আপডেট : ১৬ January ২০২৪
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি, আকরামুজ্জামান আরফি : কুষ্টিয়া ৪ আসনের কুমারখালীতে নৌকায় ভোট দেওয়ায় প্রতিপক্ষ গ্র“পের হামলায় গুলিবিদ্ধ জিয়ার হোসেন (৪৫) মারা গেছেন। সোমবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। নিহতের ছোট ভাই ইয়ারুল ইসলাম সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। হামলায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন নিহতের আরেকভাই আলতাফ হোসেন। তাঁরা উপজেলার কয়া ইউনিয়নের বের কালোয়া গ্রামের মৃত কেঁদো শেখের ছেলে। এ ঘটনায় এলাকায় আবারো উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে নৌকার সমর্থকরা ট্রাক প্রতিকের সমর্থকদের বাড়ি ঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এই আসনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী যুব লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সেলিম আলতাফ জর্জকে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রউফ। মুঠোফোনে নিহতের ছোট ভাই ইয়ারুল জানান, নৌকায় ভোট দেওয়ার অপরাধে ১২ জানুয়ারী সকালে সাবেক মেম্বর খালেক ও তাঁর তিন ছেলে রিপন, লিটন,শিপনসহ তাঁদের সন্ত্রাসী বাহিনী তাঁর দুই ভাইকে গুলি করে আহত করে। তার মধ্যে জিয়ার মারা গেছেন। তাঁর দাবি, নৌকায় ভোট দেওয়ার কারণেই আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তাঁদের উপর হামলা করেছে প্রতিপক্ষরা। এ ঘটনায় তিনি কুমারখালী থানায় মামলা করেছেন। কয়া ইউনিয়ন পরিষদের ( ইউপি) চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন জানান, নৌকায় ভোট দেওয়ায় জিয়ারকে প্রতিপক্ষের ( ট্রাক মার্কা) লোকজন গুলি করেছিল। তিনি দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। ঘটনা সূত্রে জানা গেছে, বের কালোয়া গ্রামের সাবেক মেম্বর আব্দুল খালেকের সাথে মৃত কেঁদো শেখের ছেলেদের প্রায় ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সামাজিক দ্বন্দ্ব চলে আসছে। পদ্মানদীতে মাছ ধরা, যেকোন নির্বাচনসহ বিভিন্ন অজুহাতে প্রায় দু’পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। তারই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সকালে বের কালোয়ারা মোড়ে দু’পক্ষ আগ্নেয়াস্ত্রসহ সংঘর্ষে জড়ায়। এতে দুই ভাই গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। যদিও বা কুমারখালী থানার ওসি গোলাগুলি ও গুলিবিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারটি অস্বীকার করেছিলেন। এলাকাবাসী জানান, ঘটনার দিন সকালে গোলাগুলির শব্দ শুনেছেন তাঁরা। অতীতেও কয়েকবার গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এদিকে গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি আবারো নিশ্চিত করে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) তাপস কুমার সরকার জানান, শুক্রবারে ছররা গুলিতে আহত দুই ভাই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। দুইদিন আগে পরিবারের লোকজন জিয়ারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকাতে নিয়ে যায়। কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) মো. আকিবুল ইসলাম জানান, মৃত্যুর খবর তিনি শুনেছেন। হামলার ঘটনায় ১৪ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযানে অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১