আপডেট : ০৯ February ২০২৪
কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি: পান-সুপারি দিয়ে আতিথেয়তা ঝিনাইদহ কালীগঞ্জ এলাকার পুরোনো সংস্কৃতি। ভাওয়াইয়ার সুর সমৃত জনপদে বছরের পর বছর ধরে মেহমানদারিতে রাখা হচ্ছে পান-সুপারি। এ যেন এ এলাকার মানুষের আতিথেয়তার ঐতিহ্য। এ কারণে ধানের দেশে পানের কদর কমেনি,বরং পানের চাষ বেড়েছে দ্বিগুণ হারে। এতে করে ধান,পাট,তামাকের পাশাপাশি কালীগঞ্জ অঞ্চলের পান এখন অর্থকরী ফসলের অংশ হয়েছে। প্রতি বছর পানে হচ্ছে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য। সেই সঙ্গে পরিত্যক্ত জমি পান চাষের আওতায় আসায় কৃষকের আয়ও বেড়েছে। কালীগঞ্জ উপজেলায় অনেকে অন্যান্ন ফসল চাষ না করে পান চাষ বানিজ্যিক ভাবে চাষ করছে। একসময় এলাকার অনেকেই জীবন যুদ্ধে লেগেছিল অভাব-অনটন, সংসারে দুঃখ ছিল তার নিত্যসঙ্গী। তখন কষ্ট দূর করতে স্বল্প পুঁজিতে পান চাষে মনোনিবেশ করেছে অনেকেই। তাদের ভাগ্যে ধৈর্য আর পরিশ্রমে বদলে যেতে থাকে তাদের জীবন। পানের ব্যাপক ফলনে সে সব পরিবারের জীবনে নেমে আসা দরিদ্রতার কারণে হন নিরুদ্দেশ। পানের বরজে ভাগ্যের চাকা ঘুরে হাসি ফুটে উঠেছে পরিবারে। এলাকার অনেকেই অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী হয়েছে পান চাষ করে, ফলে বলা যায় তাদের ভাগ্যের চাকা ঘুরে দাড়িয়েছে। দিন বদলের হাওয়ায় পান চাষে বদলে গেছে ঝিনাইদহ কালীগঞ্জ উপজেলার মানুষের জীবনচিত্র। ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জের পৌর এলাকা থেকে শুরু করে শহর তলীর গ্রাম গুলোতে রয়েছে পান চাষের ব্যাপকতা। বিশেষ করে দুলালমুন্দিয়া, রায়গ্রাম, শালিখা, বলরামপুর, জামাল, কোলাবাজার, চাপরাইল, গোপালপুর, বারোপাখিয়া, বালয়াডাঙ্গাসহ বিভিন্ন গুলোতে প্রায় চাষাবাদের এক চতুর্থাংশ জুড়েই এ পানের বরজ ও পানের এই চাষাবাদটাও দীর্ঘ মেয়াদী। সারাটা বছর জুড়েই ব্যাস্ত থাকতে হয় এ এলাকার পান চাষিদের। এই পান যাচ্ছে ঢাকা,খুলনা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। অনেক সময় এ অঞ্চলের পান দেশের বাইরে যাচ্ছে, বলে রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। কালীগঞ্জের গ্রাম গুলোতে অনেক ভালো মানের পানের চাষ হয়, এ কারনে রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। ফলে মিঠা, উজানি, কর্পুরি পানের চাহিদা অনেকটাই বেশি। চাষিরা এখন জৈব সারের পাশাপাশি ব্যবহার করছেন টিএসপি, এমওপি, ইউরিয়া, এসএমপি। বৈজ্ঞানিক ভাবে চাষাবাদের কারণে ফলনও পাচ্ছে বেশি। পানের বরজে গেলে কথা হয় পান চাষি শ্যামলের সাথে। বলরামপুর মাঠে তার ৩ দাগের দুই বিঘা জমিতে পানের চাষ আছে। পার্শবর্তী দাগে বরজ আছে তাপস সরকারের তিনি জানান, নতুন করে একটি বরজ করতে গেলে এক বিঘা জমিতে সব মিলিয়ে খরচ হয় ২ থেকে ৩ লক্ষ টাকার। জমি তৈরির পাশাপাশি এর উপকরণ গুলো বেশ ব্যায় বহুল ও পান বরজে বেশি পরিশ্রম করতে হয়। পান চাষিরা বলছেন বাজারে দাম ভাল থাকলে প্রতি বছর সব খরচ বাদ দিয়ে প্রতি বছরে ২ থেকে ৪ লাখ টাকা লাভ করা যায়। পান চাষ দেখে বর্তমানে ওই এলাকার চাষিরা পান চাষ করছেন। এই উপজেলার ১১ ইউনিয়নে ও একটি পৌরসভার মধ্যে সাধারণ চাষিরা অন্যান্য চাষাবাদের সঙ্গে পান চাষ করছে। উৎপাদন খরচ বেশি হলেও বছরের অধিকাংশ সময়ই পানের দাম ভালো পাওয়া যায়। তাই অন্যান্য ফসলের সঙ্গে চাষিরা পান চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে। কালীগঞ্জ উপজেলায় দেশ স্বাধীনের পর থেকে অনেকেই বানিজ্যিক ভাবে এ পান চাষ করে থাকে। বহুকাল ধরে সুনাম ধরে রেখেছেন কালীগঞ্জের পান চাষিরা। তদের সময়ের দাবি যথাযোগ্য সংরক্ষণ এবং বিদেশে রপ্তানি করে এ চাষাবাদের আরও সুদিন ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করে চাষিরা।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১