আখাউড়ায় ওষুধ কোম্পানি প্রতিনিধিদের দৌরাত্ম্য বেড়েই চলছে

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

সারা দেশ

আখাউড়ায় ওষুধ কোম্পানি প্রতিনিধিদের দৌরাত্ম্য বেড়েই চলছে

  • কাজী মফিকুল ইসলাম, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
  • প্রকাশিত ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের দৌরাত্ম্য বেড়ে চলেছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের চেয়ে কোম্পানির প্রতিনিধিদের থাকছে দীর্ঘ লাইন। তারা মানছে না কোন নিয়মনীতি। চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীরা চিকিৎসকের চেম্বারে প্রবেশ করার আগেই কোম্পানির প্রতিনিধিরা ভিতরে প্রবেশ করে চেয়ারে বসে পড়ছেন। তাদের জন্য প্রতিনিয়ত সেবা নিতে আসা রোগীরা দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকে চিকিৎসা সেবা নিতে হচ্ছে।

তাছাড়া চিকিৎসকের কক্ষ থেকে ব্যবস্থাপত্র নিয়ে রোগীরা বের হওয়া মাত্র তাদেরকে ঘিরে ধরছেন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা । ফলে দূর দূরান্ত থেকে স্বাস্থ্য সেবা নিতে আসা লোকজন প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলাসহ সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়ন, বিজয়নগর উপজেলার প্রায় আড়াই লাখ জনগোষ্ঠি এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বর্তমানে এই কমপ্লেক্সেটি ৩৩ শয্যা থেকে ইতিমধ্যে ৫০ শয্যায় উন্নতি করা হয়। দৈনিক প্রায় ৩শতাধিকের উপর রোগী এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসেন।

সরেজমিনে সকাল ৯টায় উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায় বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের দীর্ঘ লাইন। সবাই অপেক্ষা করছেন কখন ডাক্তার চেম্বারে আসবেন। অন্যদিকে রয়েছে রোগীরাও। কিন্তু চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীরা চিকিৎসকের চেম্বারে প্রবেশ করার আগেই কোম্পানির প্রতিনিধিরা ভিতরে প্রবেশ চেয়ারে বসে পড়ছেন।
তাদের জন্য সেবা নিতে আসা রোগীরা দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তবে গল্পের ফাঁক ফুকুরে যেসব রোগীরা ভিতরে গিয়ে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন তারা চিকিৎসকের কক্ষ থেকে বের হতে না হতেই পড়তে হচ্ছে নানা বিড়ম্বনায়। ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা রোগী ও তার স্বজনদের কোন অনুমতি না নিয়েই চিকিৎসকের দেওয়া ব্যবস্থাপত্র নিয়ে তারা টানাটানি শুরু করে। তারা পালাক্রমে তুলতে থাকেন ব্যবস্থাপত্রের ছবি। হাসপাতালে প্রবেশ করলেই যে কেউ মনে করবে এটা যেন ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের চিকিৎসা কেন্দ্রে পরিণত হয়ে আছে। দিন দিন কোম্পনি প্রতিনিধিদের দৌরাত্ম্যে চিকিৎসা নিতে আসা আগত রোগী ও স্বজনরা বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন।

এদিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসারা জানিয়েছেন, চিকিৎসকদের সাথে ওষুধ কোম্পানি প্রতিনিধিদের দেখা করা জন্য প্রতিদিন নির্দিষ্ট একটি সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। যাতে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীদের কোন ভোগান্তি সৃষ্টি না হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিদিন অসংখ্য ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা সকাল থেকেই প্রতিটি বিভাগের চিকিৎসকের কক্ষে তারা গিয়ে ভিড় করে। এমন কি রোগীদের বসার জন্য নির্ধারিত আসনগুলো দখল করে তারা ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকেন। পদোন্নতি ও চাকুরি বাচানোর জন্য দিনের পর দিন এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তারা যেন কোন নিয়মনীতি তোয়াক্কা করছে না।

সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নের বরিশল গ্রামের গৃহিণী আলেয়া বেগম বলেন, গত দুই দিন ধরে তার ছোট মেয়ে নাফিছা জ্বরে ভোগছে। তাই সকালে ডাক্তার দেখাতে হাসপাতালে আসা। মেয়েকে নিয়ে অনেক্ষন দাঁড়িয়ে থেকে ডাক্তার দেখানো হয়। তবে ডাক্তারের কক্ষ থেকে বের হওয়ামাত্র না কোন কিছু না বলে একজন লোক আমার হাতে থাকা ব্যবস্থাপত্র নিয়ে যায়। এ অবস্থা দেখে তিনি আতকে উঠেন । আমাকে না বলেন এটা নিলেন কেন এমন প্রশ্নের উত্তরে বলে কোন অসুবিধে নেই আমরা ওষুধ কোম্পানির লোক কি ওষুধ লিখেছে তা দেখছি।

পৌর শহরের দেবগ্রামের মো. খোরশেদ মিয়া বলেন, তারস্ত্রী গত কয়েক দিন ধরে অসুস্থ। তাই চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসা। চিকিৎকের কক্ষের ভিতরে প্রায় আধঘন্টার উপরে দাঁড়িয়ে ডাক্তার দেখান বলে জানায়। ওষুধ কোম্পানির লোকজন এসে ডাক্তারের সাথে বসে গল্প করায় অনেক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। তিনি বলেন ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের যদি সময় নির্ধারণ করা যেত তাহলে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা লোকদের দুর্ভোগের শিকার হতো না।

ফেরদৌসী বেগম বলেন, তার অসুস্থ মাকে নিয়ে অনেক কষ্টে চিকিৎসকের কক্ষে যায়। সেখানে দুজন ওষধ কোম্পানির লোক বসা। দাঁড়িয়ে থেকে চিকিৎসা নেওয়া হয়। কিন্ত কক্ষ থেকে বের হলে কয়েকজন এসে হঠাৎ ব্যবস্থাপত্র না বলে নিয়ে যার যার মতো ছবি তুলতে থাকে।

এক ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি মো. ইফতিকার বাবু বাংলাদেশের খবরকে বলেন, পদোন্নতি ও কোম্পানির টার্গেট পূরণ করতেই মূলত চিকিসকদের কাছে আমাদের প্রতিনিয়ত আসা যাওয়া করতে হয়। চিকিৎসকরা কোন কোম্পানির ঔষধ লিখছেন তা দেখার জন্য মূলত রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দেখা হয়।

আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার লুৎফুর রহমান বলেন, এই হাসপাতালে চিকিৎসকরা রোগীদেরকে আন্তরিকতার সাথে সেবা প্রদান করছেন। হাসপাতাল চলাকালে আগত রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদানে যাতে কোন প্রকার অসুবিধে না হয় তাই ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদেরকে একটি সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানায়। তাছাড়া হাসপাতাল চলাকালে কোন কোম্পানির লোকজন যদি চিকিৎসকের কক্ষে প্রবেশ করতে চাইলে তাদেরকে পড়ে আসতে বলা হয় বলে জানায়।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads