অবহেলায় ধ্বংসের পথে

ছবি: বাংলাদেশের খবর

সারা দেশ

অবহেলায় ধ্বংসের পথে

  • জাহাঙ্গীর আলম, মনিরামপুর (যশোর)
  • প্রকাশিত ৩১ ডিসেম্বর, ২০২০

এক সময় সাহিত্যপ্রেমীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠত মণিরামপুরের রাজগঞ্জ লাইব্রেরির আঙিনা। যে লাইব্রেরিতে বই পড়ে সাহিত্যপ্রেমীদের অনুভূতির ভুবন জেগে উঠত। অথচ সময়ের ব্যবধানে হারিয়ে গেছে পাবলিক লাইব্রেরির সেই জৌলুস। দেশ-বিদেশের বিখ্যাত লেখকের লেখা ইতিহাস-ঐতিহ্য, উপন্যাস, কাব্যগ্রন্থ, গবেষণাধর্মী প্রায় দুহাজার বইয়ে সমৃদ্ধ ছিল। আজ চরম অযত্নে-অবহেলায় এক সময়ের সমৃদ্ধিশালী এ লাইব্রেরি আজ পরিত্যক্ত হয়ে ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। প্রায় মুছে যাওয়া সাইনবোর্ডটাই কোনোরকম লাইব্রেরির অস্তিত্বের জানান দিচ্ছে।

জানা গেছে, উপজেলার ঝাঁপা ইউনিয়ন পরিষদের তহশিল অফিসের পাশেই ভাঙ্গা দরজায় তালাবদ্ধ এ লাইব্রেরি। জানালাগুলো উইপোকায় খেয়ে ফেলেছে। লাইব্রেরির এক পাশে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন তহশিল অফিসের ঝাড়ুদার বয়োবৃদ্ধ ইমরান হোসেন।

লাইব্রেরির প্রতিষ্ঠাকালীন দপ্তর সম্পাদক ইকবার কবীর জানান, এলাকার গুণিজনদের নিয়ে ডিসি অফিসের রাজস্ব বিভাগ থেকে অনুমতি নিয়ে কেভিডি (খুলনা উন্নয়ন বোর্ড)-এর দুটি কক্ষে ১৯৮৯ সালে (বাংলা ১৩৯৬ সাল) এ লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ছিলেন চণ্ডীপুর গ্রামের ড. আব্দুস সাত্তার (সাবেক ভিসি, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়), সম্পাদক হানুযার গ্রামের আতিয়ার রহমান (সাবেক নাজির, যশোর ডিসি অফিস)। এছাড়া মোবারকপুর গ্রামের ডা. মৃণাল কান্তি দাস (বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজের কসমেটিক সার্জারি) সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মৃত নওশের আলী, রাজগঞ্জ কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফ, প্রয়াত হাফিজুর রহমান দুলু, ব্যাংকার মোস্তাফিজুর রহমান কাবুল, পরিমল সাধু, নির্মল সাধুসহ ২১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠিত হয়। আজ অনেকেই বেঁচে নেই। এর উপদেষ্টা ছিলেন প্রয়াত এমপি অ্যাডভোকেট খান টিপু সুলতান, অমাল কুমারসহ কয়েকজন। বর্তমানে লাইব্রেরি পুনরুজ্জীবিত করতে আলোচনা চলছে। তবে সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা পেলে ফের লাইব্রেরিটির প্রাণ ফিরে পেত বলে তিনি মনে করেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads