সারা দেশ

কুলিয়ারচরে সংঘর্ষে পুলিশের গুলিতে ২ নেতা নিহতের দাবী বিএনপির

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত ৩১ অক্টোবর, ২০২৩

মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে হরতাল ও অবরোধের প্রথম দিন বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষে পুলিশের গুলিতে বিল্লাল হোসেন (৪০) ও রেফায়েত উল্লাহ তনয় (২৩) নামে ২ বিএনপি নেতা নিহত হয়েছে বলে দাবী করেন বিএনপি। অস্বীকার করে বিএনপি নেতা-কর্মীদের হামলায় কুলিয়ারচর থানার ওসি মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফাসহ কমপক্ষে ১৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে দাবী পুলিশের। মঙ্গলবার (৩১অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার ছয়সূতী বাসস্ট্যান্ডে এ ঘটনা ঘটে।

গুলিতে নিহত বিল্লাল হোসেন স্থানীয় ছয়সূতী ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি ও মাধবদী গ্রামের কাজল মিয়ার ছেলে। তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যায় বলে জানান তার পরিবারের সদস্যরা। অপরদিকে ইউনিয়ন যুবদল নেতা রেফায়েত উল্লাহ তনয় বড় ছয়সূতী চক বাজার এলাকার কাউসারের ছেলে। সে ঘটনাস্থলেই গুলিতে আহত হয়ে মারা যায়।

নিহত রেফায়েত উল্লাহ তনয়ের চাচা মো. আবুল কালাম (৫৬) ও ভগ্নিপতি ফয়সাল মিয়া (৩০) বলেন, রেফায়েত উল্লাহ তনয় ছয়সূতী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি। পুলিশ-বিএনপি'র সংঘর্ষের সময় গুলিতে আহত হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে মারা যায় সে।

ঘটনার পর একদল দূর্বৃত্ত ছয়সূতী কাঁঠালতলী এলাকায় ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কে একটি ঔষধের পিকাপ ভ্যান ভাংচুর করে রাস্তায় আগুন ধরিয়ে দেন।

কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা বলেন, এ ঘটনায় তিনিসহ থানার কর্তব্যরত এসআই দেব দুলাল, এসআই তারেক পারভেজ, এসআই নূরে আলম, এএসআই মান্নান, এএসআই সাকিনুর, এএসআই জুয়েল রানা, কনস্টেবল একরামুল কবির, ইসমাইল হোসেন, সঞ্জয় আহম্মদ, অনিক সরকার, একরামুল হক, জুলহাস মিয়া, সাকিল আহম্মেদ ও মালেক সরকার সহ ১৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়।

এব্যাপারে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ পিপিএম (বার) ঘটনাস্থল পরিদর্শন কালে সাংবাদিকদের বলেন, আপনারা জানেন, মানুষের জানমাল রক্ষার্থে পুলিশ দ্বায়িত্ব পালন করে। দূর্বৃত্তরা এই পুলিশকে টার্গেট করে এ রাস্তা বন্ধ করেছিলো। টায়ার জালিয়েছে, ককটেল বিস্ফোরন করেছে, পুলিশকে টার্গেট করে ইটপাটকেল ছুঁড়েছে। পুলিশকে আহত এবং নিহত করার জন্য এহেন কোন কাজ নেই যে তারা করেনাই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের আইনানুক অধিকার আছে। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাজ করেছে। শুনেছি পুলিশসহ বেশ কিছু লোক আহত হয়েছে। নিহত ও আহতের বিষয় নিয়ে এখন পর্যন্ত অবগত নই। হাসপাতাল গুলোতে খুঁজ নেওয়ার পর কনফার্ম হয়ে সঠিক তথ্য দেওয়া যাবে। দূর্বৃত্তরা যারা এই কাজ করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বর্তমানে বাজিতপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সত্যজিত কুমার ঘোষ পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে মোতায়েন আছে।

 

এর আগে সকাল ৭টার দিকে বিএনপি-জামাতের হরতাল ও অবরোধ প্রতিরোধে উপজেলার বাজরা বাসস্ট্যান্ডে অবস্থান কালে দূর্বৃত্তরা রামদী ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হবি মিয়ার উপর হামলা করে মারধোর করার অভিযোগ পাওয়া যায়। স্থানীয়রা আহত হবি মিয়াকে উদ্ধার করে কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে ভর্তি করেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হবি মিয়া বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা তাকে একা পেয়ে নির্মম ভাবে মেরে তিন চারটি দাঁত ভেঙ্গে ফেলেছে। তিনি এ ঘটনার বিচার দাবী করেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads