মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটে সরকারি বিধি-নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ঈদে ঘরমুখী যাত্রীর চাপ সামাল দিতে ঘাট এলাকাসহ মহাসড়কের কয়েকটি পয়েন্টে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। আজ রবিবার সকাল থেকে পাটুরিয়া ঘাটে যাত্রীদের চাপ কম থাকলেও দুপুরের দিকে রাজধানী ফেরত যাত্রী ও ছোট গাড়ির চাপ বাড়তে থাকে। চাপ ঠেকাতে মহাসড়কের ওপর বিজিবি চেক পোস্ট বসানো হয়। এসময় শিবালয় ইউএনও বিএম রুহুল আমীন রিমন একটি প্রাইভেট কার উল্টো দিকে ঘুরিয়ে দেন। এতে নাজনীন আক্তার নামের এক নারী গাড়ি থেকে নেমে ক্ষিপ্ত হয়ে ইউএনওর দিকে তেড়ে আসেন এবং উচ্চ-বাচ্য বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এমন ঘটনায় উপস্থিত সবাই হতবাক হয়ে যায়।
রবিবার সকাল থেকেই যাত্রীদের চাপ ঠেকাতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাটুরিয়া ঘাটের প্রবেশদ্বার শিবালয় উপজেলার টেপড়া এলাকায় বিজিবি চেক পোস্ট বসানো হয়। চেক পোস্টের নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিএম রুহুল আমীন রিমন। তিনি নিষেধ অমান্য করে আসা গাড়িগুলো ঢাকার দিকে ঘুরিয়ে দেওয়াসহ জরিমানা করেন। এসময় কুষ্টিয়াগামী এক দম্পতির প্রাইভেটকার ঢাকার দিকে ঘুরিয়ে দেওয়ায় ইউএনওর সাথে ক্ষুদ্ধ হয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এক নারী।
নাজনীন নামের ওই নারী জানান, আমি ও আমার স্বামী কুষ্টিয়া যাচ্ছিলাম। পথে এসে জানতে পারি পাটুরিয়া ঘাটে ফেরি বন্ধ রয়েছে। এ কারণে আরিচায় এক আত্মীয় বাড়ি যাচ্ছিলাম। পরে টেপড়ায় চেক পোস্টে ইউএনও আমাদের গাড়ি ঘুরিয়ে দেওয়ায় আমরা ফিরেও যাচ্ছিলাম। এসময় ইউএনওর সাথে থাকা একজন লাঠি নিয়ে এসে আমার গাড়ির ডান পাশের লুকিং গ্লাস ভেঙে দেন। আমার ভুল হলে আমাকে জরিমান করবে। কিন্তু আমার গাড়ি ভাঙলো কেন। এটা কোন আইন হলো।
ওই নারীর স্বামী সুপ্রিম কোটের আইনজীবী মামুনর রশিদ বলেন, ইউএনওর সাথে থাকা কয়েকজন অতিউৎসাহী হয়ে আমার গাড়ির লুকিঙ গ্লাস ভেঙেছে। এটা কোনো আইন হলো বলেন।
এ বিষয়ে শিবালয় ইউএনও বিএম রুহুল আমীন রিমন বলেন, সরকারের বিধি আরোপ বাস্তবায়ন করার জন্য সকাল থেকেই মহাসড়ক ও ঘাট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করছি। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে পাটুরিয়া ফেরি ঘাটে যাত্রীদের চাপ ঠেকাতে মহাসড়কে চেক পোস্টে গাড়ি গুলো ঘুরিয়ে দিয়েছিলাম। সবার মত ওই নারীর প্রাইভেটকারটি ঘুরিয়ে দিয়েছিলাম। গাড়ি ভাঙার বিষয়টি জানা নাই বলে তিনি উল্লেখ করেন।





