ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের নির্বাচারে হামলার মধ্যেই সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে একটি ইসরায়েলি বিমান অবতরণ করেছে। এই বিমানটি এতদিন ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের কর্মকর্তারা ব্যবহার করে আসছিলেন। রিয়াদ ও তেল আবিবের মাঝে সম্পর্ক স্বাভাবিককরণের প্রচেষে্টার অংশ হিসেবে এই বিমান অবতরণের বিষয়টিকে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইরানের বার্তা সংস্থা ইরনা।
সংবাদমাধ্যম আল মায়াদিন জানিয়েছে, গত শনিবার এই বেসরকারি ইসরায়েলি বিমানটি রিয়াদে অবতরণ করেছে। এই বিমানটি সাম্প্রতিক সময়ে মোসাদের সিনিয়র কর্মকর্তাদের পরিবহনে ব্যবহার করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে এই দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিককরণের আলোচনায় মধ্যস্থতা করে আসছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের সৌদি সফরের আগের দিন এই বিমান অবতরণ করায় রিয়াদ-তেল আবিবের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার আলোচনা আবারও সামনে এসেছে। এর আগে ২০২০ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, সুদান ও মরক্কো মার্কিন মধ্যস্থায় ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয়। যদিও এই চার আরব দেশের এমন আচরণ ভালো চোখে দেখেনি ফিলিস্তিনি জনগণ। তারা এই চার আরব দেশের এ আচরণকে তাদের ‘পিঠে ছুরি মারার’ শামিল বলে নিন্দা জানায়।
সূত্রের বরাতে ইরনা জানিয়েছে, সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিককরণের বিষয়ে আলোচনার জন্য ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বিমানটিতে থাকতে পারেন।
চলতি মাসের শুরুর দিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, খুব শিগগিরই ইসরায়েল ও সৌদি আরবের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ইসরায়েলের তরফ থেকে সম্ভাব্য একটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি আদায়ের বিনিময়ে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে তেল আবিবকে স্বীকৃতি দেয়ার চেষ্টা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
গত ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে প্রবেশ করে নজিরবিহীন হামলা চালিয়ে ১২০০ ইসরায়েলিকে হত্যা এবং প্রায় ২৫০ জন ইসরায়েলি ও বিদেশি নাগরিককে বন্দি করে গাজায় নিয়ে আসে হামাস। একই দিন হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে গাজায় নির্বিচারে বোমা হামলা করে আসছে ইসরায়েল। ইতিমধ্যে ছোট্ট এই উপত্যকায় ইসরায়েলের হামলায় ৩৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। নিহতদের অধিকাংশ নারী ও শিশু।





