এবার টিউলিপ ফোঁটালেন দেলোয়ার হোসেন

নিজের টিউলিপ বাগানে কাজ করছেন দেলোয়ার

ছবি : বাংলাদেশের খবর

সারা দেশ

এবার টিউলিপ ফোঁটালেন দেলোয়ার হোসেন

  • রেজাউল করিম সোহাগ, শ্রীপুর
  • প্রকাশিত ৩১ জানুয়ারি, ২০২০

শীত মৌসুমে হাজার হাজার পর্যটক ভীড় করে হল্যান্ডের বাহারি রঙের টিউলিপ বাগানে। যত বেশি শীত টিউলিপের রুপ তত বেশি নান্দনিক। বাহারি রঙের টিউলিপ ফুলে মুগ্ধ হয় পর্যটকরা। সেই মুগ্ধতাকে ঘিরে বছরে লাখ লাখ টিউলিপ ফুল পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে হল্যান্ড। সেই টিউলিপের মুগ্ধতায় আটকে পড়েন ফুলচাষি দেলোয়ার হোসেন। তিনি স্বপ্ন দেখেন বাংলাদেশের মাটিতে একদিন বহু রঙের নান্দনিক টিউলিপ ফুটবে। শোভা ছড়াবে বাগানে। আমদানি নির্ভরতা কমবে টিউলিপের চাহিদা কমাতে। এ স্বপ্ন অসম্ভব হলেও দেলোয়ার সেই স্বপ্ন ছুতে পেড়েছেন। নিজের বাগানে তিন রঙের টিউলিপ ফোঁটাতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। স্বপ্ন দেখছেন বানিজ্যিক ভাবে টিউলিপ চাষ করার।

গাজীপুরের শ্রীপুরে কেওয়া পুর্বখন্ড গ্রামের আবদুর রাজ্জাকের ছেলে ফুল চাষি দেলোয়ার হোসেন তার মৌমিতা ফ্লাওয়ার্স নামে খামারে এক হাজার টিউলিপ চারা (বাল্ব) রোপন করে এ সাফল্য পেয়েছেন। দেলোয়ার এর আগে জারবেরা, গ্লাডিউলাস,রজনীগন্ধা,বাহারি রঙের চায়না গোলাপ চাষেও ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন।

জানাযায়, রাজকীয় সৌন্দর্যের ফুল টিউলিপ। পৃথিবীর শীতল দেশেগুলোতে এ রাজকীয় সৌর্ন্দযের টিউলিপ বেশি চাষ হয়। তবে সবচেয়ে বেশি এ ফুলের চায় হল্যান্ডে। টিউলিপ হল্যান্ডের ফুল হিসেবে বেশি পরিচিত। এ ফুল চাষে তাপমাত্রা ১১ ডিগ্রির নিচে প্রয়োজন। এর বেশি তাপমাত্র হলে ফলন ভাল হয় না। পৃথিবীতে ১৫০ প্রজাতির টিউলিপ ফল রয়েছে। তবে লাল,বেগুনি,সাদা, হলুদ ,পিঙ্ক রঙের টিউলিপ বেশি নান্দনিকতা ছাড়ায়।

মৌমিতা ফ্লাওয়ার্সের স্বত্তাধাকিারী ফুল চাষি দেলোয়ার হোসেন বলেন এ অন্যরকম অনুভূতি কাজ করছে মনে। স্বপ্নের চাওয়া বাস্তবে রুপ পেয়েছে আমাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে। আমাদের বাগানে এখন তিন রঙের টিউলিপ ফুটেছে। যা অসম্ভব বলে সবাই জানত। তা আমাদের বাগানে তিন রঙের টিউলিপের সমাহার এক সম্বাবনার দ্বার খুলে দিল।

তিনি বলেন আমাদের বাগানে এক হাজার টিউলিপ বাল্ব (বীজ) হল্যান্ড থেকে এনে রোপন করা হয়েছে। জমিতে সেড তৈরি করে সারি সারি করে রোপন করা হয়েছে টিউলিপ। সপ্তাহ আগে একটি লাল রঙের টিউলিপ ফুল ফুটে। কয়েকদিনের ব্যবধানে আরো বেশ কিছু লালসহ বেগুনি টিউলিপ ফুটল। তিনি বলেন আমাদের দেশে এ ফুলে বেশ চাহিদা রয়েছে। হল্যান্ড,চীন,ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমাদনি করে চাহিদা পুরন করা হয়।

তিনি আরো বলেন, আমাদের উত্তরের শীত প্রধান জেলা পঞ্চগড়সহ বেশ কিছু অঞ্চলের তাপমাত্রা বেশ কম থাকে। সে সব এলাকায় এ টিউলিপ চাষ হতে পারে সহজেই । তিনি বলেন ফুলের কোয়ালিটি নিশ্চিত করতে ফুল গাছ দেড়ফুট হয়। তবে আমাদের বাগানে এক ফুটের একটু বেশি উচ্চতায় গাছ বেড়ে উঠেছে।

তিনি আরো বলেন কেউ উদ্যোগী হলে তিনি টিউলিপ ফুলের জাত সরবরাহ থেকে শুরু করে সব ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা করতে চান।

শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এএসএম মুয়ীদুল হাসান বলেন টিউলিপ ফুলের চাষ এদেশে বড় পরিসরে এখনো শুরু হয়নি। ব্যক্তিগতভাবে অনেকেই বাড়ির টবে চাষ করতে শোনা যায়। কিন্তু বাণিজ্যিক ভিত্তিক টিউলিপ ফুল চাষে দেলোয়ার হোসেন যে স্বপ্ন দেখালেন, তা অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। তার হাত ধরে এর আগে জারবেরা, গ্লাডিউলাসসহ বেশ কিছু ফুল চাষ ব্যাপক বিস্তার লাভ করেছে। দেলোয়ার হোসেন সহযোগিতামূলক মনোভাবের মানুষ। তার সহযোগিতায় যে কেউ টিউলিপ ফুল উৎপাদনে আসতে পারেন।

বাংলাাদেশ কৃষি গবেষনা ইনস্টিটিউটের উদ্যানতত্ব বিভাগের মূখ্যবৈজ্ঞানীক কর্মকর্তা ড. কবিতা আঞ্জুমান আরা বলেন টিউলিপ শীত প্রধান দেশের ফুল। আমাদের দেশে কেউ কেউ পরীক্ষামূলক চাষ করে সফল হয়েছে। আমরাও গবেষনা করছি কোয়ালিটি নিশ্চিত করে টিউলিপ ফোটানোর। গত পাঁচ বছর ধরেই এ টিউলিপ নিয়ে কাজ করছি। সম্ভাবনাময় বলা যায় আগামিতে টিউলিপ চাষে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads