গলাচিপা উপজেলার ২১ নং উত্তর গোলখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আঃ হালিমের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ভবনের অনুদান এনে অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষককে অন্যত্র বদলি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সদস্য আবেদ আলী প্যাদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগরে বিবরণে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক আঃ হালিম ২০১৯ সালের স্লিপ বাবাদ ৪০ হাজার টাকা পরিত্যক্ত ভবনের অনুদান বাবদ ২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা, ২০২০ সালে স্লিপ বাবাদ ৫০ হাজার টাকা ২০২১ সালে পরিত্যক্ত ভবন মেরামত বাবাদ ৩ লাখ টাকা, ২০২১ সালে স্লিপ এবং করোনাকালীন বরাদ্দ বাবদ ৫০ হাজার টাকা, স্কুলের মাঠ ভরাটের জন্য ৫০ হাজার টাকা ও ছাত্র-ছাত্রীদের উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎ করেন। এসব টাকা বরাদ্দ প্রাপ্তি এবং ব্যয়ের ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এবং ম্যানেজিং কমিটির সংশ্লিষ্টতার বিধান থাকলেও প্রধান শিক্ষক গোপনে এসব টাকা উত্তোলন করে কোনো কাজ ছাড়াই সমূদয় টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়।
শুধু তাই নয়, দীর্ঘ ৯ বছর ধরে একই বিদ্যালয়ে চাকরি করে এলেও প্রধান শিক্ষক আঃ হালিম নিয়মিত বিদ্যালয়ে যান না। আবার বিদ্যালয়ে গেলেও কেবল হাজিরা দিয়েই চলে যান। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ ঘটনায় কয়েক দফা সালিশ করেও কোনো কাজ হয়নি। এছাড়া জাতীয় দিবসগুলোতে ওই বিদ্যালয়ে পতাকা উত্তোলন করা হয় না। এমনকি শিক্ষার্থীদের জাতীয় সংগীতও শেখানো হয় না।
অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রধান শিক্ষক আঃ হালিম জানান, সাম্প্রতিক সময়ে ওই বিদ্যালয়ের উন্নয়ন খাতে যে টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বরাদ্দের টাকা বিদ্যালয় সংস্কারের কাজে ব্যয় করা হয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মীর রেজাউল ইসলাম জানান, ম্যানেজিং কমিটির স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশিষ কুমার জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।





