সারা দেশ

আখাউড়ায় বাড়ছে মাছ উৎপাদন

  • আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ৩১ অগাস্ট, ২০২১

কথায় আছে মাছে ভাতে বাঙ্গালী। কৃষি নির্ভর এ দেশে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে মাছ চাষের মাধ্যমে যেন এক নবদিগন্তের সূচনা হচ্ছে। এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আখাউড়া উপজেলার বেশীভাগ মানুষই অর্থনীতি উন্নয়নে মাছ চাষে যতেষ্ট ভূমিকা রাখছেন। মাছ চাষে বেশী লাভ হওয়ায় দিনের পর দিন এ চাষের পরিধি ও বাড়ছে। এ উপজেলায় বৎসরে উৎপাদিত হচ্ছে ৪৭২০ মে.টন মাছ। এরমধ্যে এ উপজেলায় মাছের চাহিদা রয়েছে ৩৫৭৫মে.টন। উদ্ধৃত থাকছে ১১৪৫ মে.টন। যা স্থানীয় চাহিদা পুরন করে ঢাকা, চট্রগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বাহিরে সরবরাহ করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা হচ্ছে।

উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলার ১০২.১১ বর্গ কিলোমিটার আয়তনে মোট গ্রাম রয়েছে ১৩০টি। এরমধ্যে ছোট বড় পুকুরসহ প্রজেক্ট রয়েছে ২ হাজার ৮৭ টি,বিল রয়েছে ১৩টি ,নদী ৩টি, খাল ৩টি, ও প্লাবণ ভূমি রয়েছে ৮টি। সেইসাথে নিবন্ধিত জেলে ১৪৩০ ও মৎস্য চাষী রয়েছে ২১০৭ জন। তাছাড়া মৎস্য চাষী, মৎস্যজীবী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ২১০ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে ২শ ৭৬ জনকে।

চাষকৃত মাছের মধ্যে রয়েছে রুই, কাতল, পাঙ্গাস,মৃগেল পুটি,স্বরপুটি, কার্ফ, তেলাপিয়া, বোয়াল, গ্রাসকাপ, নাইলোটিকা,শিং, মাগুরসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ নানা রকমের মাছ।

এ উপজেলায় মাছের চাহিদা রয়েছে ৩৫৭৫মে.টন । আর উৎপাদিত হচ্ছে ৪৭২০ মে.টন মাছ । উদ্ধৃত থাকছে ১১৪৫ মে.টন। এ উপজেলায় দিন দিন বাড়ছে মাছের উৎপাদন। যা স্থানীয় চাহিদা পুরন করে ঢাকা,চট্রগ্রাম,সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থান ও দেশের বাইরে সরবরাহ করা হয়ে থাকে। আখাউড়া স্থল বন্দর দিয়ে ভারতে মাছ রপ্তানি করে বছরে আয় হচ্ছে ১৬৩.৫১ কোটি টাকা।

স্থানীয় মৎস্য চাষীরা জানায়, উন্নত প্রযুক্তি আর উৎপাদিত মাছের সংরক্ষন ব্যবস্থা না থাকায় তাদের অনেক ক্ষতি হচ্ছে। সংরক্ষন ব্যবস্থা থাকলে মাছ চাষে তাদের দ্বিগুন আয় হওয়ার সম্ভব রয়েছে বলে জানায়।

স্থানীয় মৎস্য চাষী মো. ইউসুফ মিয়া, আবুল কালাম, টিপু চৌধুরী, মিজান মিয়াসহ একাধিক লোকজন জানায়,এ বছরের শুরুতেই তীব্র তাবদাহ আর অনাবৃষ্টি থাকায় পুকুর, হাল বিল নদী নালা ও জলাশয়ে পানি সংকট তীব্র আকার ধারন করেছে। শুকিয়ে যায় অনেক পুকুর ,হাল, বিল ও জলাশয়। ফলে মাছের রেনু পোনা উৎপাদন ও মাছ চাষে শতশত মৎস্য চাষী উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। তারপরেও তারা মাছ চাষ থেকে পিছিয়ে নেই। পুকুর,ও মৎস্য প্রজেক্ট গুলোতে প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে সেচ দিয়ে মাছ চাষ করা হয়। কারন মাছ চাষে অধিক লাভ হওয়ায় বৃষ্টির আশা না থেকে নিদিষ্ট সময় নষ্ট করতে চায়না বলে জানায় চাষীরা।

বর্তমানে নানা প্রতিকোলতা অপেক্ষা করে এমৌসুমে এক অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করতে পারবে বলে স্থানীয় মৎস্য চাষীরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এদিকে তিতাস নদী,হাওড়া নদী আর হাল বিল,জলাশয়গুলোতে প্রাকৃতিক ভাবে ও মাছ হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমসহ সব সময় হাল তিতাস নদী,হাওড়া নদী আর হাল বিল,জলাশয়ে মাছ পাওয়া যায়। ওইসব স্থান থেকে এলাকার অনেক মানুষ নিয়মিত মাছ শিকার করছেন। এ কারনেই এখানে বেশী পরিমাণে মাছ পাওয়া যায়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,পৌর শহরসহ উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে বেশী ভাগ পুকুর, হাল, বিল, প্রজেক্ট, ও নদী ও জলাশয়গুলোতে পানি থৈ থৈ করছে। মৎস্য চাষীরা যেন মাছ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। মাছ চাষকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক কর্মসংস্থান ও।

মৎস্য চাষী মো: হুমায়ুন মিয়া বলেন, মাছ চাষ করতে এ মৌসুমে ৪ টি বড় পুকুর বাৎসরিক ইজারা নিয়ে নানা প্রজাতির মাছের পোনা ছাড়া হয়। প্রথমে পানি সংকট থাকলে এখন তা নেই। বর্তমানে মাছের অবস্থা ও বেশ ভাল রয়েছে। ইতিমধ্যে বড় আকাড়ের মাছগুলো বিক্রি শুরু হয়েছে। স্থানীয় বাজারেও বিক্রিতে ভালো দাম পাচ্ছেন বলে জানায়। তিনি আশা করছেন যাবতীয় খরচ বাদে এই ৪ টি পুকুর থেকে অন্তত আড়াই লাখ টাকার উপর আয় হবে।

মৎস্য চাষী মো: আলমগীর মিয়া বলেন, নানা প্রতিকুলতায় অপেক্ষা করে এ বছর তিনি বার্ষিক চুক্তিতে ছোট বড় ৬ টি পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করেন। ইজারার টাকা, মাছের পোনা কেনা, খাবার,্ওষধ, পরিচর্যাসহ অন্যান্য খবর বাদে তিনি আশা করছেন এ মৌসুমে দুই লাখ টাকার উপর তার আয় হবে।

এদিকে স্থানীয় বাজারে মাছ ও দেশের বাহিরে রপ্তানিকে কেন্দ্র করে পৌর শহরের সড়ক বাজার, বড় বাজার, ধরখারসহ বিভিন্ন স্থানে প্রায় অর্ধশতাধিক মৎস্য আড়ত গড়ে উঠেছে।

বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন মাছ সংগ্রহ করে বিক্রির জন্য এখানে নিয়ে আসেন। এখানে স্থানীদের চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত থাকা মাছগুলো ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, ভৈরব, চট্রগ্রাম,ঢাকা শায়েস্তগঞ্জ, সিলেটসহ বিভিন্ন স্থানে নেওয়ার পাশিাপাশি আখাউড়া স্থল বন্দর দিয়ে ভারতে রপ্তানি করা হচ্ছে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জ্যোতি কনা দাস বলেন এ উপজেলার বেশীভাগ মানুষই অর্থনীতি উন্নয়নে মাছ চাষে যতেষ্ট ভূমিকা রাখছেন। মাছ চাষে বেশী লাভ হওয়ায় দিনের পর দিন এ চাষের পরিধি ও বাড়ছে।

এখানকার দেশীয় প্রজাতির মাছ জলাশয়ে উৎপাদন হয়। জলাশয়ে কোন প্রকার পরিচর্য করতে হয় না। প্রাকৃতিক ভাবে মাছ হচ্ছে। তবে বানিজ্যিক ভাবে গড়ে উঠা মৎস্য খামারে পরিচর্যার পাশাপাশি খাবার দিতে হয়। তিনি আরো বলেন, মাছ চাষের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সব সময় পরামর্শ দিয়ে থাকি।

এ উপজেলায় অনেক জমি পরিত্যাক্ত অবস্থায় বছরের পর বছর পড়ে আছে। এগুলো মাছ চাষের আওতায় আনা গেলে এবং উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারলে দেশের অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads