গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ উৎপাদনের সম্ভাবনা

সংগৃহীত ছবি

সারা দেশ

গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ উৎপাদনের সম্ভাবনা

  • মো. শাহাদৎ হোসেন শাহ, দিনাজপুর
  • প্রকাশিত ২৯ অক্টোবর, ২০২১

দেশের ক্রমবর্ধমান পেঁয়াজের চাহিদা ও ঘাটতি মেটানোর জন্য বাংলাদেশে খরিপ-২ মৌসুমের গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ উৎপাদন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে কৃষি প্রযুক্তি, দক্ষ ব্যবস্থাপনা, আধুনিক কলাকৌশল প্রয়োগ করে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ (ডিএই) বিএডিসি, বারিসহ প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের চারা উৎপাদন করা হচ্ছে, যা কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে।

দিনাজপুর হর্টিকালচার সেন্টার, সদরপুরে ব্যাপকভাবে পেঁয়াজের চারা উৎপাদন করা হচ্ছে। প্রথমবারের মতো এই প্রতিষ্ঠানে নিজস্ব উদ্ভাবিত পদ্ধতিতে পেঁয়াজ চারা উৎপাদন করা হচ্ছে, যা ইতোমধ্যে কৃষক-কৃষানির মাঝে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। পদ্ধতিগুলো হলো-(১) ওপেন ফিল্ডে পলিথিন শেডের মাধ্যমে। (২) ওপেন ফিল্ডে আগাছা নিয়ন্ত্রণের জন্য পলিথিন মালচ এবং ওপরে পলি শেড দিয়ে। (৩) দুই ইঞ্চি বাই এক ইঞ্চি প্লাস্টিক ট্রেতে সরাসরি চারা উৎপাদন। তিন পদ্ধতির মধ্যে সবচেয়ে খোলা মাঠে পলিথিন ও শেড দিয়ে চারা উৎপাদন পদ্ধতিই বেশি গ্রহণযোগ্য প্রতীয়মান হচ্ছে। কেননা এই পদ্ধতিতে অবাঞ্ছিত আগাছা যেমন প্রতিরোধ করা যাচ্ছে, তেমন বৃষ্টিতে গোড়াপচা রোগসহ বিভিন্ন রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে।

দিনাজপুর হর্টিকালচার সেন্টারের এ সফলতার পেছনে প্রধান ভূমিকা রাখছেন প্রতিষ্ঠানে উপপরিচালক কৃষিবিদ এজামুল হক এবং তার দক্ষ টিম। উৎপাদিত চারা বিনামূল্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিদের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে, যা কৃষকরা পেয়ে খুবই আনন্দিত। অসময়ে পেঁয়াজ চারা উৎপাদন বেশ কঠিন ও দুরূহ ব্যাপার। কেননা এ সময়ে পেঁয়াজের চারা অঙ্কুরোদ্গম কম হয়, বিভিন্ন রোগবালাই লেগে পেঁয়াজের চারা পঁচে যায়। তথাপিও দিনাজপুর হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক কৃষিবিদ এজামুল হক, কৃষিবিদ ইমরুল আহসান এবং উপ-সহকারী উদ্যান কর্মকর্তাদের নিরলস প্রচেষ্টায় সফলভাবে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চারা উৎপাদন করে চলেছেন।

দিনাজপুর হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক এজামুল হক বলেন, আমাদের উত্তরাঞ্চলে আমন ধান কেটে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে সাধারণত চাষি ভাইয়েরা পেঁয়াজের চারা রোপণ করে থাকে। তখন একসঙ্গে সকল চাষি পেঁয়াজের বাম্পার ফলন পেয়ে দাম কম পেয়ে থাকে। এরফলে আর্থিকভাবে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এইজন্য খরিপ-২-এ অসময়ে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের চারা উৎপাদন করে চাষিদের বাণিজ্যিকভাবে লাভবান করার লক্ষ্যে গ্রীষ্মকালীন এ পিয়াজের চারা বিনামূল্যে ডিএইর মাধ্যমে চাষি পর্যায়ে বিতরণ করা হচ্ছে। বৃষ্টি-বাদলের এই সময়ে পেঁয়াজের চারা উৎপাদন খুবই দুরূহ কাজ তবুও আমরা এই অসাধ্য কাজ সরকারের আর্থিক সহায়তায় সফলভাবে করে যাচ্ছি।

দিনাজপুর সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা নুরহাসান জানান, গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের চারা উৎপাদন প্রক্রিয়া ও কলাকৌশল খুবই জটিল। অসময়ে পিয়াজের চারা উৎপাদন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রশংসনীয় ভূমিকার রেখে চলেছেন। আমরা কৃষি সমপ্রসারণ বিভাগ মাঠ পর্যায়ে আদর্শ চাষীদের মাঝে পেঁয়াজের চারাগুলো বিতরণ করে ইতোমধ্যে ভালো ফলাফল পাচ্ছি। চারাগুলো মাঠে শোভাবর্ধন করছে। অনেক কৃষক-কৃষানি এই চারাগুলো দেখে আগামীতে পেঁয়াজ উৎপাদনের আশাবাদ ব্যক্ত করছেন।

৩ নং ফাজিলপুর ইউনিয়নের আদর্শ কৃষক আবুল হোসেন বাঘা জানান, সদর ডিএইএর মাধ্যমে অসময়ে এই গ্রীষ্মকালীন দুর্লভ পেঁয়াজের চারা পেয়ে দারুণ খুশি হয়েছি। তিনি পেঁয়াজের বাম্পার ফলনের আশা করছেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads