আপডেট : ২৩ April ২০২৪
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: আলাদিনের চেরাগের দৈত্যকেও যেন হার মানিয়েছেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা। ৫ বছরে তার নগদ অর্থের পরিমাণ বেড়েছে ১৭৬ গুনেরও বেশি। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে অ্যাপার্টমেন্ট, ফ্ল্যাট, দোকান এবং কৃষি ও অকৃষি জমি। ৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে দাখিলকৃত হলফনামা বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। আতাউর রহমান আতা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের ভাই। এছাড়া তিনি কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন (পরে প্রত্যাহার করে নেন) আতাউর রহমান আতা। ২০১৮ সালের ২৮ নভেম্বর নির্বাচন কমিশনে দাখিলকৃত ওই হলফনামায় আতা ব্যবসা, অস্থাবর এবং স্থাবর সম্পদ মিলিয়ে তার মোট সম্পদ উল্লেখ করেন ১ কোটি ৬৩ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। বার্ষিক আয় দেখান ১ কোটি ১৫ লাখ ৫ হাজার টাকা। মাত্র তিন মাস পর ৫ম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান প্রার্থী হন তিনি। সেই নির্বাচনে দাখিল করা হলফনামায় তার সম্পদের বেড়ে দাড়ায় ৩ কোটি ৫ লাখ টাকার ওপরে। অর্থাৎ মাত্র ৩ মাসের ব্যবধানে তিনি সম্পদের পরিমাণ দ্বিগুণ করে ফেলেন। তিন মাস পূর্বে আতাউর রহমান আতা ও তার স্ত্রী শাম্মী আরা পারভীনের নগদ অর্থ না থাকলেও ৫ম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের হলফনামায় তার নিজের নামে ৪ লাখ ৮৮ হাজার ৯৮৪ টাকা এবং স্ত্রী শাম্মী আরা পারভীনের নামে ১৫ লাখ টাকা নগদ দেখানো হয়। ৫ বছরেই শুধু নগদ অর্থ বাড়েনি আতার, বেড়েছে অ্যাপার্টমেন্ট, ফ্ল্যাট ও দালান বাড়ি। একই সাথে বেড়েছে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দোকান। কৃষি ও অকৃষি জমির পরিমাণও হু-হু করে বেড়েছে। আগে লাখ টাকা দামের গাড়িতে চড়লেও এখন কোটি টাকা দামের গাড়িতে ঘোরেন। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ গ্রহণকারী প্রার্থীদের তালিকায় সবার উপরে থাকা আতাউর রহমান আতা’র বিরুদ্ধে তার স্ত্রী শাম্মী আরা পারভিনের (৪০) জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনে সহায়তার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয় কুষ্টিয়ার সহকারী পরিচালক নীল কমল পাল বাদী হয়ে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের ২০০৪ এর ২৬/(২) ও ২৭ (১) ধারাসহ দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় তাঁদের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ (বিশেষ আদালত) মো. আশরাফুল ইসলামের আদালতে গত মাসের ১১ মার্চ (সোমবার) মামলা করেন। সেই মামলায় গত বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টায় আইনজীবীর মাধ্যমে তারা সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত এবং জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক রুহুল আমীনের আদালতে জামিন আবেদন করেন। বিচারক জামিন শুনানি শেষে ১০ হাজার টাকার বন্ডে এ মামলায় অভিযোগ দাখিল হওয়া পর্যন্ত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।
তবে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর আতা যেন কোন গোপন যাদুর কাঠির সন্ধান পেয়েছেন। এ সময়ে তার সম্পদের পরিমাণ ফুলে ফেঁপে উঠেছে। গত ৫ বছরে তার নগদ টাকার পরিমাণ বেড়েছে ১৭৬ গুণের বেশি। এর মধ্যে ব্যাংকে জমা আছে ৭ কোটি ২৬ লক্ষ টাকা আর এফডিআর আছে ১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। এছাড়া তার মোট সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় সাড়ে ৬ গুন।
৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নির্বাচনে আতাউর রহমান আতার দাখিলকৃত হলফনামা দেওয়া তথ্য অনুযায়ী স্থাবর এবং অস্থাবর সম্পদ মিলিয়ে তিনি সর্বমোট ১৯ কোটি ৯০ লাখ ৭৯ হাজার ৫৮৭ টাকা সমমূল্যের সম্পদের মালিক। পেশা হিসেবে দেখিয়েছেন ঠিকাদারি ব্যবসা। তবে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান থাকাকালে ঠিকাদারি কাজ নিয়ে বিতর্ক আছে। তার বিরুদ্ধে নানা ভাবে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আছে। দুদকও বেশ কয়েকটি সরকারি সংস্থা তদন্ত করে এর সত্যতা পেয়েছে।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১