রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে এক বুদ্ধি প্রতিবন্ধী কিশোরী গণধর্ষণ মামলায় ৩ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ। মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটার দিকে গোয়ালন্দ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন- গোয়ালন্দ পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড আড়ৎপট্টি এলাকার সজল বেপারী ওরফে শরিফ বেপারী (২৮), একই ওয়ার্ডের ঘোষপট্টি এলাকার মিঠু (৩৮), উপজেলার উজানচর ইউপির নতুন পাড়া গ্রামের আলামিন শেখ (২৮)।
মামলার এজাহারের মাধ্যমে ভুক্তভোগীর বাবা জানান, গত ২০ তারিখ শনিবার কাজ শেষে বাড়ীতে এসে রাতের খাবার খেয়ে পরিবারের লোকজনেরা ঘুমিয়ে পড়ে। দিবাগত রাত একটার দিকে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘুম থেকে উঠে দেখে তার বুদ্ধি প্রতিবন্ধি মেয়ে ঘরে নাই। তখন তিনি ও তার ভাই মেয়েকে খোঁজা খুঁজি করাকালে উত্তর উজানচর নতুন পাড়াসর রেল লাইন ব্রীজের কাছে যায়। ব্রীজের দক্ষিণে রেল লাইনের পশ্চিম পাশে নিচু সমতল জায়গার দুই পাশে রাখা পাটকাঠির মাঝখান থেকে কয়েকজন লোককে দৌড়ে যেতে দেখে। তখন তিনি ও তার ভাই ওই স্থানে গিয়ে মেয়েকে উলঙ্গ অবস্থায় দেখতে পায়। এসময় শরিফ বেপারী ও মিঠুকে ঘটনাস্থলে ধরে ফেলে। লোক লজ্জার ভয়ে তাদেরকে ছেড়ে দিয়ে মেয়েকে নিয়ে বাড়ীতে চলে আসেন। পরের দিন রোববার তরুনীকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ঘটনা শুনে ভুক্তভোগী তরুণীকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। পরে আত্মীয় স্বজনের পরামর্শে গতকাল মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে ঘটনার বিষয়ে জানায়। ইউএনও তৎক্ষনাৎ বিষয়টি গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসিকে অবগত করেন। ওসি ইউএনও'র কার্যালয়ে গিয়ে ঘটনা শোনার পর তরুণীর বাবাকে মামলা দায়েরের পরামর্শ দেন।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার ভুক্তভোগীর বাবা থানায় গিয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরো ২জনসহ মোট ৬ জনের বিরুদ্ধে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্বপন কুমার মজুমদার বাংলাদেশের খবরকে বলেন, এ ঘটনার বিষয়ে জানতে পেরে মেডিকেল টেস্টের জন্য ভিকটিমকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। ভিকটিমের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা করা হয়। পরে পুলিশি অভিযান চালিয়ে ৩ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে। তাদেরকে বুধবার দুপুরে রাজবাড়ীর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।





