মাদক ব্যবসা, দোকান ভাড়া আদায়, ত্রাণের পণ্য বিক্রি থেকে শুরু করে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি সংঘর্ষে গত ৩ দিন ৭ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ২ জন স্থানীয় বলে জানা গেছে। এছাড়া আহত হয়েছে অন্তত শতাধিক রোহিঙ্গা। হঠাৎ করে রোহিঙ্গাদের এমন বেপরোয়া আচরণ এবং মারমুখি মনোভাবের ফলে নিজেদের ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের দাবী এখনই কঠোরভাবে রোহিঙ্গাদের দমন করা না গেলে আগামীতে তারা স্থানীয়দের উপর হামলা করবে। এছাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কিভাবে অস্ত্র এলো তা খতিয়ে দেখে চিহ্নিত রোহিঙ্গাদের সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালানোর দাবী জানান স্থানীয়রা।
এদিকে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতোমধ্যে ক্যাম্পে কর্মরত সকল এনজিওর কর্মীদের ফেরত আসার নির্দেশসহ বিপুল পরিমাণ আইনশৃংখলা বাহিনী নিয়োগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার।
গত ৩ দিনে নিহতদের মধ্যে ২ জন স্থানীয়। তারা হলেন- হ্নীলা ইউনিয়নের নুরুল হুদা এবং অন্যজনের নাম আবুল বশর।
হ্নীলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাশেদ মোহাম্মদ আলী জানান, মঙ্গলবার রাতে উখিয়ার লম্বাসিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আমার এলাকার ২ জন একটি মাইক্রোবাস নিয়ে তাদের নিজস্ব কাজে গিয়েছিল। কিন্তু ক্যাম্পে মুন্না বাহিনী এবং আনাস বাহিনির মধ্যে সংঘর্ষ বাধলে একদল প্রাণে বাঁচতে তাদের গাড়িতে উঠে পড়ে এতে অপর পক্ষ মনে করেছে তারা গাড়িতে করে পালাচ্ছে তাই স্থানীয় ২ যুবককেও মেরে ফেলেছে রোহিঙ্গারা। এ ঘটনায় রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী মুন্না বাহিনির প্রধান মুন্নার ভাই গিয়াস উদ্দিন এবং ফারুকও নিহত হয়েছে।
এর আগে গত রোববার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সংঘর্ষে শামসুল আলম এবং ইউনুস নামের দুই রোহিঙ্গা নিহত হয়। পরে একই ঘটনায় আহত আরেকজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় তার নাম রিদুয়ান।
এদিকে হঠাৎ করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভেতরে সংঘর্ষের বিষয়ে জানতে চাইলে রোহিঙ্গা মাঝি আবদু সালাম বলেন,এখানে নতুন এবং পুরাতন রোহিঙ্গাদের মধ্যে কিছুদিন ধরে ঝামেলা চলছিল তবে তার চেয়ে বেশি হচ্ছে মাদক ব্যবসা,ত্রাণের মালামাল বিক্রি,দোকান পাট থেকে ভাড়া আদায়,এনজিওদের নিয়ন্ত্রন.ঠিকাদারী করা লেবার মাঝি হওয়া সহ অনেক খাত থেকে টাকা আয় করা। এনিয়ে মুন্না এবং আনাস বাহিনীর মধ্যে প্রথমে ঝামেলা শুরু হলে পরে তা ব্যাপক সংঘর্ষে রূপ নেয়। এই রোহিঙ্গা নেতার দাবী আমাদের জাত ভাই হলে কিছু রোহিঙ্গা খুবই খারাপ আছে বাংলাদেশ সরকারে উচিত হবে তাদের ক্যাম্প থেকে বাইরে কোথায় নিয়ে গুম করে ফেলা না হয় সবার জন্য ক্ষতি হবে।
এদিকে রোহিঙ্গাদের বর্তমানে বেপরোয়া আচরণ এবং খুনাখুনি বেড়ে যাওয়া নিয়ে স্থানীয়দের ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে স্থানীয়রা।
উখিয়া ডিগ্রি কলেজের ছাত্রী নাসরিন জানান বলেন,উখিয়ার নাগরিক পরিচয় দিতে এখন লজ্জা লাগে কারন মানুষ মনে করে রোহিঙ্গা কি না। আর বর্তমানে রোহিঙ্গারা যা শুরু করে করেছে জানি না ভবিষ্যতে তারা আরো কি করবে। আমাদের ভয় হচ্ছে হঠাৎ করে লাখ লাখ রোহিঙ্গা স্থানীয়দের সাথে মারামারিতে লিপ্ত হলে বা কোন কিছু দখল করতে চাইলে আমাদের আইনশৃংখলা বাহিনী কি করতে পারবে ? আর আমরাই বা কি করতে পারবো।
উখিয়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক শাহীন জানান,রোহিঙ্গাদের বেপরোয়া আচরণে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন এবং আতঙ্কিত। এছাড়া বর্তমানে ক্যাম্পে সমস্যা তৈরি হওয়ায় অনেক রোহিঙ্গা স্থানীয় লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। আর রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের বিন্দুমাত্র ছাড় না দিয়ে চিরুনী অভিযান পরিচালনা করে তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানান তিনি।
এদিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বর্তমানে বিপুল পরিমান অবৈধ অস্ত্র কিভাবে আসলে এবং কারা এই অস্ত্র সরবরাহ করেছে তা খতিয়ে দেখার দাবী জানিয়েছেন উখিয়া প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি বর্তমান দুদক পিপি এড,আবদুর রহিম তিনি জানান,আমরা আগেই বলেছিলাম কোন রোহিঙ্গাকে এনজিওতে সম্পৃক্ত না করার জন্য,মাঝি প্রথা বাতিল করার জন্য অর্থাৎ রোহিঙ্গারা আশ্রিত হিসাবে থাকতে পারবে কিন্তু তাদের এখন নেতৃত্ব এবং কর্তত্ব দুটিই দেওয়া হয়েছে তাই তাদের মধ্যে লোভ চলে এসেছে সে জন্য ভাগভাটোয়ারার জন্য সংঘর্ষ হচ্ছে। আর রোহিঙ্গারাই এখন ইয়াবা ব্যবসার প্রধান চালিকা শক্তি তাই যত দ্রুত সম্ভব তাদের মায়ানমারে ফেরত পাঠানো অথবা বিকল্প কোন ব্যবস্থা করতে হবে, না হয় স্থানীয়দের জন্য মহা বিপদ অপেক্ষা করছে।
এ বিষয়ে উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী জানান,ক্যাম্পে এত আইনশৃংখলা বাহিনি কি করছে সেটাই আমার প্রশ্ন, কেন তাদের কঠোর ভাবে দমন করা হলো না সেই আমার দুঃখ। আমি চাই দ্রুত সব রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের কঠোর শাস্তি প্রদান করা হউক যাতে অন্যকেউ আর সাহস করতে না পারে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত স্বরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার শামসুদ দোজা বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ইতোমধ্যে ক্যাম্প থেকে সকল এনজিওর কর্মী দের ফেরত আনা হচ্ছে এছাড়া বিপুল পরিমাণ আইনশৃংখলা বাহিনি নিয়োগ করা হয়েছে। তবে যা হয়েছে তা খুবই দুঃখ জনক হতাশাজনক।





