নেত্রকোণার কলমাকান্দায় অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন সনদ সংগ্রহ করতে গিয়ে নানা জটিলতার মুখে পড়েছে নাগরিক সমাজ।
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের এক তারিখ থেকে স্কুলে ভর্তি,এস,এস সি পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন, পাসপোর্টের জন্য আবেদনসহ আরো কিছু ক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধন সনদ বাধ্যতা মূলক করা হয়েছে। কিন্তু ভুক্তভোগীরা বলছেন, অনলাইনে আবেদন করার প্রক্রিয়ায় সমন্বয়হীনতা ও অব্যবস্থাপনার কারণে তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বর্তমান জন্মসনদ অনুযায়ী অনলাইনে ঢুকার পর কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা গেছে হাত লেখার জম্ম সনদের সাথে মিল নেই। নামে, জম্ম তারিখে এমনকি মুসলিম নামে সনাতন নাম দেখা গেছে! এতে কঠোর বিড়ম্বনার মধ্যে পড়েছেন ভুক্তভোগীরা!
এ বিষয়ে সদর ইউনিয়নের ভুক্তভোগী রিমা আক্তার আগামী বছর তার সন্তানকে স্থানীয় একটি স্কুলে ভর্তি করাতে চান। তাই স্কুলের নিয়ম অনুযায়ী সন্তানের জন্ম নিবন্ধন সনদের জন্য স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে অক্টোবর মাসের শুরুর দিকে যান। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন প্রথম সন্তানের বাবা-মার জন্ম নিবন্ধন করতে হবে, তারপর শিশু সন্তানের। এ কথা শুনে নিজের নিবন্ধনের আবেদন করতে গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিবর্গ জানান আপনার বাবা-মা'র নিবন্ধন হয়েছে কি? উত্তরে তিনি বলেন না । তাহলে আগে আপনার বাবা-মা'র জম্ম সনদ নিবন্ধন করেন। তারপর আপনার ও তারপর আপনার সন্তানের।
কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তার নিজের ও মা-বাবা সন্তানের নিবন্ধন সংক্রান্ত এমন জটিলতা তৈরি হওয়ায় টানা তিনমাস ঘুরেও পাননি কারো সনদ।
তিনি আরো বলেন, নিবন্ধন অফিসের কর্মকর্তারা তার আবেদনপত্র গ্রহণও করছে না, সমস্যার সমাধান কি ভাবে করা যাবে তাও বলছে না। এখন পর্যন্ত জানি না সনদ কিভাবে পাবো, সমস্যা সমাধান আদৌ সমাধান হবে কি বুঝতে পারছি না।
সরেজমিনে গিয়ে আরো অনেক ভুক্তভোগীদের এমন ভোগান্তির সত্যতা খুঁজে পাওয়া গেছে। সেই সাথে উপজেলার সদর ইউনিয়নসহ ৮টি ইউনিয়নেই একই অবস্থা জানা গেছে। নাম না প্রকাশ করায় এক ভুক্তভোগী জানান, টাকা দিলেই সনদ মিলে, কত টাকা দিতে হয় এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, এ ধরেন দুইশ তিনশ, পাঁচশও দিচ্ছি বিপদে পড়ে। কোন কোন ক্ষেত্রে দুই হাজার করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ হাতিয়ে নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় নাগরিক সমাজ ও ভুক্তভোগীরা এমন দুর্নীতি ভোগান্তি দূর্ভোগ পরিস্থিতি উত্তরণে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু সুদৃষ্টিসহ দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন।





