সারা দেশ

কাঠাফ ওয়াল ছাড়াই কাজ শেষ, ঝুঁকি নিয়ে উন্মুক্ত চলাচল

  • কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২ এপ্রিল, ২০২২

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে কাঠাফ ওয়াল ছাড়াই তিন মিটার দৈর্ঘ্য- প্রস্থের বক্স সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ করেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। মেরামত করা হয়নি সংযোগ সড়কও। তবুও নিত্য প্রয়োজন মেটাতে ভোগান্তি আর ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে মানুষ ও যানবাহন। সেতুটি উপজেলার বাগুলাট ইউনিয়নের বাঁশগ্রাম হতে পান্টি সড়কের আদাবাড়িয়া খালপাড়া এলাকায়। স্থানীয়দের অভিযোগ মাসখানেক আগে সেতুতে চলাচল উন্মুক্ত করেছে ঠিকাদার। কিন্তু কাঠাফ ওয়াল ছাড়াই সেতু নির্মাণ কাজ শেষ করা হয়েছে। মেরামত করা হয়নি সংযোগ সড়ক। সেতুর রেলিংয়ে এখনও লাগানো কাঠের সাটারিং। তবুও নিত্য প্রয়োজন মেটাতে চলাচল করছে মানুষ ও যানবাহন। যেকোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার সম্ভাবনা রয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করে আরো বলেন, নির্মাণকাজ দেখাশোনা ও বুঝে নেওয়ার লোক নেই। জনপ্রতিনিধি ও প্রকৌশলী কর্তাদের যোগসাজশে যেনতেন কাজ করে ঠিকাদার। তদারকির অভাবেই জনজণের এমন দুর্ভোগ।

আজ শনিবার (২ এপ্রিল) সকালে সেতু এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেতুটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। সেতুর রেলিংয়ে লাগানো রয়েছে কাঠের সাটারিং। সেতুর সংযোগ সড়কে রয়েছে ছোট বড় বেশকিছু গর্ত। ঝুঁকি আর ভোগান্তি নিয়ে চলাচল করছে মানুষ ও যানবাহন।

এলাকাবাসী জানায়,  উপজেলার চাদপুর, বাগুলাট ও পান্টি ইউনিয়নের প্রায় লাখ খানেক মানুষের জেলা ও রাজধানী শহরে চলাচলের একমাত্র সড়ক এটি। এছাড়াও পার্শ্ববর্তি ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার একাংশ এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে। সড়কটি গ্রামীণ হলেও ব্যস্ততা রয়েছে বেশ। কিন্তু এই ব্যস্ততম সড়কে পুনঃনির্মাণ করা সেতুটি এখন ঝুঁকি বাড়িয়েছে। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সেতুর কাজ সম্পন্ন করা ও সংযোগ সড়ক মেরামত করা অতি জরুরি।

উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, এসড়কের ২ হাজার মিটার চেইনেজে (আদাবাড়িয়া ভাটা এলাকা) তিন মিটার দৈর্ঘ্য ও তিন মিটার প্রস্থ বক্স কালভার্টের অনুমোদন দেয় এলজিইডি। ৬০ দিন মেয়াদি একাজের চুক্তিমূল্যও প্রায় ১৮ লক্ষ্য ১২ হাজার ১৯৫ টাকা। ইডেন্ডারের মাধ্যমে একাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কুষ্টিয়া আড়ুয়াপাড়ার মেসার্স আসিফ এন্টারপ্রাইজ।

প্রকৌশলী কার্যালয় সুত্রে আরো জানা গেছে, জলাবদ্ধতার কারণে কাঠাফ ওয়াল ছাড়াই সেতুর আপাতত শেষ করা হয়েছে। পরবর্তীতে কাঠাফ ওয়াল নির্মাণ করা হবে। তবে এতে চলাচলে কোন ঝুঁকি নেই। স্থানীয় যুবক বাপ্পী বলেন, আমার বাড়ির সাথেই সেতুটি। সেতুতে কাঠাফ ওয়াল নির্মাণ হয়নি। রাস্তা মেরামত করা হয়নি। সম্পূর্ণ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে মানুষ। দেখার কেউ নেই এগুলো।

অটোচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, সেতুর রাস্তা ভাঙা। স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা যাচ্ছেনা। বারবার গাড়ি উল্টে যাচ্ছে। রাস্তাটা মেরামত খুব জরুরি। স্থানীয় ইউপি মেম্বর তারেক আজিজ টিক্কা বলেন, সেতু নির্মাণ হলেও ভোগান্তি যায়নি। সেতুতে ওঠার রাস্তা নেই। গাড়িঘোড়া উল্টে যাচ্ছে। যেকোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ঠিকাদার প্রকৌশলী অফিসকে ম্যানেজ করে যেনতেন কাজ করেছে।

বাগুলাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুল হক নবা বলেন, সেতুর গায়ে কাঠের সাটারিং রয়েছে। দুইপাশের সংযোগ সড়কে ছোট বড় গর্ত। জনগণের ভোগান্তির শেষ নেই। বিষয়টি কর্তৃপক্ষে জানানো হবে। এবিষয়ে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও ঠিকাদার সাইদুর রহমান লালু বলেন, পানির কারণে কাঠাফ ওয়াল তৈরি করা হয়নি। তবে সেতুটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। তবে সংযোগ সড়কে গর্তের বিষয়টি জানা নেই। এটা দেখার দাঁয়িত্ব প্রকৌশলী অফিসের। উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুর রহিম বলেন,জনস্বার্থে সেতুটি উন্মুক্ত করা হয়েছে। আর জলাবদ্ধতার কারণে কাঠাফ ওয়াল নির্মাণ করা হয়নি। পরে করা হবে। তবে এতে চলাচলে কোন ঝুঁকি নেই।

তিনি আরো বলেন, সংযোগ সড়কে ঠিকাদারের মাঠি ফেলার কথা। বিষয়টি দেখা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিতান কুমার মন্ডল বলেন, বিষয়টি নোট করা হচ্ছে। খতিয়ে দেখা হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads