আখাউড়ায় সবজি বিক্রিতে দাম পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি

ছবি: বাংলাদেশের খবর

সারা দেশ

আখাউড়ায় সবজি বিক্রিতে দাম পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি

  • কাজী মফিকুল ইসলাম, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
  • প্রকাশিত ৩১ অক্টোবর, ২০২১

প্রকৃতিতে বইতে শুরু করেছে শীতের আমেজ। শীতকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষকরা তাদের পতিত জমিতে বাণিজ্যিকভাবে লাউ, শিম, কপি, বাধাকপি, ফুলকপি, লালশাক, শসা, মুলাশাক, বরবটি, করলা, টমেটো, বেগুনসহ নানা প্রকার সবজি চাষ করেছে। শীতের উষ্ণতার পাশাপাশি ইতোমধ্যে সর্বত্র হাটবাজারে উঠতে শুরু করেছে শীতের নানা প্রকারের শাকসবজি। স্থানীয় বাজারে আগাম জাতের শাকসবজি বিক্রিতে দাম ভালো পাওয়ায় দাম কৃষকরা বেজায় খুশি। বৃষ্টিসহ নানা কারণে সবজিতে যে ক্ষতি হয়েছে বিক্রিতে ভালো দাম পাওয়ায় এবার সেই ক্ষতি তারা পুষিয়ে নিয়ে লাভের আশা করছেন।

কৃষকরা জানায়, বর্তমানে স্থানীয় হাট বাজারে প্রতিপিস লাউ বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৫০ টাকা, প্রতি কেজি করলা ৫৫-৬০ টাকা, শিম ১০০-১১০, বেগুন ৫০-৬০ টাকা , বরবটি ৬০-৬৫ চিচিঙ্গা ৫০-৫৫ টাকা, পেঁপে ২০-২৫, ঝিঙা ৫৫-৬০ টাকা, কচুর লতি ৫০-৫৫, ঢেড়স ৫০-৬০ গাজর ৫০-৬০ বেগুন ৫০-৫৫, মুলা ৫০-৫৫, শসা ৩০-৩৫, কাঁচা মরিচ ১০০-১২০, টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া প্রতিপিস ফুল কপি ৪০-৫০ টাকা, লাখ শাক ২৫-৩০ টাকা, মুলা শাক ৩০, এক হালি লেবু ২০-২৫ টাকা, প্রতিপিস ঝালি ৪০-৪৫ ও কলা প্রতি হালি ৩০-৩৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে। সবজি বিক্রিতে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটে এসেছে। অনুকূল আবহাওয়া আর যথাযথ পরিচর্যার কারণেই আগাম জাতের শীতের সবজিতে এ সাফল্য এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। কয়েক দফায় বৃষ্টিপাতে সবজি চাষের কিছু ক্ষতি হলেও বিক্রিতে ভালো দাম পাওয়ায় তারা খুবই খুশি।

স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল থাকায় এখানকার সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ও যাচ্ছে।

সরেজমিনে পৌর শহরের তারাগন, দেবগ্রাম, নারায়নপুর, উপজেলার কালিনগর, সাতপাড়া, হীরাপুর, বাউতলা, উমেদপুর আজমপুর, চানপুসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় গিয়ে দেখা যায় সবজি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। এসব এলাকার বেশী ভাগ কৃষক মৌসুম বেধে বার মাসই সবজি আবাদ করছেন। কেউ নিজেদের পতিত জমিতে, কেউ বাড়ির আঙ্গিনায় আবার কেউ করছেন বাড়ির ছাদে। বেশী ভাগ লোকজনই কৃষি অফিসের পরামর্শে এ চাষ করছেন।

উপজেলার আজমপুর এলাকার কৃষক মো. শামসুল ইসলাম বলেন, প্রায় ৪০ শতক জায়গায় লাউ, করলা, লালশাখ, মুলাশাখ, শসা, বেগুনসহ নানা প্রকার সবজি চাষ করেন। এ চাষে জমি, মাচা তৈরী চারাসহ অন্যান্য খরচ হয় তার প্রায় ৩০ হাজার টাকা। কয়েক দফা বৃষ্টিতে সবজি ক্ষতি হলেও এরপর ফলন ভালো হয়েছে। তিনি আরও বলেন বর্তমানে সবজি বিক্রি শুরু হয়েছে। প্রতিপিস লাউ ৪০টাকা থেকে শুরু করে এখন ৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। করলা ৬০ টাকা থেকে ৭০ টাকা কেজি বিক্রি করছেন। তিনি স্থানীয় বাজারে দৈনিক ৩-৪ হাজার টাকার উপর সবজি বিক্রি করছেন বলে জানায়। কোন প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলে এই জমি থেকে ১ লাখ টাকার উপর সবজি বিক্রি করতে পারবেন বলে জানায়।

মোগড়া এলাকার কৃষক খোরশেদ আলম বলেন, আগাম জাতের শীতের সবজি লাউ, শিম, লাল শাখ, মুলা শাখ আবাদ করেন তিনি । ইতিমধ্যে লাউ ও লাল শাক বিক্রি শুরু করেছেন। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে শিম বিক্রি হবে বলে জানায়। বাজারের যে অবস্থা এ ভাবে বিক্রি করতে পারলে দ্বিগুন লাভবান হবে বলে জানায়।

উপজেলার চানপুর এলাকার হাবিব মিয়া বলেন, ৫০ শতক জায়গায় তিনি শিম, লাউ, বেগুন, করলা, মুলাশাক, লাল শাকসহ নানা প্রকার সবজি চাষ করেন। কয়েক দফা বৃষ্টিতে তার ফলন নষ্ট হলেও তিনি হাল ছাড়েননি। তার এ চাষে প্রায় ১৫ হাজার টাকার উপর খরচ হয়। বর্তমানে প্রতিপিস লাউ ৪০-৫০টাকায় আর করলা ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি করছেন। এ পযর্ন্ত তিনি ৩০ হাজার টাকার সবজি বিক্রি করেছেন বলে জানান। বর্তমান বাজারে সবজির ভালো দাম থাকায় তিনি আশা করছেন নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে ও খরচ বাদে ১লাখ টাকার উপর তার আয় হবে।

কৃষক মো. আলাল মিয়া বলেন, কোন প্রকার কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহার না করে দেশীয় পদ্ধতিতে লাউ, করলা, ফুলকপি,লাল শাক করা হয়েছে। জমি তৈরী করে বীজ লাগানোর এক সপ্তাহরে মধ্যেই চারা গঁজিয়ে উঠে। এরপর পরিচর্যা, পানি, সার ও মাচা তৈরীসহ অন্যান্য কাজ করা হয়। গত ১০দিন ধরে চলছে ওই সব সবজি বিক্রি। দেশীয় পদ্ধতিতে চাষ করায় আশা করছি নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে ভালো টাকা আয় হবে বলে তিনি আশা করছেন।

লিয়াকত হোসেন বলেন ৩০ শতক জমিতে লাল শাখ, লাউ, করলা, শিম, টমেটো ফুলকপি আবাদ করা হয়। এতে খরচ হয়েছে তার ১০ হাজার টাকার উপর। ইতিমধ্যে লাউ, ফুলকপিসহ অন্যান্য সবজি বিক্রি শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত তিনি ১৫ হাজার টাকার সবজি বিক্রি করেছেন। তিনি আশা করছেন বাজার-দর ভালো থাকলে এ মৌসুমে খরচ বাদে ৬০-৭০ হাজার টাকার উপর তার আয় হবে।

তিনি বলেন, এ জমিতে যদি ধান আবাদ করা হতো তাহলে ৫ হাজার টাকার উপর ধান পাওয়া যেতো না। তাই তিনি গত ৩ বছর ধরে নানা প্রকার সবজি আবাদ করা হয়। শুধু আমজাদ, ফরিদ, হাবিবই নয় শতাধিক কৃষক সবজি চাষ করে ভাগ্য বদল করেছেন।

আখাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা বেগম বলেন, এ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বার মাসই নানা প্রকার সবজি আবাদ হচ্ছে। ফলন বৃদ্ধিতে সব সময় স্থানীয় কৃষকদেরকে পরামর্শ দেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন কয়েক দফা বৃষ্টি হওয়ায় কিছু ক্ষতি হলে ও নিয়মিত পরিচর্যার কারণে সবজির ভালো ফলন হয়েছে। তাছাড়া স্থানীয় বাজারে দাম ভালো থাকায় সবজি চাষে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। কম খরচে লাভ বেশী হওয়ায় কৃষকরা বানিজ্যিক ভাবে শুরু হয়েছে বিভিন্ন ধরণের সবজি চাষ।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads