সারা দেশ

আখাউড়া-চান্দুরা সড়কের বেহাল দশা

  • কাজী মফিকুল ইসলাম, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
  • প্রকাশিত ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২১

সড়কে নেই পিচ, খোয়া, স্থানে স্থানে বড় বড় গর্ত, সামান্য বৃষ্টিতে হাটু পানি জমে থাকে। সড়কে কোথাও কোথাও কাদামাটিতে আটকে যাচ্ছে গাড়ি, যাত্রী পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে পারাপার করছে গাড়ি। বেহাল দশা থাকায় এক ঘণ্টার জায়গায় সময় লাগছে দুই ঘণ্টা। এমন দৃশ্য দেখা যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া-চান্দুরা সড়কে। এ জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দিয়ে প্রতিনিয়ত জীবন ঝুঁকি নিয়ে নিত্যদিন চলাচল করছে পণ্য ও যাত্রীবাহী অসংখ্য যানবাহন। সড়কটি বেহাল দশায় পরিণত হওয়ায় দিন দিন পথচারীদের দূর্ভোগ যেন চরমে পৌঁছেছে।

জানা যায়, আখাউড়া-চান্দুরা সড়কটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। এটি আখাউড়াসহ বিজয়নগর উপজেলার ১০ ইউনিয়নের দুই লাখের অধিক মানুষের সড়ক পথে যাতায়াতের প্রধান সড়ক । আখাউড়া থেকে এই সড়কটি ২১কিলোমিটার রয়েছে। এরমধ্যে চান্দুরা থেকে সিঙ্গারবিল বাজার পর্যন্ত ১৭ কিলোমিটার এলাকা বিজয়নগর উপজেলার অংশ এবং বাকি ৪ কিলোমিটার অংশ আখাউড়া উপজেলার আওতায় রয়েছে। তবে এই সড়কের আখাউড়া-সিঙ্গারবিল পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার যানবাহন চলাচলের জন্য বর্তমানে উপযোগী রয়েছে । বাকি ১৭ কিলোমিটার অংশে ৭ কিলোমিটার সড়ক ভালো থাকলে ও বাকী ১০ কি:মি: খুবই নাজুক অবস্থানে রয়েছে। বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল থেকে শুরু করে খিরাতলা, আটখোলা, পত্তন, শ্রীপুর, নোয়াগাঁও, চম্পকনগর, পেটুয়াজুরি ও সাটিরপাড়াসহ কমপক্ষে ২০টি পয়েন্টে স্থানে স্থানে পিচ, খোয়া,ইট উঠে স্থানে স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়ে আছে। সামান্য বৃষ্টিতে পানি আটকে ছোট ডোবায় পরিণত হয়েছে । কোথাও কোথাও কাদামাটি জমে থাকায় আটকে যাচ্ছে গাড়ি। ফলে চালক এবং যাত্রী মিলে পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে গাড়ি পার করতে হচ্ছে।
সড়কের বেশির ভাগ অংশে কোনো বিটুমিন খুঁজে পাওয়া যায়নি।

গত কয়েক বছর ধরে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে এলাকাবাসীর দুর্ভোগের যেন শেষ নেই। এ সড়কের বেহাল দশার কারণে অসুস্থ রোগীসহ সাধারণ পথচারীরা প্রতিনিয়ত ভোগান্তি নিয়ে যাতায়ত করতে হচ্ছে। বেহাল এ সড়কে চলতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। ভাঙাচোরা সড়ক হওয়ার কারণে যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া।

জেলার মধ্যে আখাউড়া- চান্দুরা সড়কটি গুরুত্ব পূর্ণ হওয়ায় এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া, বিজয়নগর হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলাসহ আশপাশের স্কুল, কলেজ, মাদরাসার শিক্ষক শিক্ষার্থী, চাকুরীজীবী, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারী, অসংখ্য পথচারী নিত্যদিন চলাচল করছে। সেইসাথে চলছে শত শত সিএনজি অটো রিকসা, ট্রাক, ট্রাক্টর, মাইক্রোবাস, বাসসহ বিভিন্ন প্রকার যানবাহন।

তাছাড়া এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ব্যবহার করে আখাউড়া স্থলবন্দরে যাতায়াত করছে সিলেট থেকে আসা পাথরবাহী ট্রাক। সিলেট বিভাগের সবক’টি জেলার লোকজনকে আখাউড়া চেকপোস্টে যেতে এই সড়ক ব্যবহারের বিকল্প নেই। বর্তমানে বেহাল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে পথচারীদের দুভোর্গের যেন শেষ নেই।

খিরাতলা গ্রামের মো. বশির মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিজয়নগর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে যাতায়াতের জন্য এটিই একমাত্র প্রধান সড়ক। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে শতশত সিএনজি , ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা,ট্রাক, ট্রাক্টর, মইক্রো, প্রাইভেটকারসহ ছোট বড় নানা ধরনের যানবাহন চলাচল করছে। সড়কের বেশীভাগ অংশই গর্ত আর খানাখন্দে ভরা। যেন দেখার কেউ নেই। এক ঘন্টার জায়গায় এখন দুই ঘন্টার বেশী সময় লাগছে। সেইসাথে যানবাহনের ভাড়াও অতিরিক্ত দিতে হচ্ছে।

নোয়াগাঁও গ্রামের মো.আফসার উদ্দিন জানান, বর্তমানে সড়কে অসংখ্য খানা-খন্দ আর বড় বড় গত থাকায় চলাচল করা খুবই কষ্টকর হয়ে পড়ছে। বর্তমানে এই সড়কটি দিয়ে চলাচল করতে খুবই ভয় করে।

সিএনজি অটোরিক্সা চালক মো. কাজল মিয়া বলেন, এই সড়ক দিয়ে যানবাহন চালাতে খুবই ভয় করে। সড়কের বেহালদশা থাকায় যাত্রীকে ৪/৫ বার উঠানামা করতে হয়। সেইসাথে প্রায়ই গাড়ির ইঞ্জিন অচল হয়ে পড়ছে বলে জানায়।

মো. আমীর হোসেন নামের আরেক চালক বলেন, চলাচল করতে গিয়ে প্রায় সময়ই গাড়ির চাকা গর্তে আটকে যায়। তখন গাড়ি থেকে যাত্রীকে নেমে গাড়ি ঠেলা দিতে হয়। এক দিন গাড়ি চালাতে পরের দিন চালানো খুবই কষ্ট হয়ে যায়। সারা শরীর ব্যাথা করে।

ইসলামপুর কলেজের ছাত্র মো. মনির হোসেন বলেন, বর্তমান করোনা পরিস্থিতির কারণে কলেজ বন্ধ আছে। কলেজ খোলা থাকার সময় প্রতিদিন বিজয়নগরের ছতুরপুর থেকে কলেজে আসা হয়। কিন্তু সড়কের বেহাল দশা থাকায় যাতায়তে খুবই কষ্ট হয়। এই সড়ক দিয়ে এক দিন কলেজে গেলে পরের দিন আর মন চাই না বলে জানায়।

আমতলী বাজারের ফল ব্যবসায়ী গোলাম ফারুক মিয়া বলেন, রাস্তার উপর থেকে সুরকি ও বিটুমিন উঠে গেছে। খুবই কষ্ট করে চলাচল করতে হচ্ছে। যাতায়তে পথচারী ও যানচালকদের সময় লাগছে বেশি।

বিজয়নগর উপজেলা (এলজিইডি) প্রকৌশলী আনিসুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, এই রাস্তার কাজ চলমান রয়েছে। বিজয়নগর অংশের ১৭ কিলোমিটারের মধ্যে প্রায় ৭ কিলোমিটারের ঢালাই কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সম্প্রতি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক মারা যাওয়ায় সড়ক সংস্কার কাজ বিলম্বিত হচ্ছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটির সংস্কার কাজ সম্পন্ন হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads