আপডেট : ১৫ June ২০২৩
জাহাঙ্গীর আলম ভুঁইয়া, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ কর্মরত শিক্ষকদের ব্যাপক অনিয়মের কারনে বেতন বন্ধ করেছে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি। কমিটির ৬ সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে ও বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সভাপতি আমীর শাহ বেতনের সিটে স্বাক্ষর না করায় সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে মে মাসের মাসের বেতন উত্তোলন করতে পারছেন না কর্মরত শিক্ষকগন।
এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য মোঃ আজিজুল রহমান। তিনি জানান,বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির অভিযোগ ও খোঁজ নিয়ে জানা যায়,উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের প্রাচীন বিদ্যাপীঠ বাদাঘাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ ১৮জন কর্মরত শিক্ষকগন নিয়মিত স্কুলে না আসা,মন মত যখন তখন ছুটি নেয়া,শিক্ষকগন নিজেরা পরীক্ষায় প্রশ্ন তৈরি না করে ক্রয় করে আনাসহ নানান বিষয়ে ব্যাপক অনিয়ম করছেন। এছাড়াও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গত তিন যুগ ধরে বিদ্যালয়ের আয় ব্যয়ের কোনো হিসাব দেন না। যার জন্য প্রধান শিক্ষক নিজের স্বার্থে অন্যান্য শিক্ষকদের নিয়ন্ত্রণ না করে সহযোগিতা করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ধংশের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন।
এবিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আমীর শাহ জানান,শিক্ষকগন মানুষ গড়ার কারিগর কিন্তু তারাই যদি অনিয়ম করে তাহলে ছাত্র ছাত্রীরা কি শিখবে। প্রধান শিক্ষক ও অন্যান্য শিক্ষকদের ব্যাপক অনিয়মের কারনে প্রাচীন ও সুনাধন্য বাদাঘাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের দূর্নাম ছড়াচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে ম্যানেজিং কমিটির বেশির ভাগ সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে শিক্ষকদের বেতনের সিটে আমি স্বাক্ষর না করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাছে দেয়া হলেও অদৃশ্য কারনে কোনো সমাধান হচ্ছে না।
এবিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম ধানু জানান,নিজের ও সহকারী শিক্ষকদের অনিয়মে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি জানান,শিক্ষকরা চাকরী করেছেন এখন বেতন পাবে। বার বার সভাপতির কাছে গিয়েছি তিনি স্বাক্ষর করছেন না,কেন তিনি এমন করছেন তিনিই ভাল জানেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান জানান,শিক্ষকদের বেতনের সিটে সভাপতি স্বাক্ষর করছেন না বিষয়টি আমাকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন। তিনি কেন স্বাক্ষর করছেন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান,কোনো শিক্ষক অনিয়ম করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন কিন্তু সকল শিক্ষকের বেতন বন্ধ করতে পারেন না সভাপতি। শিক্ষকদের অনিয়মের বিষয়ে আপনি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন এমন প্রশ্নে তিনি জানান,অনিয়মের কোনো অভিযোগ পাই নি,পেলে আমি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুপ্রভাত চাকমা জানান,বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সহ সহকারী শিক্ষকদের বেতন বন্ধ রাখার বিষয়ে খোঁজ কবর নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১