অতিরিক্ত যাত্রী বহন করায় চার লঞ্চকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

সারা দেশ

অতিরিক্ত যাত্রী বহন করায় চার লঞ্চকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা

  • মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ১ অগাস্ট, ২০২১

অতিরিক্ত যাত্রী বহন করায় মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটে ৪ লঞ্চকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদলত। রোববার সকাল ৯টার দিকে ৪ লঞ্চকে ৫ হাজার টাকা করে মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রাশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল হাসান সোহেল।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল হাসান সোহেল বলেন, স্বাস্থ্যবিধি না মেনে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করায় চার লঞ্চকে ৫ হাজার টাকা করে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, শিমুলিয়া ঘাট এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি মানাতে ৫ জন ম্যাজিষ্ট্রেট নিয়োজিত রয়েছে।

এদিকে শিমুলিয়া ঘাটে আজ রবিবার (১ আগস্ট সকাল হতে লঞ্চে উপচে পড়া যাত্রী চাপ রয়েছে। মাদারীপুর জেলার বাংলাবাজার ঘাট হতে লঞ্চে চরে ভোর হতে গাদাগাদি করে যাত্রীরা এপারে আসছে। যাত্রীদের মধ্যে কোন স্বাস্থ্য বিধি নেই। অর্ধেক যাত্রী নিয়ে লঞ্চ চলাচলের কথা থাকলেও কানায় কানায় পরিপূর্ণ করে লঞ্চগুলো যাত্রী নিয়ে এপারে আসছে। কোন কোন লঞ্চের পিছনের ছাদেও যাত্রী রয়েছে। এদিকে যাত্রীদের কাছ হতে বড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

সরেজমিনে লঞ্চ ঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কিছু সময় পর পর ওপার হতে শিমুলিয়া ঘাটে লঞ্চ ভিড়ছে। লঞ্চগুলোর উপরে নিচে কানায় কানায় যাত্রী পরিপূর্ণ। লঞ্চ ভিড়ার পরেই ধাক্কাধাক্কি করে গাঁ ঘেষে যাত্রীরা লঞ্চ হতে নামছে। অনেকের মুখে মাস্ক ও নেই। লঞ্চ হতে নামার সময় ঘাটে নিয়োজিত আইনশৃংখলা বাহিনী বলছে মাস্ক পরেন। অনেককেই ঘাট এলাকা হতে মাস্ক কিনে পরতে বাধ্য করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

নারায়ণগঞ্জ গামী যাত্রী মাদারীপুর জেলার ইকবাল সর্দার বলেন, আমাদের গার্মেন্টস খোলা চাকুরী বাচাঁতে যেতেই হবে। তাই লঞ্চের মধ্যে গাদাগাদি করে পার হয়ে আসছি। লঞ্চ যেভাবে যাত্রী পার করছে করোনার মধ্যে আমাদের ঝুকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। ভাড়াও বেশি নিচ্ছে। আগে ৩৫ টাকা ভাড়া নিলেও এখোন ৫৫ টাকা করে নিচ্ছে।

অপর যাত্রী ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, আমাদের অফিস হতে অনেক চাপ তাই করোনার মধ্যে ঢাকায় যাচ্ছি। লঞ্চ চালু হলেও লঞ্চের মধ্যে অনেক গাদাগাদি। ঝুঁকি নিয়েই ওপার হতে আসছি। গরীব মানুষ কাজ করে খেতে হবে তাই রিস্ক নিয়েই যাচ্ছি।তবে ঘাটে গণপরিবহন চালু থাকায় যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। মাওয়া হতে ১০০ টাকা করে গুলিস্থান পর্যন্ত ডেকে ডেকে বাসে যাত্রী তুলছে। ঘাটে পর্যাপ্ত পরিমাণ গণপরিবহন বাস রয়েছে।

শিমুলিয়া ঘাটের নদীবন্দর (বিআইডব্লিউটিএ) কর্মকর্তা মো. সোলাইমান বলেন, এ মুহুর্তে এ নৌরুটে ৮৬ টি লঞ্চ চলছে। ওপার হতে যাত্রী চাপ রয়েছে এপার হতে কোন যাত্রীচাপ নেই। সে আরো জানায় এখোন পর্যন্ত দুপুর ১২ টা পর্যন্ত লঞ্চ চলার নির্দশনা রয়েছে। পরে কোন নির্দেশনা আসলে সেভাবে লঞ্চ চলবে।

শিমুলিয়া ঘাটের উপ মহা ব্যবস্থাপক বাণিজ্য শফিকুল ইসলাম বলেন, নৌরুটে বর্তমানে ৯টি ফেরি চলছে। লঞ্চ চলায় ফেরিতে যাত্রীচাপ নেই।

উল্লেখ্য আজ থেকে শিল্প প্রতিষ্ঠান খোলার ঘোষনায় গতকাল শনিবার সারাদিন শিমুলিয়া ঘাটে ফেরিতে যাত্রীচাপ ছিলো। আজ ভোর থেকে লঞ্চ চলায় ফেরিতে যাত্র চাপ কমলেও লঞ্চে যাত্রীরা ওপার হতে গাদাগাদি করে এপারে আসছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads