আশুলিয়ায় মিন্টু চন্দ্র বর্মন নামে নিখোঁজ এক কলেজ অধ্যক্ষের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করেছে র্যাব। এ ঘটনায় হত্যাকারী মূলহোতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার কালে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাভার রেসিডেনশিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মিন্টু চন্দ্র বর্মনের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করেছে র্যাব।
নিহত মিন্টু চন্দ্র বর্মন লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের বাড়াইপাড়া গ্রামের শরত বর্মনের ছেলে।
র্যাব জানায়, মিন্টু চন্দ্র বর্মণ সাত বছর ধরে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় বসবাস করতেন। তিনি সেখানকার আমিন মডেল টাউন স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষকতা করতেন। দুই বছর আগে (২০১৯ সাল) মিন্টু চন্দ্র বর্মণসহ চারজন মিলে জামগড়া এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে সাভার রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ নামে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়েন। অন্য তিন সহ প্রতিষ্ঠাতা হলেন রবিউল ইসলাম, মোতালেব ও শামসুজ্জামান। মিন্টু চন্দ্র বর্মণ ছিলেন এর অধ্যক্ষ। গত ১৩ জুলাই থেকে তার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।
গত ২২ জুলাই আশুলিয়া থানায় ওই শিক্ষক নিখোঁজের পরে জিডি করেন তার পরিবার। এ ঘটনায় র্যাব- ৪, গোয়েন্দা বিভাগ ও ছায়াতদন্তের টিম ও পুলিশ কাজ করে।পরে তারই ধারাবাহিকতায় সোমবার ভোরে আবদুল্লাহপুরে অভিযান চালিয়ে এ হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা রবিউলকে আটক করা হয়। তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞেসাবাদে জানায়, গত ৭ জুলাই রবিউল, বাদশা ও মোতালেব এ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ২৩ শে জুলাই কোচিং শেষ করার পরে রাতে মিন্টুকে ১০৬ নম্বর কক্ষে ডেকে নেয় রবিউল ও তার ভাগনে বাদশা । পরে তাকে পিছন থেকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে বাদশা। পরে তাকে ৬ টুকরো করে রবিউল ও বাদশা। পরে এই টুকরোর ৫ টি অংশ স্কুলের সামনে পুতে উপরে সিমেন্ট দিয়ে ঢালাই করে দেয় এবং আরেকটি অংশ মাথা পলেথিনে করে রাজধানীর আশকোনার এক ডোবাতে ফেলে দেয়। রবিউলের তথ্য অনুযায়ী, বাদশাকে রংপুরের সুন্দরগঞ্জ গাইবান্ধা ও মোতালেবকে রাজধানীর আশকোনা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নিহতের ভাই জানান, আমার ভাই ভালো একজন শিক্ষক ছিলেন। এই এলাকায় তিনি অনেক সুনাম অর্জন করেছেন। মালিকানা নিয়ে রবিউল মাঝে মাঝে ঝামেলা করতেন। হিংসায় তারা এই নিমর্ম হত্যাকাণ্ড করেছে। এ হত্যাকাণ্ডের আসামিদের ফাঁসির দাবি জানান তিনি।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, যাদের আটক করা হয়েছে তাঁদের ভাষ্যমতে, স্কুলের শ্রেণিকক্ষেই মিন্টু বর্মণকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। লাশ ছয় টুকরা করে স্কুলের মাঠেই পুঁতে ফেলা হয় ৫ টি অংশ । এরপর বিচ্ছিন্ন মাথা ফেলা হয় দক্ষিণখানের আশকোনা এলাকায়। আটক সবাই খুনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং নিহতের আরেকটি অংশ মাথা উদ্ধারের কাজ আামাদের অব্যাহত রয়েছে।





