চাঁদপুরে বেড়েই চলছে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। দেড় মাসে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ৭৫জন রোগী চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৫২জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন, ১জন স্ব-ইচ্ছায় ঢাকায় চিকিৎসার জন্য গেছেন, আরো ২২জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।
জানা যায়, গত কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশের বিভিন্নস্থানে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। একই সাথে চাঁদপুরেও এর প্রভাব দেখা দিয়েছে। তবে চাঁদপুরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত বেশীর ভাগই ঢাকা থেকে এলাকায় ফিরে আসা এমন রোগী বা কোন কাজে ঢাকায় গিয়ে ছিল এমন রোগীই বেশী দেখা যায়।
খবর নিয়ে জানাযায়, চাঁদপুর পৌরসভায় নিয়মিত মশা নিধনের ঔষধ স্প্রে না করায়, ডেঙ্গু মশার উপদ্রব বেড়েছে। আর ওইসব ডেঙ্গু মশার কারনে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে মানুষজন। বর্তমানে চাঁদপুরের আড়াই’শ শয্যা বিশিষ্ট চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ২২ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী ভর্তি রয়েছে।
চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডের ইনচার্জ সবুজ হোসাইন জানায়, গত জুন মাসে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত ৪জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। চলতি মাসে পুরুষ ওয়ার্ডে ৭০জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং হাসপাতালের ৪র্থ তলার মহিলা ওয়ার্ডে একই রোগে আক্রান্ত হয়ে ৫জন নারী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে হাসাতালে ২০/২২ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এ দিকে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের চলমান পরিস্থিতি সামাল দিতে চিকিৎসাসেবার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুরুষ ওয়ার্ডে ৮টি বেডের আলাদা ইউনিট করেছেন। যেখানে দেখা গেছে ওই ইউনিটে মশারি টানিয়ে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে।
চাঁদপুর সদর, ফরিদগঞ্জ ও হাজীগঞ্জ পৌরসভায় ডেঙ্গু মশা নিধনে বিভিন্নস্থানে নিয়মিত মশা নিধনের ঔষধ স্প্রে করেছেন পৌরসভা। এছাড়াও কোন পৌরসভায় মশার ওষধ স্প্রে করা হয়নি। এসব কারণে হঠাৎ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার কারণ বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তাই এখন থেকে যদি নিয়মিত চাঁদপুরে মশা নিধনের ঔষধ স্প্রে করা হয় তাহলে হয়তো ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত থেকে মানুষ কিছুটা মুক্তি পাবে।
চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আর এম ও) ডাঃ আসিবুল আহসান চৌধুরী জানান, এখন বর্ষা মৌসুম হওয়ায় দেখা গেছে যে টানা কয়েকদিন বৃষ্টির কারণে ফুলের টবসহ বিভিন্ন গর্ত, ডোবা, নালা, পানি জমে থাকে। আর ওইসব জমে থাকা নোংরা পানি থেকে দেখা গেছে এডিস মশার উৎপত্তি ঘটে।
এসব মশার কামড়ে অনেকেই ডেঙ্গ জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে যারাই চাঁদপুর সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছেন, তাদের অধিকাংশ লোকই ঢাকা থেকে এই জ্বরে আক্রান্ত হয়ে এসেছেন। তিনি আরো জানান, যে এ ক্ষেত্রে সর্তক থাকার জন্য ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহার করতে হবে।
তিনি আরো জানান, আমাদের হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে পরীক্ষা করানো হয় সিবিসি ৪০০টাকা, অন্য দু’টি প্লাটিনা ১৫০ টাকা করে। শুধু মাত্র সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এ পরীক্ষাগুলো চলে। যদি এর বাহিরে ইমার্জেন্সি করতে হয় তাহলে বাহির থেকে করতে হয়।
জানাযায় বাহির থেকে ডেঙ্গু জ্বরের পরীক্ষা করতে হলে ২০০০ টাকা থেকে ২৫০০ টাকা গুনতে হয় রোগীর স্বজনদের।





