব্যক্তি বিশেষের দখলে। প্রকল্পটি উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন জিয়াউর রহমানের সরকারের উপ-রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তার।
জানা গেছে, ফুলবাড়ীতে আবাসন সংকট নিরসনকল্পে ১৯৭৯-৮০ অর্থ বছরে দিনাজপুর ল্যান্ড অ্যাকোয়ার কেস নং-৩৮/১১ এর মাধ্যমে কানাহার এলাকার জেএল নং-৫২ এর ১০ দশমিক ৯৪ এবং গৌরীপাড়া এলাকার জেএল নং-৫১ এর দশমিক ৮৫সহ মোট ১১ দশমিক ৭৯ একর জমি হাউজিং এস্টেট বরাবর অধিগ্রহণ করে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ। এই অধিগ্রহণকৃত জমির দক্ষিণে ফুলবাড়ী-গোবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক, পূর্বে জিএম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, পশ্চিমে মহিলা কলেজ এবং উত্তরে ফসলি জমি রয়েছে।
ফুলবাড়ী ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ফুলবাড়ীতে উপশহর স্থাপনের জন্য হাউজিং এস্টেটের জন্য যে উদ্দেশ্যে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ এই বিশাল জায়গা অধিগ্রহণ করেছিল পরবর্তীতে ১৯৮৪ সালে ২৪ মার্চ এরশাদ সরকার আসার পর প্রকল্পটি আর আলোর মুখ দেখেনি। ফলে সেই সময় থেকেই অধিগ্রহণকৃত জায়গা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে হাউজিং এস্টেট ওই জমি ফুলবাড়ী উপজেলা পরিষদের নামে একসনা লিজ প্রদান করে। এ কারণে একই বছর ১৩ নভেম্বর ১১২৩ নং স্মারকের মাধ্যমে ফুলবাড়ী হাউজিং এস্টেটের জায়গাটি হাউজিং এস্টেট প্রকল্পের পক্ষে চেয়ারম্যান ফুলবাড়ী উপজেলা পরিষদ, ফুলবাড়ী, দিনাজপুর নামে কাহার ও গৌরীপাড়া মৌজায় যথাক্রমে ৯৯২ ও ৯২৪ হোল্ডিং খোলা হয়।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেখানে এক ইঞ্চি জায়গাও অনাবাদি রাখতে নিষেধ করেছেন সেখানে ফুলবাড়ীর ১১ দশমিক ৭৯ একর জমি দীর্ঘ ৪২ বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ফলে পরিত্যক্ত ওই জায়গার মধ্যে ইতোমধ্যে অনেক জায়গাই ব্যক্তি বিশেষের দখলে চলে গেছে। অনেকে দখলে নিয়ে নিজে কাজে লাগাচ্ছে নিজ খেয়ালখুশি মতো। একই সাথে মাদকাসক্তদের অবাধ বিচরণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রুম্মান আক্তার বলেন, দীর্ঘ ৪২ বছর ধরে অধিগ্রহণকৃত ১২ একর জমি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় যে উদ্দেশ্যে জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল সেটি না হওয়ার পাশাপাশি ওই জমি থেকে ফসল উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তবে ওই জমি ৪২ বছর ধরে আমন ও বোরো মৌসুমে চাষাবাদ করা গেলে চার কোটি ৭৫ লাখ ৪৭ হাজার টাকা মূল্যের এক হাজার ৭৬১ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন করা সম্ভব হতো। তিন ফসলি করা গেলে এর পরিবার আরো বৃদ্ধি পেতো।
জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ দিনাজপুর ডিভিশনের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোর্শেদ আলম বলেন, ফুলবাড়ী উপশহর প্রকল্প নিয়ে কাজ শুরু করা হয়েছে। খুব দ্রুত প্লট করে বরাদ্দ দেওয়ার কাজ শুরু করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন বলেন, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ ফুলবাড়ী উপশহর নিয়ে নথিপত্রের কাজ শুরু করেছেন। দ্রুত এর অগ্রগতি দেখা যাবে।
ফুলবাড়ী পৌরসভার মেয়র মাহমুদ আলম লিটন বলেন, পৌর শহরের মধ্যে এই বিশাল জায়গা দীর্ঘ ৪২ বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। অথচ জায়গার অভাবে পৌরসভা গরুর হাট, পার্ক, কাঁচাবাজার বসাতে পারছে না। তবে প্রকল্পটি দ্রুত চালু করা হোক, নাহলে জায়গাটি পৌরসভাকে দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হোক।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মিল্টন বলেন, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছে। তারা হাউজিং এস্টেট প্রকল্পের কাজ শুরু করেছেন। দ্রুতই প্রকল্পটি দৃশ্যমান হবে।





