আপডেট : ২১ May ২০২৪
ধনবাড়ী (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: উচ্চ ফলন, জিংক সমৃদ্ধ, সুগন্ধি ও স্বল্প পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট সম্পন্ন পুষ্টিকর চার জাতের ধান উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)। নতুন এই জাতের ধান চাষ করে আশানুরূপ ফল পেয়েছেন কৃষকরা। এই ধান ভবিষ্যতে দেশের কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে দাবি কৃষি বিজ্ঞানীরা। ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে’র উদ্ভাবিত ধান ‘বঙ্গবন্ধু-১০০’, ‘ব্রি-১০২’ উচ্চ ফলনশীল ও জিংক সমৃদ্ধ, ‘ব্রি-১০৪’ সুগন্ধি এবং ‘ব্রি-১০৫’ ডায়াবেটিক ধান। যার বাজার মূল্য বেশিও পাওয়া যাবে বলছেন ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তারা। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ব্রি ধান-১০৫ অন্য জাতের ধান গাছের চেয়ে বৈশিষ্ট্যগতভাবে কিছুটা আলাদা। সবুজ ও খাড়া ডিগ পাতা আর মাঝারি লম্বা ও চিকন ধানের দানা। এটি স্বল্প পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট সম্পন্ন পুষ্টিকর। ডায়াবেটিক রোগীদের খাবারের জন্য উপযোগী। দেশের মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। যার বীজ কৃষক নিজেরাই উৎপাদন ও সংরক্ষণ করতে পারবেন। এই জাতের ধান প্রথমবার মতো পরীক্ষামূলকভাবে চাষ হয়েছে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলায়। তবে বেশি চাষ হয়েছে মুশুদ্দি গ্রামের মাঠে। ৭৪০ জন কৃষক চাষ করছেন ধান। একই খরচে অন্য জাতের চেয়ে এই ধানের ফলনও বেশি। ধান কর্তন উপলক্ষে গত বৃহস্পতিবার (১৬ মে) মুশুদ্দির বটতলা গ্রামের মাঠে অনুষ্ঠিত হয় মাঠ দিবস। মাঠ দিবসে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে’র মহাপরিচালক (ডিজি) ড. মো. শাহজাহান কবীর, ধান গবেষণার মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আমেনা খাতুন, কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তর টাঙ্গাইল খামারবাড়ীর উপপরিচালক মো. কবির হোসেনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাসুদুর রহমান বলেন, ‘ধান চাষে এই অঞ্চলটি খুবই উপযোগী। নতুন জাতের এই ধান চাষিদের আমরা খেতে গিয়ে সার্বিক পরামর্শ দিয়েছি। ফলন খুবই ভালো হয়েছে। তবে ব্রি- ১০৪ ও ১০৫-এর পর্যাপ্ত বীজ পেলে কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া যাবে।’ ধান গবেষণার মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আমেনা খাতুন বলেন, ‘দেশে ডায়াবেটিক রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। ডায়াবেটিস রোগীর কথা চিন্তা করে ব্রি-১০৫ ‘ডায়াবেটিক ধান’ উদ্ভাবিত করা হয়েছে। এটি বোরো মৌসুমের একটি কম জিআই সম্পন্ন, রোগবালাই ও পোকামাকড় আক্রমণ রোধক ধান। গড় ফলন হেক্টরে ৭ দশমিক ৬ টন। উপযুক্ত পরিচর্যা পেলে অনুকূল পরিবেশে হেক্টর প্রতি ৮ দশমিক ৫ টন পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম। এর জীবনকাল ১৪৮ দিন।’ বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীর বলেন, ‘দেশে যেন কখনও খাদ্য ঘাটতি দেখা না দেয়, সেজন্য উচ্চ ফলনশীল নতুন নতুন ধানের জাত উদ্ভাবনে গবেষণায় জোর দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ব্রি-১০৫ থেকে পাওয়া চালে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ কম এবং সে কারণেই এটিকে ‘ডায়াবেটিক ধান’ বলা হচ্ছে।’
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১