ইন্টারনেট থেকে অপসারণ করা হয়েছে রিয়াজের শ্বশুরের ২০২ ভিডিও

সংগৃহীত ছবি

আইন-আদালত

ইন্টারনেট থেকে অপসারণ করা হয়েছে রিয়াজের শ্বশুরের ২০২ ভিডিও

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

ফেসবুক লাইভে এসে চিত্রনায়ক রিয়াজের শ্বশুর ও মডেল মুশফিকা তিনার বাবা আবু মহসিন খানের আত্মহত্যার সেইসব ভিডিও ইন্টারনেট থেকে অপসারণ করা হয়েছে বলে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

আজ বুধবার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। আজ এই প্রতিবেদনের ওপর পরবর্তী আদেশের দিন ধার্য রয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইন্টারনেটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক থেকে ১৯০টি, ইউটিউব থেকে ৬টি, লাইকি থেকে ৩টি ও টিকটক থেকে ৩টি লিংক অপসারণ করা হয়েছে। বিটিআরসির আইনজীবী ব্যারিস্টার রেজা ই রাকিব গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, গত ৩ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট ওই ব্যক্তির আত্মহত্যার ভিডিও ইন্টারনেট থেকে ৬ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণ করতে নির্দেশ দেন। ভিডিওটি যেকোনো ধরনের ইলেকট্রনিক মাধ্যমে প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। ওইদিন বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিটিআরসিকে এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়। একইসঙ্গে বিটিআরসিকে এ বিষয়ে ৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেছিলেন আদালত।

উল্লেখ্য, গত ২ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টার দিকে ধানমন্ডির ৭ নম্বর রোডের একটি বাড়ির লেভেল-৫ এর একটি ফ্ল্যাটে নিজে বন্দুক মাথায় ঠেকিয়ে গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেন আবু মহসিন খান। ওই ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা ওই ব্যবসায়ী সম্পর্কে বাড়ির অন্যান্য ফ্ল্যাটের বাসিন্দা ও দারোয়ানকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

যেখানে বসে লাইভে কথা বলছিলেন মহসিন খান, তার পাশেই একটি চিরকুট পেয়েছে পুলিশ।

ওই চিরকুটে লেখা ছিলো, ‘ব্যবসায় ধস নেমে যাওয়ায় আমি হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ি। আমার সঙ্গে অনেকের লেনদেন ছিল। কিন্তু তারা টাকা দেয়নি। আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী না।’

এ বিষয়ে ধানমন্ডি থানার ওসি একরাম আলী বলেন, ‘চিরকুটটি কম্পিউটারে টাইপ করা। নিচে মহসিন সাহেবের নামে স্বাক্ষর রয়েছে। ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাটি আমরা তদন্ত করছি। তদন্তে চিরকুট ও ভিডিওতে বলা কথা এবং স্বাক্ষরটি উনার কি না, তা যাচাই করা হবে।’

ভবনের কেয়ারটেকার মো. গোলাম রাব্বী বলেন, মহসিন খান ওই বাসায় একা থাকতেন। তার বাসায় কোনো কাজের বুয়া বা ড্রাইভার ছিল না। একাই রান্নাবান্না করতেন, একাই থাকতেন। আবার অনেকসময় বাইরে থেকে খাবার আনাতেন। তার একটা প্রাইভেটকার আছে। সেটা তিনি নিজেই ড্রাইভ করতেন।

আবু মহসিন খানের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে মৃত্যুর আগে তার ইচ্ছে অনুযায়ী মোহাম্মদপুরের রায়ের বাজার কবস্থানে দাফন করা হয়। আবু মহসিনের ১ ছেলে ও ১ মেয়ে। বড় ছেলে তার মাকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় থাকেন। আর মেয়ে চিত্রনায়ক রিয়াজের স্ত্রী মডেল মুশফিকা তিনা রাজধানীর বনানীতে থাকেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads