আপডেট : ১৫ May ২০২৪
মোশাররফ হোসেন মুসা: গত ২০২২ সালের ৭ এপ্রিল বিভিন্ন দৈনিকে প্রকাশিত " আইনজীবী হয়ে বাবা হত্যার প্রতিশোধ, যে গল্প সিনেমাকেও হার মানায়" শীর্ষক খবরটি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এস তাহের আহমেদ গত ১ ফেব্রয়ারি' ২০০৬ তারিখে তাঁরই এক সহকর্মীর যোগসাজশে খুন হন। তিনি যখন খুন হন তাঁর কন্যা সেগুফতা তাবাসসুম ছিলেন উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী। পরে তিনি আইনজীবী হয়ে দীর্ঘ ১৬ বছর আইনী লড়াই করে খুনীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করান। বিচারে আদালত দুই আসামীকে মৃত্যুদণ্ড ও দুই আসামীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন। সেগুফতা তাবাসসুমের লড়াইটা দৃষ্টান্ত হলেও সেটি ছিল একান্ত আপনজনের হত্যার প্রতিশোধ। লক্ষ্যনীয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর বাবা ছাড়াও সাম্প্রতিক কালে আরও তিন জন খুন হয়েছেন। তিনি কিন্তু অন্য তিন জনের হত্যার বিরুদ্ধে আইনী লড়াই করেন নি। কিন্তু বাতাস থেকে অক্সিজেন আবিষ্কারক খুদে বিজ্ঞানী তাহের মাহমুদ তারিফের লড়াইটা ছিল ভিন্ন রকমের। গত করোনাকালীন সময়ে তার বাবা আব্দুস সালাম অক্সিজেনের অভাবে মারা যান। ঘটনাটি তাঁর মনে গভীর রেখাপাত করে। শপথ নেন অক্সিজেন আবিষ্কার করার। তখন তিনি ঈশ্বরদী সাঁড়া মাড়োয়ারি স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তারিফ বাতাস থেকে অক্সিজেন ধারণের একটি অক্সিজেন প্লান্ট তৈরি করে সকলকে তাক লাগিয়ে দেন। ২০২১ সালে ৮ জুন ঈশ্বরদী ইউএনও অফিসে অক্সিজেন প্লান্টটি উদ্বোধন করা হয়। খুদে এই বিজ্ঞানীকে ২০২২ সালে ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ' শেখ রাসেল' রাষ্ট্রীয় পুরুষ্কার প্রদান করেন। এবার খড়ার তীব্রতা দেখে তিনি চিন্তা করেন কৃত্রিম বৃষ্টি সৃষ্টি করার। গত ৭ মে এ বিষয়ে বিজ্ঞানের সরঞ্জাম কেনার জন্য সিএনজি যোগে পাবনা যাচ্ছিলেন। কালিকাপুর নামক স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এতে শুধু একটি সম্ভাবনাময় তরুণের মৃত্যুই ঘটেনি ; এ মৃত্যুর কারণে হোচট খেয়েছে তাঁর মতো হাজারো তরুণের স্বপ্নও। তিনি এবার ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা পাশ করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির চেষ্টা করছিলেন( তাঁকে ধারণ করার মতো বিশ্ববিদ্যালয় কয়টি আছে সেটাও প্রশ্ন) । গত ৮ মে সকাল ৯ টায় ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ প্রাঙ্গনে তাঁর জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জানাযায় তাঁর চাচা ছাড়াও বক্তব্য দেন ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক মেয়র আবুল কালাম আজাদ, সাঁড়া মাড়োয়ারি স্কুল অ্যান্ড কলেজের বর্তমান ও সাবেক অধ্যক্ষবৃন্দ, ঈশ্বরদী উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আরিফুল ইসলাম এবং ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ রবিউল ইসলাম। সাবেক মেয়র তাঁর বক্তব্যে সিএনজি চালকদের বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর সমালোচনা করেন। কিন্তু হাজার হাজার অনুমোদনহীন সিএনজি কেন রাস্তায় চলছে, কেন এদেশের রাস্তা অনুপযোগী হোন্ডা আমদানি করা হচ্ছে, কেন ট্রাফিক আইন মান্য করে চালকরা গাড়ি চালাচ্ছে না ইত্যাদি বিষয়ে কেউই কোনো বক্তব্য দেন নি। মনে রাখা দরকার, দেশটিকে বসবাস উপযোগী রাখা কিংবা বসবাস অনুপযোগী করা, দুইটার ক্ষমতাই মানুষের রয়েছে। যেহেতু কোন দেশ অলৌকিকভাবে বসবাস উপযোগী হয়না এবং হবেও না। তারিফের চেষ্টা ছিল মানুষের মঙ্গল করার- এটা আমাদের মনে রাখতে হবে। সেসঙ্গে তাঁর চিন্তা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। লেখক : গণতন্ত্রায়ন ও গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকার বিষয়ক গবেষক।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১