বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ২৯ June ২০২৪

নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই দেবে গেল ব্রিজ


সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি:

জনদুর্ভোগ লাঘবের জন্য গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা খেয়াঘাটে তিস্তা শাখা নদীর উপর প্রায় ২৮ লক্ষ টাকা ব্যয়ে আর সিসি পিলারের উপর নির্মিত কাঠের ব্রিজটি জনগণের যাতায়াতের জন্য খুলে দিতে না দিতেই দেবে যাওয়ায় শত শত মানুষের জনদুর্ভোগ যে তিমিরে ছিল সে তিমিরেই রয়ে গেল।

জানা যায় ঐ খেয়াঘাটটি ব্যবহার করে প্রতিদিন শত শত সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনের তাগিদে ঐতিহ্যবাহী বেলকা বাজার, বেলকা উচ্চ বিদ্যালয়, বেলকা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও বেলকা কলেজ কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ গাইবান্ধা শহর ও উপজেলা শহরে যাতায়াত করে আসছিল। বর্ষাকালে তাদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

তাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল খেয়াঘাটে একটি ব্রিজ নির্মাণ। এই দাবির প্রতি সম্মান দেখিয়ে গত ২০২২-২৩ অর্থ বছরে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ এডিপি সাধারণের আওতায় ১০৫ মিটার দীর্ঘ ১.৩ মিটার প্রস্থ কাঠের ব্রিজ নির্মাণের জন্য ২৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকার প্রকল্প গ্রহণ করে। গত ০৫-০৪-২০২৩ ইং দরপত্র আহবান করা হলে গত ০৯/০৪/২০২৩ ইং লটারীর মাধ্যমে মেসার্স শাহানুর ইসলাম (ছানা) নামের গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ৫% নিম্ন দরে ২৭ লাখ ৫০ হাজার ২৫০ টাকায় ব্রিজ নির্মাণের কাজটি পায়। সুন্দরগঞ্জ এল জি ইডির সার্বিক তত্ত্ববধানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য ২৭/০৪/২০২৩ চুক্তিবদ্ধ হয়ে কার্যাদেশ পায়।

বর্তমানে রংপুর এল জি ই ডি তে কর্মরত উপসহকারী প্রকৌশলী আনারুল ইসলামের তদারকিতে কাজটি শুরু হয়। ব্রিজটির নির্মাণ কাজ শেষ না হলেও সে সময়ের উপজেলা প্রকৌশলী বর্তমানে এল জি ই ডি এর প্রধান কার্যালয় আঁগারগাঁও এ কর্মরত শামছুল আরেফীন খান গত ১৮/০৬/২০২৩ ইং সে সময়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুর-এ আলম ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আশরাফুল আলম সরকার এর যৌথ স্বাক্ষরে চূড়ান্ত বিল প্রদান করেন। বিল গ্রহণের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ব্রিজ নির্মাণে গরিমসী করতে থাকলে ঐ অঞ্চলের জনগণের প্রতিবাদের মুখে আবারো কাজ শুরু করেন এবং গত ১৫ মে/২০২৪ ইং দায়সারাভাবে কাজটি সমাপ্তি দেখালে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা ব্রিজটি ব্যবহার শুরু করেন।

কিন্তু গত ২০ জুন/২০২৪ রাতে ব্রিজের ৬টি আর সি সি গাডার পিলার দেবে যায় এবং অপরগুলো দেবে যাওয়ার অপেক্ষায়। এতে করে ঐ ব্রিজ দিয়ে চলাচলকারীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দৃশ্যত চলাচল করতে হচ্ছে। যে কোনো মুহুর্তে ব্রিজটি ভেঙ্গে পড়ে জনদুর্ভোগ আরো বাড়াতে পারে ও জীবন হানি ঘটতে পারে বলে আশঙক্ষা করা হচ্ছে। বন্ধ হয়ে যেতে পারে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের চলাচলের একমাত্র পথ।

এ নিয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ ইব্রাহিম খলিলুল্যাহ জানান দায়সারাভাবে কাঠের ব্রিজটি নির্মাণ করায় বর্তমানে জনদুর্ভোগ আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। ব্রিজটি দেবে যাওয়ার বিষয়টি তদন্ত করে দায়িদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তিনি। সাবেক উপজেলা প্রকৌশল অফিসের (বর্তমানে কর্মরত রংপুর) উপসহকারি প্রকৌশলী ও তদারকি কর্মকর্তা আনারুল ইসলাম জানান ব্রিজটি নির্মাণের ডিজাইনটি সঠিক হয়নি। আমি যেমন ডিজাইন পেয়েছি সেভাবেই কাজ করিয়ে নিয়েছি। আর বেশি কিছু বলতে পারব না।

সাবেক উপজেলা প্রকৌশলী (ঢাকা এল জি ই ডি প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত) শামছুল আরেফীন খান জানান তীব্র স্রোতের কারণে পিলারের নিচের মাটি সরে ব্রিজটি দেবে গেছে। এত অল্প অর্থ দিয়ে এমন ব্রিজ নির্মাণ করাটাই বোকামি। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার শাহানুর মোবাইল ফোনে জানান এ ব্যাপারে ব্রিজ নির্মাণে দরপত্র আহবান কারী ও তদারকি কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাস করুন। এ কথা বলেই তিনি মোবাইল ফোন কেটে দেন। সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মান্নাফ জানান ব্রিজটি নির্মাণের জন্য যে ডিজাইন করা হয়েছিল তাতে ত্রুটি ছিল। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তরিকুল ইসলাম বলেন তদন্ত বোর্ড গঠন করে তদন্ত সাপেক্ষে দায়িদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১