বরিশালের গৌরনদীতে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে ডেঙ্গু রোগী। গত ৮ দিনে ৩০ ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে আলেয়া বেগম নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। গত দুই দিনে স্থানীয়ভাবে ৪ জন রোগী আক্রান্ত হওয়ায় জনমনে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর চিকিৎসার জন্য আলাদা ইউনিট চালুর দাবি জানিয়েছেন।
গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. মাহাবুব আলম মিজা জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত ৩০ জুলাই পার্শ্ববর্তী মুলাদী উপজেলার কাচিচর গ্রামের বাসিন্দা সহকারী শিক্ষিকা তানিয়া আক্তার প্রথম ডেঙ্গু রোগী হিসেবে শনাক্ত হয়। ওই রাতেই পৌরসভার আশোকাঠী মহল্লার আলেয়া বেগম নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়। তার পর থেকেই ডেঙ্গু রাগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়তে থাকে।
গত এক সপ্তাহে সরকারি হিসেবে ২৬ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হলেও বেসরকারি ভাবে এর সংখ্যা রয়েছে ৩০ জনের অধিক। এর মধ্যে ঢাকা থেকে আক্রান্ত হয়ে এসেছেন অনেকে। সোম ও মঙ্গলবার স্থানীয়ভাবে চারজন ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
আক্রান্ত রোগীর স্বজনরা জানান, ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত রোগীরা গত কয়েক বছরেও ঢাকা কিংবা অন্য শহরের যায়নি। তারা স্থানীয়ভাবে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছে। স্থানীয় ভাবে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হওয়ায় জনমনে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
কয়েকদিনের জ্বর নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা কান্তপাশা গ্রামের হুমায়ন কবির (৩২) বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় আক্রান্ত রোগীদের বরিশাল শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। ফলে রোগী ও স্বজনদের চিকিৎসা নিতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। দ্রুত ডেঙ্গুর চিকিৎসার জন্য আলাদা ইউনিট চালুর দাবি জানান তিনি।
গৌরনদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. জয়নাল আবেদিন বলেন, জায়গা ও জনবল সংকটে ডেঙ্গুর চিকিৎসার জন্য আলাদা ইউনিট চালু সম্ভব হচ্ছে না। আমাদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যে সব ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয় তাদের চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল কেলেজ হাসপাতালে প্রেরন করি।





