আপডেট : ০২ June ২০২৪
এম এ বাবর: বিশ্ব উষ্ণায়ন ও আশু বিপদ থেকে পরিত্রাণ পেতে ধীরে ধীরে সব দেশই ‘ক্লিন এনার্জি’র দিকে ঝুঁকছে। আর সেই উত্তরণে এবং কার্বন নিঃসরণকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ক্লিন এনার্জি উৎপাদনের দিকে ঝুঁকছে বাংলাদেশও। তা ছাড়া দেশে প্রতিদিন ৫০ হাজার মেগাওয়াটের বেশি সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে জ¦ালানি আমদানি নির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সরে আসার পরিকল্পনা করছে সংশ্লিষ্টরা। বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের মতো চরম সমস্যা থেকে বাঁচতে সৌরবিদ্যুতের মতো ক্লিন এনার্জির বিকল্প নেই। তাই বিশে^র অন্যান্য দেশের মতো সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের দিকে ঝুঁকছে সরকার। তাছাড়া নিজের ঘরেই বিদ্যুৎ উৎপন্ন করতে পারলে খরচও অনেক কমে আসবে বলে মনে করছে বিদ্যুৎ বিভাগ। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানান, বাংলাদেশ কার্বন নিঃসরণকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। ২০৪১ সালের মধ্যে ৪০ ভাগ ক্লিন এনার্জি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০৩০ সালে সোলার থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাশর্^বর্তী দেশ ভারতের তুলনায় বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুতের ট্যারিফ এখনো বেশি। সরকার নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিয়ে বিদ্যুতের ট্যারিফ ঠিক করছে। ফলে এখানে প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ হচ্ছে না। তাই প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরি করে ট্যারিফ কমিয়ে আনার পরামর্শ তাদের। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম শামসুল আলম বলেনÑ টাকার অবমূল্যায়ন, ডলার সংকট ও জ্বালানির প্রাপ্যতা সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে হিমশিম খেতে হয়েছে সরকারকে। সামনে পরিস্থিতি আরো খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সোলার বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিকল্প নেই। তিনি বলেন, সোলার বিদ্যুতের সুবিধা হলো, বিদ্যুৎ উৎপাদনে কখনো ঘটতি হবে না। কারণ সৌরশক্তি অপরিসীম। প্যানেল স্থাপনের পর বিদ্যুতের কোনো বিল দিতে হবে না। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা কখনো বিচ্ছিন্ন হবে না। সোলার প্যানেল রক্ষণাবেক্ষণ করা খুব সহজ। পরিবেশ দূষিত করে না। প্যানেলের দীর্ঘস্থায়িত্ব বেশি, তাই অনেক বছর ব্যবহার করা যায়। যেখানে পাওয়ার গ্রিড সম্প্রসারণ ব্যয়বহুল, সেখানে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করা যেতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুতে আগ্রহ বাড়ছে সরকারের। এর ধারাবাহিকতায় গত কয়েক মাসে বেশ কয়েকটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি অনুমোদন পেয়েছে নতুন তিনটি সৌরভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। এসব কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কিনতে ইউনিট প্রতি খরচ পড়বে ১০ টাকার বেশি। যদিও প্রতিবেশী দেশ ভারতে সৌরবিদ্যুতে ইউনিটপ্রতি ব্যয় এর প্রায় অর্ধেক। জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুতের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে এগুলো থেকে বিদ্যুৎ কেনার ব্যয় প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। সৌরবিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণে জীবাশ্ম জ্বালানির মডেলটিকেও অনুসরণ করা হচ্ছে কিনা, সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞরা। ২০ বছর মেয়াদে কেন্দ্রগুলো থেকে বিদ্যুৎ কেনায় সরকারের ব্যয় হবে ১৩ হাজার ২৩৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে দিনাজপুর জেলার বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি এলাকায় ২০০ মেগাওয়াট (এসি) ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ২০ বছর মেয়াদে আনুমানিক ৭ হাজার ১৬৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয় হবে। বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায় ৭০ মেগাওয়াট (এসি) ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ২০ বছর মেয়াদে আনুমানিক ২ হাজার ৪৮৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয় হবে। ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলায় ১০০ মেগাওয়াট (এসি) ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ২০ বছর মেয়াদে আনুমানিক ৩ হাজার ৫৮০ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয় হবে। তবে এ তিন কেন্দ্র থেকে প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুৎ কিনতে কত টাকা ব্যয় হবে সে তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এর আগে ২০২২ সালের আগস্ট মাসে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় দুটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ট্যারিফ অনুমোদন করা হয়েছিল। এর মধ্যে বাগেরহাটের রামপালে ৩০০ মেগাওয়াট (এসি) ক্ষমতার সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য সৌদি আরবের এসিডব্লিউএ পাওয়ার কোম্পানি, বাংলাদেশের কমফিট কম্পোজিট নিট লিমিটেড, ভিয়েলাটেক্স স্পিনিং লিমিটেড ও মিডল্যান্ড ইস্ট পাওয়ার লিমিটেডের জয়েন্ট ভেঞ্চারকে অনুমোদন দেওয়া হয়। নো ইলেকট্রিসিটি নো পেমেন্টের ভিত্তিতে ২০ বছর মেয়াদে ১২ শতাংশ ডিসকাউন্ট ফ্যাক্টর, ৬ শতাংশ উৎসে কর ও ১৮ দশমিক ৫০ শতাংশ প্ল্যান্ট ফ্যাক্টরে ট্যারিফ ভিত্তিতে বিদ্যুৎ কেনা হলে প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা ১১ টাকা ৭ পয়সা হিসাবে আনুমানিক ১০ হাজার ৭৬১ কোটি ৬০ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে। ওই সময় নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলায় ৫০ মেগাওয়াট (এসি) ক্ষমতার সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে এএসকে নিউ এনার্জি কো. লিমিটেড, এ জে পাওয়ার কো. লিমিটেড ও এটিএন সলিউশনস লিমিটেডের কনসোর্টিয়ামের ট্যারিফ অনুমোদন দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে ২০ বছর মেয়াদে প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা ১০ টাকা ৭ পয়সা হিসাবে আনুমানিক ১ হাজার ৭৩২ কোটি ৮০ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে সরকারকে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) তথ্যানুসারে, ২০২১-২২ অর্থবছরেও সৌর শক্তিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কেনায় কিলোওয়াটপ্রতি ব্যয় হয়েছে ১০ টাকার বেশি। এর মধ্যে এনগ্রিন সোলারের কাছ থেকে প্রতি কিলোওয়াট ১৬ টাকা ৪২ পয়সা, সিম্পা সোলার পাওয়ার লিমিটেডের কাছ থেকে ১১ টাকা ২৬ পয়সা, স্পেকট্রা সোলার পার্ক থেকে ১১ টাকা ৯৬ পয়সা, কেইপিজেড ৯ দশমিক ৮ মেগাওয়াট সোলার থেকে ১২ টাকা ৯৩ পয়সা ও এনারগন রিনিউয়েবলস (বিডি) লিমিটেডের কাছ থেকে ১২ টাকা ১১ পয়সায় বিদ্যুৎ কিনেছে বিপিডিবি। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে সৌরবিদ্যুতের প্রতি কিলোওয়াট উৎপাদন গড় খরচ ছিল ১৩ টাকা থেকে ১৭ টাকার মধ্যে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা ১৩ টাকায় নেমে এসেছে। দেশে বৃহৎ কয়েকটি সৌরবিদ্যুতের প্রকল্প গ্রিডে যুক্ত হওয়ায় উৎপাদন খরচ কমে আসছে। আগামী বছর এ খরচ ইউনিটপ্রতি ৯-১০ টাকায় নেমে আসবে। গত এক দশকে প্রতিবেশী দেশ ভারতে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনা হয়েছে। ২০১০ সালে ভারতে প্রতি কিলোওয়াট সৌরবিদ্যুতের গড় মূল্য ছিল দশমিক ১৭ সেন্ট। সেখানে ২০২০ সালে কিলোওয়াটপ্রতি নেমে এসেছে দশমিক শূন্য ৩১৫ সেন্টে। ২০২০ সালে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ খাতের কোম্পানি সাতলুজ জাল বিদ্যুৎ নিগাম লিমিটেড (এসজেভিএন) ১০০ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করে। ৪৫০ কোটি রুপি ব্যয়ে নির্মিত ওই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ হয় প্রতি কিলোওয়াট ২ রুপি ৮০ পয়সা। সর্বশেষ গত বছরের জুলাইয়ে ২ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে ভারত সরকার। দরপত্রের ভিত্তিতে করা সোলারের প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুতের দাম নির্ধারিত হয় দশমিক শূন্য ৩২ সেন্ট। আন্তঃব্যাংক লেনদেনে গতকালের ডলারের সর্বোচ্চ বিনিময় হার ১১০ টাকা ৫০ পয়সা ধরে প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুতের দাম পড়ে ৩ টাকা ৫৩ পয়সা। দরপত্রে বিজয়ীরা ভারতের যেকোনো জায়গায় এ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে পারবে। বিশেষজ্ঞদের ভাষ্যে, ভারতে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ হচ্ছে প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে। ফলে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন খরচ কম পড়ছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশে বিশেষ আইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ হচ্ছে। যেখানে বিশেষ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিয়ে একটি নির্ধারিত ট্যারিফের অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিক্স অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের বিশ্লেষক শফিকুল আলম বলেন, বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুতের ট্যারিফ এখনো বেশি। এর কারণ হলো এখানে প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ হচ্ছে না। ফলে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিয়ে বিদ্যুতের ট্যারিফ ঠিক করা হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ চুক্তি স্বাক্ষরের পর দীর্ঘ সময় লেগে যাওয়ায় এক ধরনের ঝুঁকি রয়েছে। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান ঝুঁকি অনুভব করে। এ ঝুঁকিও উচ্চ ট্যারিফের কারণ। তৃতীয়ত, সৌরবিদ্যুতের বেশির ভাগ যন্ত্রাংশ আমদানিনির্ভর হওয়ায়ও ট্যারিফের ওপর প্রভাব পড়ে। খরচ কমাতে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে অনুমোদন গত জটিলতা কমিয়ে আনতে হবে, জমি অধিগ্রহণ ও প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে হবে। বিপিডিবির তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে বিদ্যুতের উৎপাদন সক্ষমতা (ইনস্টলড ক্যাপাসিটি) ২৪ হাজার ৯১১ মেগাওয়াট। এর মধ্যে সৌরবিদ্যুতের সক্ষমতা ৪৫৯ মেগাওয়াট, যা বিপিডিবির বিদ্যমান সক্ষমতার ১ দশমিক ৮৪ শতাংশ। দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সক্ষমতা বাড়াতে বিদ্যুতের মহাপরিকল্পনায় (পাওয়ার সিস্টেম মাস্টার প্ল্যান ২০১৬) ২০২১ সালের মধ্যে মোট সক্ষমতার ১০ শতাংশ নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ থেকে করার পরিকল্পনা করা হয়। কিন্তু সে লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয় বিদ্যুৎ বিভাগ। বর্তমানে সংশোধিত বিদ্যুতের মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী, নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ শতাংশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে মোট ৪০ শতাংশ বিদ্যুৎ আসবে। বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। এর মধ্যে সোলার পার্ক থেকে ৪৬১ মেগাওয়াট এবং রুফটপ সোলার থেকে প্রায় ৩৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। এছাড়া ১ হাজার ২৫০ মেগাওয়াট সক্ষমতার সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন এবং প্রায় নয় হাজার মেগাওয়াটের সোলার প্রকল্পগুলোর কাজ বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের সোলার প্রকল্পের বেশির ভাগই নদীর চর ও দুর্গম এলাকায়। গ্রিড লাইনের সঙ্গে এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র যুক্ত করতে গিয়ে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে প্রতিবেশী দেশ ভারত সোলার প্রকল্প স্থাপনের অনুমোদন দিচ্ছে সঞ্চালন লাইনের সঙ্গে নৈকট্য ও বিদ্যুতের উৎপাদন-সরবরাহ ব্যবস্থার কার্যকারিতা বিবেচনায়। এছাড়া সোলার প্যানেল নির্মাণে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের বড় অংশ ভারত নিজেই উৎপাদন করছে। সিলিকনসহ প্যানেলের যন্ত্রাংশ উৎপাদনে সেখানে সরকারি প্রণোদনাও দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশে এ ধরনের সুযোগ এখনো অবারিত নয়। আবার বাংলাদেশের বাজারে এখনো সৌর প্যানেলের যন্ত্রাংশ উৎপাদন করে মুনাফা করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। বিদ্যুতের নীতি ও গবেষণা সংস্থা পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুতের ট্যারিফ আগের চেয়ে অনেক কমে এসেছে। আগামীতে এটি আরো কমে আসবে। প্রতি কিলোওয়াট ৮-৯ সেন্টে আসবে। তবে বিতর্কও রয়েছে, ভারত ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর তুলনায় আমাদের দেশে সৌরবিদ্যুতের দাম অনেক বেশি। আসলে সৌরবিদ্যুতের দুটি বিষয় নির্ভর করে। এর একটি হলো জমি, অন্যটি সূর্যের তাপ (রেডিয়েশন)। আমাদের দেশে জমির স্বল্পতা ও মূল্য অনেক বেশি। এছাড়া ওই দেশগুলোর তুলনায় সূর্যের তাপও পাওয়া যায় কম। ইফিশিয়েন্সি বেশি না হলে খরচ তখন বেড়ে যায়। সৌরবিদ্যুতের খরচ কমিয়ে আনার জন্য আমরা চেষ্টা করছি।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১