পরিবারের অভাব দূর করতে নয় মাস আগে ধার দেনা করে কাতারে পাড়ি জমিয়েছিলেন রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার জিয়া খান (৩৬)। সে গোয়ালন্দ পৌরসভার কুমড়াকান্দির আব্দুর রাজ্জাক খানের ছেলে। গত ৫ মে চলতি বছরের প্রথম তারাবির নামাজ আদায়কালে ষ্ট্রোক করে হাসপাতালে ভর্তি হন। প্রায় পনের দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত শুক্রবার বাংলাদেশ সময় বেলা তিনটার দিকে তিনি মারা যান। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সরেজমিন দেখা যায়, উঠানে তিন শিশু কন্যা সন্তানদের নিয়ে কান্না করছেন জিয়া খানের স্ত্রী বিউটি আক্তার। প্রতিবেশির অনেকেই তাকে শান্তনা দেয়ার চেষ্টা করছেন। শান্তনার ভাষা কারো জানা নেই। জিয়ার মা অনেক আগে মারা গেছে। বাবা আব্দুর রাজ্জাক দিন মুজুর। সকালেই কাজে গেছেন।
জিয়ার স্ত্রী বিউটি আক্তার বলেন, সংসারে তিন মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ে রিয়া আক্তার মাদ্রাসায় ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে এবং দ্বিতীয় মেয়ে আফরোজা আক্তার পড়ে পঞ্চম শ্রেণীতে। ছোট মেয়ে জান্নাতি স্কুলে যায়নি। পাঁচ সদস্যের সংসারে টানা পোড়নে কষ্টে ধার দেনা করে কাতার গিয়েছিলেন তার স্বামী। কাতার বারোয়া লেবার ক্যাম্পে মিকমিট কোম্পানীতে রাজমিস্ত্রী হিসেবে কাজ করতেন। তবে তাকে যে পরিমাণ বেতন দেওয়ার কথা ছিল তা থেকে অনেক কম দিতো।
অসুস্থ্য হওয়ার আগে মুঠোফোনে ম্যাঞ্জারে ভয়েস রেকর্ডে জিয়া বলেছিল, ‘আমি কেবল ডিউটি শেষ করেছি। কিছু টাকা পাঠিয়েছি তা দিয়ে তিন মেয়ের ঈদের কাপড় কিনে দিও। বেশি দামি না কিনে কম দামের দিও। ভালো কাপড় কিনে দেয়ার সামর্থ্য আমার নেই। সারা মাস চলবো কিভাবে? ওই দিন সকালে ফোনে বলেছিল, “১৫ হাজার টাকা পাঠিয়েছি। সাবধানে টাকা তুইলো। হিসেব করে খরচ কইরো। আমার জন্য দোয়া কইরো। সবাইকে দেখেশুনে রেখ”।
প্রথম তারাবি নামাজ পড়কালিন স্ট্রোক করলে তার এক রুমমেট ফোনে জানায়। এরপর কাতারের আহম্মদ হাসপাতালে লাইফ সাপোটে রাখা হয়। শুক্রবার (১৭ মে) বিকেলে হাসপাতাল থেকে ফোন আসে সে মারা গেছে। এখন আমি এই তিন মেয়ে নিয়ে কিভাবে চলবো? আমি আমার স্বামীর দ্রুত লাশ ফিরে পেতে চাই।
স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান জানায়, জিয়া খুবই ধর্মভীরু ও ভাল একজন যুবক ছিল। দেশে রিক্সা চালিয়ে সংসার চালাতো। সংসারের চালাতে গিয়ে অনেক টাকা দেনা হয়ে পড়ে। সংসারের অভাব দুর করার জন্য শ^শুর বাড়ির সহযোগিতায় এবং ধার দেনা করে সে কাতার যায়। এখন তার সংসার দেখার মতো কেউ নেই।





