বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ০২ June ২০২৪

এজেন্সির পকেটে শ্রমিকদের দুই হাজার কোটি টাকা


মালয়েশিয়া যেতে না পারা ৩৩ হাজার ২০১ জন শ্রমিকের শ্রমিকের ১ হাজার ৯৯২ কোটি টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে সংকট। অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার করছেন গমনেচ্ছুরা। রিক্রুটিং এজেন্সিতে বার বার ধরনা দিলেও মিলছে না কোনো আশ্বাস। টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় কোনো সিদ্ধান্ত না দিলেও মালয়েশিয়ায় প্রবেশের সময়সীমা বাড়াতে চেষ্টা করছে ঢাকা। বাংলাদেশ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গতকালও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মানুষজন এসেছেন মালয়েশিয়া যাওয়ার উদ্দেশে। কয়েকদিন অপেক্ষা করেও যেতে পারেননি, কারণ কর্মী ভিসায় দেশটিতে শ্রমিকদের প্রবেশ বন্ধ করে দিয়েছে মালয়েশিয়া।

আরআই ব্রাদার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান বলছে, কী পদ্ধতিতে টাকা দেওয়া হবে তা নিয়ে এখনও কোনো নির্দেশনা পাননি তারা। যদিও প্রতিষ্ঠানটি কত টাকা ফেরত দিবে তাও বলতে পারছেন না।

গমনেচ্ছুরা জানান, মালয়েশিয়া যেতে অনেকেই ঋণ করে, গরু বিক্রি করে এজেন্সিকে টাকা দিয়েছেন। এখন তারা হতাশা। ৭-১৪ মাস ধরে ঘুরানো হয়েছে তাদের। টিকিট বাতিল করে দিয়েছে। যার কাছে টাকা দিয়েছিলাম সে সম্পূর্ণ টাকা জমা দেয়নি। আরেক ভুক্তভোগী বলেন, আমাকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল ভালো চাকরি দেওয়া হবে। এখন বলতেছে আরও কয়েকদিন অপেক্ষা করতে। টাকা ফেরত না দিলে আমরা এখানে আত্মহত্যা করবো।

এজেন্সিগুলো বলছে, মালয়েশিয়া সরকারকে ৫ হাজার রিঙ্গিত বা প্রায় এক লাখ ২০ হাজার টাকা ভিসা বাবদ দিতে হয়। বাকি টাকা দেওয়া গেলেও ৫ হাজার রিঙ্গিত ফেরানো কঠিন বলে মনে করছেন তারা। আকাশ ভ্রমণের স্বত্বাধিকারী মনসুর আহমেদ কালাম বলেন, মালয়েশিয়া থেকে ই-ভিসা পেয়েছি অনেক দেরি করে। তখন আন্দাজ করতে পেরেছিলাম যে আমাদের কিছু লোক যেতে পারবে না।

বাংলাদেশ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্যানুযায়ী, ৩৩,২০১ জন কর্মী মালয়েশিয়া যেতে পারেননি, প্রতিজন ৬ লাখ হিসেবে এই টাকার পরিমাণ ১৯৯২ কোটি টাকা। যার মধ্যে শুধু ভিসা বাবদ মালয়েশিয়া সরকারকে দিতে হয়েছে প্রায় ৩৬১ কোটি ৪২ লাখ টাকা (১ লাখ ২০ হাজার করে)। এ টাকা ফেরত আনা নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রামের চেয়ারপারসন শাকিরুল ইসলাম বলেন, যে কর্মীরা যেতে পারেনি মালয়েশিয়া সরকারের কাছ থেকে তাদের টাকাটা ফেরত আনতে সরকার একটা উদ্যোগ নিতে পারে। এসব টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে রিক্রুটিং এজেন্সিকে পদক্ষেপ বেশি নিতে হবে। পাশাপাশি শ্রমবাজারগুলো যেন এভাবে নষ্ট না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, সরকারের পক্ষ থেকে ৩ মাস সময় বাড়ানোর জন্য মালয়েশিয়া সরকারকে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেওয়া হলেও এখনও কুয়ালালামপুরের সাড়া মেলেনি।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেছেন, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে যে বা যারা সংকট সৃষ্টি করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দ্রুত এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটি হবে। তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বায়রার ওপর দোষ চাপিয়ে শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, মালয়েশিয়ায় পাঁচ লাখের উপরে কর্মী প্রেরণের জন্য দেশটির সরকার কোটা দিয়েছিল। সেই কোটা পূরণে কাজ করেছিল বাংলাদেশ। এর পরিপ্রেক্ষিতে রিক্রুটিং এজেন্টদের সংগঠন বায়রার সঙ্গে কথা বলে কাদের ভিসা হয়েছে আর কাদের ভিসা হয়নি সেই তথ্য চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু বায়রা সেই তালিকা দিতে পারেনি। ফলে ফ্লাইটের সমস্যা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে কর্মী পাঠানোর জন্য ২২টি বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হয়। একই সঙ্গে মালয়েশিয়া সরকারকে সময় বাড়ানোর জন্যও চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে। তবে এখনো সেই চিঠির উত্তর আসেনি।

স্বপ্নভঙ্গ হওয়া এসব কর্মীর বিষয়ে মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শামীম আহসান জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ে দেশটিতে যেতে না পারা কর্মীদের নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে চেষ্টা অব্যাহত রাখবে কুয়ালামপুরের বাংলাদেশ হাইকমিশন। যারা ভিসা পেয়ে মালয়েশিয়ায় আসতে পারেননি, তাদের নিয়ে আসার ব্যাপারে হাইকমিশনের পক্ষ থেকে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। যেন তাদের দ্রুত নিয়ে আসা যায়। তিনি আরো বলেন, ৫ লাখ ২৭ হাজারের বেশি ডিমান্ড লেটার সত্যায়ন করেছি। এ পর্যন্ত ৪ লাখ ৭২ হাজারের বেশি কর্মী মালয়েশিয়াতে এসেছে। আমরা নিয়োগ কর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি, তারা যেন এসে এখানে কাজ পায়। বাংলাদেশসহ ১৫টি দেশের জন্য কর্মী যাওয়া বন্ধ করেছে মালয়েশিয়া। দেশটির এমন সিদ্ধান্তে ভিসা পেয়েও বিমানের টিকিটসহ নানা জটিলতায় আটকা পড়েন ৩০ হাজারের বেশি দুর্ভাগা কর্মী।

প্রসঙ্গত, অনিয়মের ঘটনায় চার বছর বন্ধ থাকার পর ২০২২ সালে বাংলাদেশিদের জন্য আবার মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলে। তখন আবারও চক্র গঠন করা হয়। এই পরিপ্রেক্ষিতে গত মার্চে মালয়েশিয়া জানায়, দেশটি আপাতত আর শ্রমিক নেবে না। যারা অনুমোদন পেয়েছেন, ভিসা পেয়েছেন, তাদের ৩১ মের মধ্যে মালয়েশিয়ায় ঢুকতে হবে। এরপর বাংলাদেশসহ ১৫টি দেশ থেকে আর কোনো শ্রমিক মালয়েশিয়ায় ঢুকতে পারবে না।

বাংলাদেশ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য বলছে, ৩০ মে পর্যন্ত পাঁচ লাখ ২৪ হাজার ৯৪৬ কর্মীকে মালয়েশিয়া যাওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়। এ পর্যন্ত দেশটিতে গেছেন ৪ লাখ ৯১ হাজার ৭৪৫ জন কর্মী। এ হিসেবে ৩৩ হাজার ২০১ জন যেতে পারেনি।

 


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১