কুলাউড়ায় জমি নিয়ে দু’পক্ষের পাল্টাপাল্টি দখল ও মামলা

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

সারা দেশ

কুলাউড়ায় জমি নিয়ে দু’পক্ষের পাল্টাপাল্টি দখল ও মামলা

  • কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২৪ নভেম্বর, ২০১৯

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার হাজিপুর ইউনিয়নের কটারকোনা বাজারে দোকান ভিটার জায়গা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ নিয়ে চলছে দখল পাল্টা দখল এবং পাল্টাপাল্টি মামলা। এ অবস্থায় যেকোনো সময় বড়ধরণের সংঘর্ষের আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা।

সরেজমিন কটারকোনা বাজারে গেলে জানা যায়, কটাররকোনা বাজারের ৬শতক জমি নিয়ে কটারকোনা বাসিন্দা হাজী সেলিম আহমদ ও পাশের হাসিমপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত হাজী শেখ জামসেদ আলীর ছেলে শেখ জাহেদ আলীর মধ্যে প্রায় ১০ বছর থেকে বিরোধ চলে আসছে। মামলা সংক্রান্ত জটিলতা ও মালিকানা নিয়ে বিরোধ ও উত্তেজনা চলছে উভয়পক্ষের মধ্যে।

মৌলভীবাজার সহকারী জজ আদালত (বড়লেখা) উভয় পক্ষের দলিল যাচাই করে চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল জমির মালিক শেখ জাহেদ আলীর দলিল সঠিক বলে রায় দেন। আদালতের এই রায়ের প্রেক্ষিতে কুলাউড়া থানা পুলিশের উপস্থিতিতে ২০ অক্টোবর নিজ জমি ফিরে পান শেখ জাহেদ আলী।

ঘটনার ১৩দিন পর ০৩ নভেম্বর হাজি সেলিম আহমদের শতাধিক ভাড়াটে লোকজন দিনের বেলায় শেখ জায়েদ আলীর দখলে থাকা দোকান ভিটা ফের জবরদখল করেন। এসময় হামলাকারীরা দোকানঘর ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় বলে শেখ জায়েদ আলী অভিযোগ করেন।

পাল্টা দখলের ঘটনায় ০৬ নভেম্বর শেখ জায়েদ আলী বাদি হয়ে মৌলভীবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের দায়িত্ব দেন। এই মামলা দায়েরের পর আসামিরা শেখ জাহেদ আলীর প্রাণনাশের হুমকি দিলে তিনি আদালতে ১০৭ ধারায় ২০ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। আদালত আসামীদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন।

এদিকে প্রতিপক্ষ সেলিম আহমদের স্ত্রী মনজুরা আক্তার রেহেনা বাদি হয়ে ঘটনাস্থলে ১৪৪ ধারি জারি করার জন্য ৭ জনকে আসামী করে আদালতে একটি পাল্টা মামলা দায়ের করেন।

মামলার রায় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের হাসিমপুর গ্রামের বাসিন্দ শেখ জাহেদ আলী (৪৪) হাজিপুর ইউনিয়নের কটারকোনা মৌজার জে.এল নং-১২৫, এস.এ খতিয়ান-২৮০, দাগ নং-৮১৩ এর ৩.৭৫ শতক ভূমি পাশ্ববর্তী টিলাগাঁও ইউনিয়নের বাসিন্দা (তার নানি) দুধবান বিবির কাছ থেকে খরিদা সূত্রে (রেজিস্ট্রি দলিল নং-২১৮৬/২০১০) ক্রয় করেন। উলে্লখিত ভূমিটির দলিল জাল ও নিজের মালিকানা দাবি করে প্রতিপক্ষ কটারকোনার বাসিন্দা প্রভাবশালী সেলিম আহমদ মৌলভীবাজার সহকারী জজ আদালত (বড়লেখা) এ ২০১০ সালের ১৮ মার্চ মাসে মামলা (নং ৬৭/২০১০ এবং পরবর্তীতে স্বত্ব-১০৪/১৭) একই আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত উভয় পক্ষের দলিলাদি যাচাই করে বাদি সেলিম আহমদের দায়েরকৃত দলিল বাতিল এবং বিবাদী জাহেদ আলীর দলিল সঠিক ও জমির প্রকৃত মালিক বলে চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল রায় প্রদান করেন মৌলভীবাজার সহকারী জজ আদালতের বিচারক মো. রিয়াজুল ইসলাম। দীর্ঘদিন থেকে এই জমিটি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিলো।

এ ব্যাপারে জমির মালিক শেখ জাহেদ আলী জানান, আদালত আমার জমির দলিল সঠিক বলে রায় দেয়ায় জমির মালিকানা স্বত্ত্ব পেয়েছি। কিন্তু এখন প্রতিপক্ষ আমার জমিটি জবর দখল করে বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধামকি ও মিথ্যা মামলা করে হয়রানির পায়তারায় লিপ্ত রয়েছে।

অভিযুক্ত হাজি সেলিম আহমদ জানান, বিরোধকৃত জমিটি আমার বোন মনা উল্লাহর কাছ থেকে কিনেছেন। এরপর বোনের কাছ থেকে আমি জমিটি কিনেছি। এখন শেখ জাহেদ আলী নানীর ফরায়েজী সুত্রে জমির মালিকানা দাবি করছে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজ্রাতুন নাঈম জানান, আমি দলিলের প্রকৃত মালিককে আদালতে একটি ফৌজদারি মামলা করার পরামর্শ দিয়েছি। এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা যাতে বজায় রাখার জন্য আইনশৃঙলা বাহিনী বলা হয়েছে। ভুক্তভোগি যাতে সহজে জায়গা ফিরে পায় সে ব্যাপারে আমাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে।

এ ব্যাপারে কুলাউড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাদেক কাওছার দস্তগীর জানান, পরিস্থিতি শান্ত রাখতে উভয়পক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আদালত থেকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা আসলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads