কুমিল্লায় যুবদল নেতাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা

নিহত যুবদল নেতা জয়নাল হাজারী

ছবি : বাংলাদেশেল খবর

অপরাধ

কুমিল্লায় যুবদল নেতাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা

  • কুমিল্লা প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২৯ জুলাই, ২০১৯

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে জয়নাল হাজারী (৩৫) নামে এক যুবদল নেতাকে প্রকাশ্যে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করেছে দুবৃর্ত্তরা।

গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় নিজ বাড়ির সামনে একটি চায়ের দোকানে জয়নালের উপর ওই সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার ঘটে। পরে আশংকাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সোমবার সন্ধ্যায় তার মরদেহ কুমিল্লার গ্রামের বাড়িতে দাফন করার কথা রয়েছে।

জয়নাল উপজেলার সরসপুর ইউনিয়ন যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এবং ওই ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি ছিলেন। তিনি সরসপুর ইউনিয়নের ভাউপুর পূর্বপাড়া এলাকার মৃত আনসার আলীর ছেলে। 

সরসপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল কাসেম জানান, জয়নাল হাজারী একজন পরিশ্রমী রাজনৈতিক কর্মী। তাকে হয়রানির উদ্দেশ্যে এই পর্যন্ত অন্তত ১০টি মিথ্যা মামলার আসামি করা হয়েছে। সর্বশেষ গত নির্বাচনের আগের দিন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাকে অস্ত্র মামলায় ফাঁসিয়ে পুলিশের মাধ্যমে জেলে পাঠায়। ওই মামলায় দীর্ঘ ৭ মাস জেলহাজতে থাকার পর গত ১৫দিন আগে জামিন পায়। গত পরশু শনিবার ঢাকা থেকে বাড়িতে যায় সে। গত রবিবার সন্ধ্যায় নিজ বাড়ির পাশে একটি চায়ের দোকানে যায় জয়নাল হাজারী। এ সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ১০/১৫ জন নেতাকর্মীরা তার উপর অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। পরে জীবন বাঁচানোর জন্য সে পাশের বাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি নুরুল আমিনের ঘরে আশ্রয় নেয়। পরে সেখানে গিয়ে সন্ত্রাসীরা তাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। সন্ত্রাসীরা পিটিয়ে জয়নালের একটি পা ভেঙে ফেলে এবং মাথাসহ পুরো শরীরে অন্তত ৫০টি কোপ দেয়। তাকে আশংকাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে সোনাইমুড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়, সেখানে অবস্থা বেগতিক দেখে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় চিকিৎসকরা। পরে কুমিল্লা মেডিকেলে আনা হলে সেখানকার চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে ঢাকা মেডিক্যালে পাঠালে ওইদিন রাতেই তার মৃত্যু হয়।

তবে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি নুরুল আমিন বলেন, তার বাড়িতে ওই যুবদল নেতাকে হত্যা করার কথা মিথ্যা। লোকমুখে শুনেছেন তার বাড়ির সামনের চায়ের দোকানে বসে থাকা অবস্থায় সিএনজি অটো রিকশা যোগে আসা কয়েকজন মুখোশধারী দুর্বৃত্ত তার উপর হামলা চালিয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এ ঘটনায় জড়িত নয়।

মনোহরগঞ্জ থানার ওসি মো.মেজবাহ উদ্দিন জানান, আমাদের থানায় ওই যুবদল নেতার বিরুদ্ধে মোট ৭টি মামলা রয়েছে। তবে কারা তাকে হত্যা করেছে সেটা এখনো জানা যায়নি। এছাড়া এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের কেউ এখনো থানায় মামলা দায়ের করেনি। মামলা হলে তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads