টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার দেশের বৃহত্তম গোবিন্দাসী গরুর হাটটি নানা কারণে এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। দেশের দূর দূরান্তের জেলা থেকে আসছে না কোনো গরুর পাইকার। তাই কমে গেছে গরুর সংখ্যা। এতো অল্প সময়ে দেশের অন্যতম বৃহত্তম এই হাটটি তার জৌলুস হারাবে তা মেনে নিতে পারছে না এলাকাবাসি। যে হাটের সাথে জড়িয়ে ছিল হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান। হাটের অবস্থা খারাপ হওয়ায় বেকার হয়ে পড়েছে হাটের সাথে জড়িত অনেক মানুষ। প্রতিবছর ইজারা নিয়ে লোকসান গুণতে হচ্ছে হাট মালিকদের।
জানা গেছে, এক সময় দেশ সেরা এই হাটটি সাড়ে চার কোটি টাকায় ইজারা নিয়েও লাভের মুখ দেখতো। এখন আর লাভের মুখ তো দুরের কথা প্রতিবছর লোকসান গুণতে হচ্ছে ইজারা নেয়া মালিকদের। এদিকে কোরবানীর ঈদ ঘনিয়ে আসলেও হাটে গরু, ছাগল, মহিষসহ পশু সংকটে পড়েছে হাটটি। এতে বেকার হয়ে পড়েছে এলাকার ছোট খাটো পাইকাররা। ব্যাপারীরা রয়েছেন হতাশায়। এদিকে উপজেলার অন্যান্য পশুর হাটও জমে উঠেনি, নেই বেচাকিনি।
রোববার গোবিন্দাসী গরুর হাটে কয়েকজন খামারি ও পাইকারদের সঙ্গে আলাপ করলে তারা জানান, ঈদের মাত্র ১৩ দিন বাকি কিন্তু হাটে গরুর সংখ্যা একেবারেই কম। খামারিদের নিকট পর্যাপ্ত পরিমানে গরু থাকলেও করোনার প্রভাব পড়েছে হাটগুলোতে। অন্যদদিকে হাটে আগত ক্রেতা ও বিক্রতারা মাস্ক না পরায় অনেকে করোনার সংক্রমনের ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারেন।
সাবেক ইজারাদার মো. লিটন মন্ডল বলেন, ঈদের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি আছে। হাটে গরু, ক্রেতা ও পাইকারের সংখ্যা একবারেই কম। গেল বছর হাট ইজারা নিয়ে বেশ লোকসান গুণতে হয়েছে। করোনা ও লকডাউনের কারনে পাইকাররা আসছে না। এভাবে চলতে থাকলে একসময় হাটের অস্তিত্ব হারাবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. ইশরাত জাহান বলেন, সামনে কোরবানির ঈদ। গোবিন্দাসী গরুর হাট হচ্ছে দেশের বৃহত্তম হাট। এবছর ইজারা না হওয়ায় সরকারি ভাবে উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে পশু ক্রয় বিক্রয়ের নির্দেষ দেয়া হয়েছে। করোনা কেটে গেলে হাটের উন্নয়নের কাজ শুরু করা হবে।





