কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে বন্যা প্রবণ ও নদী ভাঙন এলাকায় দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় (৩য় পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্পের আশ্রয়কেন্দ্রের ভবন নির্মাণের কাজে অনিয়ম, ধীরগতি ও গাফলতির অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। উপজেলার ঢালুয়া ইউপির চৌকুড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠে ভবনটির নির্মাণ কাজ চলছে। এতে করে নির্দিষ্ট সময়ে ভবন নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হওয়া নিয়ে অনিশ্চিয়তা দেখা দিয়েছে।
ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের তহবিল থেকে তিন তলা বিশিষ্ট ভবনটির নির্মাণ কাজের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৯০ লাখ ৭৯ হাজার ২শ ৫ টাকা। যার কাজ পান ফরিদপুরের মধুখালীর গোলাম মনসুর নান্নু নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রকল্পের তিন তলা বিশিষ্ট নির্মাণাধীন ভবণের ছাব বেজের কাজ শেষ করে ফিলার ঢালাইয়ের কাজ শেষ হয় মাত্র। প্রতিটি ফিলারের মরিচা পড়া রড, নি¤œমাণের পাথর, বালু ও ইট ব্যবহার করছেন। পাশাপাশি ছাব বেজের গর্তগুলো অবৈধ ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে বালু দিয়ে ভরাট করেন। ড্রেজার মেশিনের পানির প্রেসারের চাপে ভবনের চতুর পাশের ওয়াল ভেঙে যায়। পরে তড়ি গড়ি করে পূনরায় কাজ করেন। যদিও ভবনটির নির্মাণ কাজ ২০১৯-২০ অর্থ বছরে শুরু হয়ে সম্পূর্ণ করার কথা ছিলো চলতি বছর ২০২২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারী মাসের মধ্যে।
স্থায়ীয় দেলোয়ার হোসেন, আজিজুল হক ও হারুন সহ একাধিক ব্যাক্তি অভিযোগ করে বলেন, কাজটি একেবারে নিম্মমানের হচ্ছে। রড, সিমেন্টসহ বিভিন্ন সামগ্রীও কম দিচ্ছেন। যখন কাজ শেষ হওয়ার কথা ওই সময় অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। দিরে দিরে চলছে ভবন নির্মাণ কাজ, কবে শেষ হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
যদিও ভবন নির্মান কাজ পান ফরিদপুরের মধুখালীর গোলাম মনসুর নান্নু নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে মুল ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছেন ফয়সাল নামের এক ব্যাক্তি।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সত্যাধিকারী গোলাম মনসুর নান্নু মুঠো ফোনে বলেন, কাজ চলমান রযেছে। দেশে সব জিনিসের দাম বেশী। মালামাল নিয়ে সমস্যা তাই দেরি হচ্ছে। আর কাজটি করছে ফয়সাল নামের এক ব্যাক্তি। তরে করোনার কারনে শ্রমিক সংকট থাকায় কাজ দেরী হচ্ছে।
এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার শামীমা আক্তার বলেন, টেন্ডারটি অধিদপ্তর থেকে হয়। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান যদি দেরী করে, তা হলে পুনরায় টেন্ডার করা হয়। যখন ঢালাই দিবে তখন আমার অফিস থেকে লোকজন গিয়ে কাজের মান দেখবে।





