পাবনার চাটমোহরে গরম বাতাসে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতিতে কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়েছে। কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে গরম বাতাস বয়ে যাওয়ায় বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে কৃষকরা দাবি করেন। এতে সোনালি ধান পুড়ে সাদা ধূসর রূপ ধারণ করেছে। বোরো ধানের শিষ নষ্ট হয়ে গেছে। এখন ধানের শিষ শুধু চিটা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, কালবৈশাখীর গরম বাতাসে ধানের শিষের পরাগায়ণ বিঘ্নিত হয়ে ও মাটিতে শুয়ে পড়ায় আগাম বোরো ধানের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সরেজমিনে উপজেলার মূলগ্রাম, মথুরাপুর ও পৌর এলাকার বিভিন্ন মাঠে গিয়ে দেখা যায় বিঘার পর বিঘা জমির বোরো ধানের শিষ শুধু সাদা। চিটা ধানে ধানের লেশমাত্র নেই। দমকা গরম বাতাসে বোরো ধানের শীষ পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। উপজেলার বিভিন্ন মাঠে বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে।
উপজেলার বেজপাড়া গ্রামের কৃষক আঃ মান্নান, জমিন উদ্দিন, বকুল হোসেনসহ অন্যরা জানান, গত কয়েক দিন আগে ঝড়ের সঙ্গে গরম বাতাসে তার জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে এ বছর উৎপাদন খরচ আর উঠবে না। তারা আরো বললেন, একই অবস্থা এলাকার সব কৃষকের।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. রবিউল করিম জানায়, কমবেশী সবখানেই এই ক্ষতি হয়েছে। কৃষক পুড়ে যাওয়া ধান নিয়ে আমাদের কাছে আসছে। আমরা তাদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, এখন বাকি ধানের জমিতে এক লিটার পানিতে ১০ গ্রাম পটাশ মিশিয়ে স্প্রে করতে বলা হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এ এ মাসুমবিল্লাহ জানান, কালবৈশাখীর গরম বাতাসে ধানের শিষের পরাগায়ণ বিঘ্নিত হয়ে ও মাটিতে শুয়ে পড়ায় আগাম বোরো ধানের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করছি। আপাততঃ ২৫/৩০ হেক্টর জমির বোরো ধান নষ্ট হয়েছে। যে ধান আর হবে না। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদেরও তালিকা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।





