আপডেট : ১৭ May ২০২৪
চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে অতিরিক্ত গতির যাত্রীবাহী বিলাসবহুল একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে সুপার ভাইজারসহ ৫জন নিহত ও অপর অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার সকাল ৭টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বাতিসা ইউনিয়নের বসন্তপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার ইনচার্জ এস এম লোকমান হোসাইন। নিহতরা হলেন; কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার মতিউর রহমানের ছেলে মোহাম্মদ হোসেন(৩০), চট্টগ্রামের বাশখালীর বাহারছড়া গ্রামের নুরুল আবছারের ছেলে নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী বদরুল হাসান রিয়াদ(২৫), নোয়াখালী জেলার চাটখিল উপজেলার সাহাপুর গ্রামের মৃত মোখলেছুর রহমানের ছেলে নাসির উদ্দিন পলাশ(৩৬), বাসের সুপার ভাইজার ময়মনসিংহের চন্ডিমুন্ডা গ্রামের সুলতান মিয়ার ছেলে মাসুদ(২২) ও হেলপার লক্ষীপুর জেলার পশ্চিম লক্ষীপুর গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে আবু তাহের খোকন(৪৮)। চৌদ্দগ্রাম ফায়ার সার্ভিস ও মিয়াবাজার হাইওয়ে পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রিলাক্স পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস(যশোর ব-১১-০২৫১) যাত্রা করে। পথিমধ্যে শুক্রবার সকাল ৭টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বসন্তপুর এলাকায় পুরাতন সড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি খাদে পড়ে যায়। ডাবল টেকার বাসটির ভিতরে আটকে পড়ে সব যাত্রী। খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে বাসের সুপার ভাইজার মাসুদ ও হেলপার খোকনসহ ৫ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া দুর্ঘটনায় আহতদের কয়েকজন হলেন; কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার মতিউর রহমানের ছেলে ফিরোজ(৪২), একই এলাকার আলী আহমেদের ছেলে মোক্তার আহম্মেদ(৩৮), ফজলুর রহমান(৪২), আরাফাত হোসেন(৩৪), মোঃ সিয়াম(৩২), মোঃ সোহাগ(২৮), কামরুন নাহার(২৬), স্বপন শিকদার(২৫), রফিকুল ইসলাম(৩০) ও মনির হোসেন(৩০)। এরমধ্যে চারজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। নিহত মোহাম্মদ হোসেনের বড় ভাই আহত ফিরোজ হোসেন বলেন, ছয় ভাই পাঁচ বোনের মধ্যে মোহাম্মদ হোসেন তৃতীয়। বৃহস্পতিবার রাতে ছোট ভাই আকাশের মালয়েশিয়ার ফ্লাইট ছিল। তাই তাকে নিয়ে তিনি এবং নিহত মোহাম্মদ হোসেন ও নিকটাত্মীয় মুক্তার আহমেদসহ ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যান। ছোট ভাইকে বিমানবন্দরে পৌঁছে দিয়ে সায়েদাবাদ থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে বাসে করে রওয়ানা দেন। পথিমথ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মোহাম্মদ হোসেন মারা যান। ফিরোজ হোসেন কান্না জড়িত কণ্ঠে আরও বলেন, তার ভাই পেশায় একজন নির্মাণ ঠিকাদার। আদরের ছোট ভাইকে বিমানবন্দরে পৌছে দিতে পারলেও বড় ভাইয়ের লাশ নিয়ে বাড়ি যেতে হচ্ছে। আহত বাসযাত্রী ঢাকার নর্থ সাউথ ইউনিভাসিটির ছাত্র রাঙ্গামাটির আরজ হোসেন সুমন জানান, রাত সাড়ে বারোটায় বাসটি ছাড়ার কথা থাকলেও ২৮জন যাত্রী নিয়ে রাত ২টায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। শুক্রবার ফজরের নামাজের পূর্বে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় একটি হোটেলে যাত্রা বিরতি করে বাসটি। যাত্রা বিরতির পূর্বে গাড়িটির গতি বেপরোয়া থাকায় যাত্রীরা শোর চিৎকার করে। যাত্রা বিরতি শেষে গাড়িটি আবারো বেপরোয়া গতির কারণে চৌদ্দগ্রামের বসন্তপুর এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশ্ববর্তী খাদে পড়ে যায়। এ সময় বাসের অধিকাংশ যাত্রী ঘুমে ছিল। বেপরোয়া গতির কারণেই বাসটি দুর্ঘটনার শিকার হয়। চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা আহত যাত্রী চট্টগ্রামের হাটহাজারীর নাবিল হোসেন জানান, গাড়ির গ্লাস ভেঙ্গে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সাথে আটকে পড়াদের বের হতে সহায়তা করি। আহতদের কয়েকজনকে টেনে বের করি। চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক রবিউল হাসান বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ১০ জনকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে। এদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ৪ জনকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৫ জন নিহত হয়েছেন। চৌদ্দগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের সাব ইনচার্জ বিপ্লব কুমার নাথ বলেন, ‘খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ এবং স্থানীয় জনগণের সহায়তায় বাসের ভিতর থেকে নিহত পাঁচ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস গাড়িতে করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে নেয়া হয়। মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ এস এম লোকমান হোসাইন বলেন, ‘ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী রিলাক্স পরিবহনের ডাবল ডেকার বাসটি সকালে মহাসড়কের বসন্তপুর এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশ^বর্তী খাদে পড়ে যায়। এ সময় ৫ ব্যক্তি নিহত ও বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর বাসের চালক পলাতক রয়েছে। দুর্ঘটনা কবলিত বাস ও নিহতদের লাশ উদ্ধার শেষে থানায় আনা হয়েছে’।
অপরদিকে নিহত নাছির উদ্দিন পলাশের ভগ্নিপতি আফতাব উদ্দিন তুহিন মুঠোফোনে জানান, নাসির উদ্দিন পাইপ ফিলটারের কাজ করেন। বৃহস্পতিবার রাতে তিনি বাসযোগে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের শ^শুর বাড়িতে যাচ্ছিলেন। হাইওয়ে পুলিশের মাধ্যমে জানতে পারি, তিনি চৌদ্দগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১