সারা দেশ

অর্থ সংকটে মসজিদের নির্মাণ কাজ বন্ধ

  • ''
  • প্রকাশিত ৫ এপ্রিল, ২০২৪

দুর্গাপুর, (নেত্রকোনা) ‍প্রতিনিধি:

নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর উপজেলা ১নং কুল্লাগড়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের জগৎকুড়া জামে মসজিদ পুনর্নির্মাণের জন্য দেশ-বিদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমান ভাইদের কাছে আর্থিক অনুদান ও সাহায্য আবেদন করেছেন উক্ত মসজিদের সভাপতি এবং সম্পাদক সাহেব। মসজিদটি নির্মাণ কাজ চলছে, এমতাবস্থায় আর্থিক সংকটে পড়ে মসজিদ কমিটি ফলে মসজিদের কাজ বন্ধ দীর্ঘ আড়াই বছর ধরে।

গ্রামের মানুষের নামাজ পড়ার এক মাত্র মাধ্যম এই মসজিদ। এই গ্রামের পাশে বিজয়পুর পর্যটন এলাকা অবস্থিত যার ফলে শুক্রবারে অনেক মুসল্লির ভীড় হয় এই মসজিদে। যখন বেশি মুসল্লির ভীড় হয় তখন বাইরে মাঠে কার্পেট বিছিয়ে নামাজ আদায় করতে হয় মাঝে মাঝে শুক্রবারে মাঠেও জায়গা হয় না। মসজিদের এই অবস্থা দেখে অনেক জন আশ্বাস দেয়, অর্থ দিয়ে সাহায্য করবে বলে। সবার আশ্বাস পেয়ে এবং মুসুল্লিদের দুর্ভোগের কথা ভেবে মসজিদ কমিটি সিদ্ধান্ত নেয় মসজিদ পুনর্নির্মাণ করার। মসজিদ পুনর্নির্মাণ করার জন্য আগের মসজিদটি ভেঙে নতুন ভাবে দু'তলা ফাউন্ডেশন শুরু করে।

কিন্তু কলাম ও ভিম তৈরি হওয়ার পর মসজিদের রিজার্ভকৃত টাকা শেষ হয়ে যায়। যারা আশ্বাস দিয়েছিলো তারাও ভিবিন্ন সমস্যা দেখিয়ে সরে পরেছে। গ্রামের মানুষ আর্থিক ভাবে সচ্ছল না হওয়ার কারণে নিজেদের উপর ভরসা পাচ্ছে না। ভবনের নির্মাণাধীন কাজ স্থগিত রয়েছে প্রায় আড়ায় বছর যাবৎ। নতুন ভবন নির্মাণ করার জন্য পুরাতন ঘর ভেঙে নির্মাণাধীন ভবনের পাশে টিনের ছোট ঘর তৈরি করে নামাজ আদায় করার জন্য সিদ্ধান্ত নেই। কিন্তু ঘরের পরিধি ছোট হওয়ায় মুসল্লিরা সবাই এক সাথে জামাতে নামাজ আদায় করতে পারছে না। বৃষ্টির দিন মসজিদের ভিতর কাদার প্রলেপ পরে যায় ফলে নামাজ আদায় করার মতো তেমন পরিবেশ থাকে না টিনের মসজিদের ভিতর। এলাকাবাসী এবং মসজিদ কমিটি নানান জায়গা থেকে চাঁদার মাধ্যমে কিছু টাকা যোগার করেছে। কিন্তু এই টাকায় সম্পূর্ণ কাজ হবে না বলে জানিয়েছে ইঞ্জিনিয়ার। যার কারণে মসজিদটির কাজ স্থগিত রয়েছে। মসজিদটির বাকি কাজ শেষ হতে আরো প্রায় ৮লাক্ষ টাকার প্রয়োজন হবে।

মেয়র, চেয়ারম্যান এবং বড় বড় ব্যবসায়ীদের কাছে হাত পেতেও মসজিদের জন্য কিছু পায়নি। এ বিষয়ে কমিটি সভাপতি মো: বাদশা পাঠানকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমরা এই পর্যন্ত প্রায় ৭লক্ষ টাকা খরচ করেছি চাঁদার মাধমে এবং জমি বিক্রয় করে। মসজিদটির বাকি কাজ শেষ করতে আমাদের আরো প্রায় ৮লাক্ষ টাকার প্রয়োজন। এখন আমরা ছাঁদ, ওয়াল এবং বাকি কাজ গুলোতে গিয়ে আটকে গেছি। যারা বলেছিলো আমাদের সাহায্য করবে তারা ভিবিন্ন সমস্যার কথা বলে আমাদের এড়িয়ে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় আমরা অসহায় হয়ে পরেছি। সরকার এবং দয়াবান ব্যক্তিগন যদি আমাদেরকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন তাহলে আমরা আমাদের স্বপ্নের মসজিদটি নির্মাণ করতে পারবো। আমাদের এখন নামাজ পড়ার মতো ভালো একটা পরিবেশ দরকার। এলাকাবাসী ভেবেছিলেন মসজিদের কাজ ধরলে অনেকেই সহযোগিতা করবে কিন্তু সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। এখন আমাদের দয়াবান দানবীর ব্যক্তি আর সরকারের সহযোগিতা ছাড়া কিছু করার নাই।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads