মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার জয়চন্ডী ইউনিয়নে মসজিদের আম পাড়া নিয়ে প্রতিপক্ষের গণপিটুনিতে মন্তর মিয়া (৭০) নামক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় এ হামলার ঘটনায় আহত বৃদ্ধ রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কুলাউড়া হাসপাতালের মারা যান।
আজ বৃহস্পতিবার লাশের ময়নাতদন্ত শেষে বাদ আছর জানাযা শেষে দাফন করা হয়। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে।
নিহত মন্তর মিয়ার ছেলে জাহেদ মিয়া ও পুলিশ জানায়, উপজেলার জয়চন্ডী ইউনিয়নের গাজীপুর মাস্টারের দোকান এলাকার একটি মসজিদের আম গাছের আম পাড়ছিলেন কয়েকজন লোক। এসময় মন্তর মিয়া তাদের আম পাড়তে বাঁধা দেন। এ নিয়ে মন্তর মিয়ার সঙ্গে ওই এলাকার লাল মিয়া, রহমান কারী, পাবলু মিয়া, ছালূ মিয়া, ও সিপার মিয়াসহ তাদের বাড়ির মহিলাদের সাথে বাকবিতন্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে রহমান কারী, পাবলু মিয়া, ছালূ মিয়া, ও সিপার মিয়াসহ তাদের লোকজন মন্তর মিয়াকে মাটিতে ফেলে লাথি ও কিলঘুষি মারতে থাকেন। এতে ঘটনাস্থলেই মন্তর মিয়া জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। অজ্ঞান অবস্থায় মন্তর মিয়াকে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় উদ্ধার করে কুলাউড়া হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ছেলে জাহেদ মিয়া জানান, আমি রাজমিস্ত্রীর কাজ করি। ঘটনার সময় কাজ থেকে এসে বাড়িতে ইফতারের প্রস্তুতি নিচ্ছ। এমন সময় আশেপাশের লোকজনের চিৎকার শুনে দৌঁড়ে এসে দেখি লাল মিয়া, রহমান কারী, পাবলু মিয়া, ছালূ মিয়া, ও সিপার মিয়াদের বেপরোয়া মারধরে আমার বাবা মাটিতে অচেতন পড়ে আছেন। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় উদ্ধার করে কুলাউড়া হাসপাতালে নিয়েন গেলে সেখানে ডাক্তার বাবাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মৃত মন্তর মিয়ার ছেলে জাহেদ মিয়া এ ব্যাপারে কুলাউড়া থানায় ১৬ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৬ জনকম করে। আটককৃতরা হলেন- গাজীপুর গ্রামের লাল মিয়া মহরি, হাছনা বেগম, লিলি বেগম, হুছনা বেগম, আব্দুর রহমান ও আলাউদ্দিন।
কুলাউড়া থানার ওসি (তদন্ত) সঞ্জয় চক্রবর্তী জানান, লাশের সরতহাল রিপোর্টে শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ৬জনকে আটক করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।





