তিন দিন বন্ধ থাকার পর বুধবার থেকে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে ব্যক্তি মালিকাধীন কৃষি জমির মধ্য দিয়ে ফের সরকারি খাল খননের কাজ শুরু হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী কৃষকদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিয়ে কাজ শুরু করার কথা থাকলেও কৃষকদের অভিযোগ ক্ষতিপূরণ দেওয়া নিয়ে তালবাহানা করছেন ঠিকাদার।
বিষয়টি নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে আসলে তিনি কৃষকদের অভিযোগ শুনে জেলা প্রশাসক, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্টদের পরামর্শক্রমে ঠিকাদারকে জমির ফসল বাবদ ক্ষতিপূরণ দিয়ে ফের খাল কাটার অনুমতি দেন। ইতোমধ্যে যাদের জমি কাটা হয়েছে তাদের কোনো ক্ষতিপূরণ না দিয়ে অন্য কয়েকজনকে ৫/৭ হাজার টাকা করে দিয়ে বুধবার ফের মাটি কাটা শুরু করে। এ অবস্থায় বিক্ষুদ্ধ কৃষকরা তাদের জমি থেকে মাটি খননের যন্ত্রগুলো সরিয়ে নিতে ঠিকাদারকে বাধ্য করেন।
এদিকে মঙ্গলবার দেবগ্রাম ইউনিয়নের উত্তর কাওয়ালজানি এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আ. জলিল গাজী ও সাইদ সরদার বাদী হয়ে রাজবাড়ীর আদালতে খাল খনন কাজের ঠিকাদার মো. আবুল হোসেন সুজনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে তাদের জমিতে মাটি কাটার অভিযোগে পৃথক দুইটি মামলা করেন। এর আগে, একই অভিযোগে কাটাখালীর পিয়ার আলী মোড় এলাকার বাসিন্দা মো. মোখলেছুর রহমান বাদী মামলা করেন।
ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, খালের দেবগ্রাম ইউনিয়ন অংশের প্রায় ১ হাজার ৮০০ মিটার এলাকা খননের জন্য ছোটভাকলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন ঠিকাদার সুজনের কাছ থেকে সাবকন্ট্রাক্ট নিয়েছেন।
দেবগ্রাম ইউনিয়নের উত্তর কাওয়ালজানি গ্রামের কৃষক আব্দুল জলিল গাজী জানান, ঠিকাদার আমাদের জমিতে জোর করে খাল কেটেছে। তাই আমরা তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছি। ছোটভাকলা ইউনিয়ন অংশের কয়েকজনকে ৫ হাজার টাকা করে দিলেও দেবগ্রাম ইউনিয়ন এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কাউকে কোনো টাকা দেয়নি তারা।
এ বিষয়ে ছোটভাকলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন ঠিকাদারের পক্ষে বলেন, আমরা মঙ্গলবার ১৪ জনকে ৫/৭ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিয়ে বুধবার থেকে আবারো খনন কাজ শুরু করেছি। তবে এখনো কয়েকজন বাকী আছে। মামলার ব্যাপারে তিনি বলেন, এ সব করে সরকারি কাজ আটকানো যায় নাকি?
উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুবায়েত হায়াত শিপলু জানান, এলাকায় শান্তি রক্ষা ও কৃষকদের দাবীর প্রেক্ষিতে শনিবার থেকে সেখানে খনন কাজ বন্ধ করে দেই। ক্ষতিপূরণ প্রদান সাপেক্ষে ঠিকাদারকে কাজ করার অনুমতি দিয়েছিলাম। ক্ষতিপূরণ কেউ পেয়ে না থাকলে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেব। এ ছাড়া সরকারিভাবে যাতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ক্ষতিপূরণ পায় সে জন্য ব্যবস্থা নিতে রাজবাড়ীর পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অনুরোধ জানিয়েছি।
প্রসঙ্গত, ৬৪টি জেলার অভ্যন্তরের ছোট নদী, খাল এবং জলাশয় পূণঃখনন প্রকল্পের (১ম পর্যায়) ২০১৮-২০১৯ আওতায় গোয়ালন্দ উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নের অন্তর্গত কাটাখালী খাল হতে ১৬.৮৭০ কিমি খালের খনন প্রকল্প পাশ হয়। রাজবাড়ীর পানি উন্নয়ন বোর্ডেও তত্ত্বাবধানে ৬ কোটি ৫২ লাখ ৭৪ হাজার ৫৬৯ টাকার এ প্রকল্পের ঠিকাদার ঢাকার টিটিএসএল-এস আর জেভি। কিন্তু কাজটি বাস্তবায়ন করছে রাজবাড়ীর একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।





