আপডেট : ২৯ December ২০২৩
ফয়সল চৌধুরী, হবিগঞ্জ : প্রবাসী অধ্যুষিত ও পাহাড়, সমতল, হাওড়-বাওড় এবং চা বাগানবেষ্ঠিত হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনটিতে চমক দেখাতে চায় স্বতন্দ্র প্রার্থী আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফশীল ঘোষণার পর থেকেই আলোচনার শীর্ষে রয়েছে এ আসনটি। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ নেতা ডা. মুশফিক হুসেন চৌধুরী এ আসনে নৌকা প্রতিক পেয়েছিলেন। পরে আওযামীলীগ ও জাতীয় পার্টির সমঝোতা হওয়ায় ডা. মুশফিক হুসেন চৌধুরীকে নিবার্চন থেকে সরে দাড়াতে হয়েছে। এরপরও আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা পাশে না থাকায় বিপাকে পড়েছে জাপার প্রার্থী এমএ মুনিম চৌধুরী বাবু। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী। এছাড়াও নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী গাজী মোহাম্মদ শাহেদ (ট্রাক), ইসলামি ঐক্যজোট বাংলাদেশের মোস্তাক আহমেদ ফারহানী, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের মো: নুরুল হক (গামছা) প্রতিক। তারা নিবাচর্নী মাঠে থাকলেও প্রচারণায় নেই। জানা যায়, সিলেট বিভাগে একমাত্র এ আসটিতেই আওয়ামীলীগের সাথে জাপার সমঝেতা হয়। যার ফলে নৌকা পেয়েও ধরে রাখতে পারেনি কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ নেতা ডা. মুশফিক হুসেন চৌধুরী। তবে সমঝোতায় আসনটি পেলেও নানা কারণে স্বস্তিতে নেই জাতীয় পার্টি। আওয়ামী লীগ আসনটি ছাড়লেও ভোটের মাঠে রয়েছেন আরেক হেভিয়েট প্রার্থী আওয়ামীগের সাবেক সংুরক্ষিত আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী। একসময় এ আসনটিতে জাতীয় পার্টির শক্ত অবস্থান খাকলেও বর্তমানে নড়বড়ে। এছাড়াও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টিতেও রয়েছে ব্যাপক দলীয় কোন্দল। কয়েক গ্রুপে বিভক্ত স্থানীয় নেতাকর্মীরা। জাতীয় পার্টির রওশন পন্থীরা স্বতন্ত্র প্রার্থী কেয়া চৌধুরীর পক্ষে কাজ করছেন। আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা সক্রিয়ভাবে জাপার সাথে নেই। সবমিলিয়ে বেশ বেকায়দায়ই রয়েছে জাতীয় পার্টি। অপরদিকে.স্বতন্দ্র প্রার্থী আওয়ামীগের সাবেক সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী নিবার্চনী প্রচারণা অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন। তিনি এমপি থাকা অবস্থায় নবীগঞ্জ- বাহুবলের উন্নয়নের ব্যাপক ভূমিকা রাখায় তার একটি নিজস্ব বলয় গড়ে উঠেছে। সাধারণ জনগণের কাছে রয়েছে তার তুমুল জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা। মুক্তিযুদ্ধের কমান্ডার সাবেক এমপি মানিক চৌধুরীর সন্তান হিসেবে মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও সাধারণ ভোটারের কাছে রয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা। কেয়া চৌধুরী এমপি থাকাবস্থায় চা শ্রমিকের উন্নয়নেও ভূমিকা রাখায় তাদেরও কাছে রয়েছে গ্রহণযোগ্যতা। এসব কারণে সাধারণ ভোটারদের মুখে মুখে তার নাম উচ্চারিত হচ্ছে। তারপরও তিনি ভোটারের মন জয় করতে পাড়া- মহল্লা চষে বেড়াচ্ছেন। সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, এ দুই প্রার্থীকে ঘিরেই এ আসনে বইছে নির্বাচনী আমেজ। হাট বাজার ও চায়ের স্টলে ভোটাররা করছেন চুলছেড়া বিশ্লেষন। দিন যত যাচ্ছে প্রার্থীরা ভোটাদের মন জয় করতে নানা কৌশল গ্রহণ করছেন। ইতিমধ্যে নবীগঞ্জ ও বাহুবল দুটি উপজেলাতেই প্রধান সড়ক, হাট বাজার এবং চায়ের দোকান ছেয়ে গেছে পোস্টার ও ব্যানারে। পাশাপাশি প্রতিদিন প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। নিজের জয় নিশ্চিত করতে ভোটারদের দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। বাহুবল উপজেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি শামীমুর রহমান শামীম বলেন- সংরক্ষিত আসনের এমপি হয়েও কেয়া চৌধুরী এলাকার অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হলে এ আসনের চিত্র বদলে দিতে পারবেন তিনি। এসব কারণে দলমত নির্বিশেষে তাকে ভোট দিবেন সচেতন ভোটাররা। তারা জানান, দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার নির্দেশমতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তাই দলীয় লোকজনও তাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবেন। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি কেয়ার নির্বাচনে বড় নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে বলে তাদের বিশ্বাস। মহাজোট প্রার্থী এমএ মুনিম চৌধুরী বাবু বলেন- আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা এখনো সক্রিয়ভাবে মাঠে নামে নাই। তারা মাঠে নামলে নিবার্চনের পরিস্থিতি পাল্টে যাবে। তিনি আরো বলেন- ২০১৪ সালে যখন সংসদ সদস্য হয়েছিলাম তখন এলাকায় প্রচুর উন্নয়ন করেছি। আশা করি জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবে। উল্লেখ্য, এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৩০ হাজার ৬শ’ ৯০ জন। এরমধ্যে পুরুষ ২ লাখ ১৭ হাজার ৬শ’ ৮৩ জন , নারী ভোটার ২ লাখ ১৩ হাজার ০৭ জন। ভোটার কেন্দ্রের সংখ্যা ১৭৬ টি।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১