বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ০৭ June ২০২৩

রামগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যানদের সিল,স্বাক্ষর জালিয়াতি পাসপোর্ট অফিসের দালাল চক্রের দুই সদস্য আটক


রহমত উল্যাহ পাটোয়ারী, রামগঞ্জ(লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি:
রামগঞ্জে তিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সিল ,প্যাড ও স্বাক্ষর জালিয়াতি করে নাগরিকত্ব সনদ, জন্মনিবন্ধন সনদসহ বিভিন্ন জাল সনদ তৈরী করার দায়ে লক্ষ্মীপুর জেলা পাসপোর্ট অফিসের দালাল চক্রের ২ সদস্য রাসেল(৪০) ও আরিফ(৩২)কে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ৮টায় লামচর ইউপি চেয়ারম্যান ফয়েজুল্লাহ জিসান, দরবেশপুর ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান ও করপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম দরবেশপুর ইউনিয়নের মাজিরগাঁও গ্রামের ফকির মোহাম্মদ মিজি বাড়ি থেকে তাদের আটক করে মোহাম্মদিয়া ফাঁড়ি থানা পুলিশের কাছে সোর্পদ করেন। এ সময় তাদের কাছে থেকে লামচর ,দরবেশপুর ও করপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যাদের ২টি করে প্যাড, নাগরিকত্ব সনদ বই, ১০টি সিল, ৫টি জন্মসনদ ও ৩টি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়। আটককৃত রাসেল দরবেশপুর ইউনিয়নের মাজিরগাঁও ফকির মোহাম্মদ মিজি বাড়ির খোরশেদ আলমের ছেলে ও আরিফ একই ইউনিয়নের তাহেরপুর গ্রামের এতিম আলীর ছেলে। পরে রাত ১১টায় লামচর ইউপি চেয়ারম্যান ফয়েজুল্লাহ জিসান বাদী হয়ে রামগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করে। থানা পুলিশ আজ বুধবার(৭জুন) দুপুরে তাদেরকে জেল হাজতে প্রেরন করে।
স্থানীয়রা জানান, রাসেল মাজিরগাঁও বাজারে কম্পিউটার প্রশিক্ষনের আড়ালে ৭ থেকে ৮ বছর যাবত পাসপোর্ট তৈরী কাজ করতো। আরিফ তার সহযোগি ছিল। এ ছাড়াও রামগঞ্জে লক্ষ্মীপুর জেলা পাসপোর্ট অফিসে পাসপোর্ট বানাতে ৮ থেকে ১০জন দালালি কেও থাকেন। এরা রামগঞ্জ শহরের বিভিন্ন স্থানে অফিস দিয়ে এ কাজ করেন।
আটককৃত আরিফ বলেন, রাসেল তার কম্পিউটার শিক্ষক ছিল। তিনি চেয়ারম্যাদের সিল, প্যাড ও স্বাক্ষর জাল পাসপোর্ট করতে জন্মনিবন্ধন, নাগরিকত্ব সনদ দিতেন। পাশাপাশি এলাকার মানুষকে টাকার বিনিময় জাল জন্মনিবন্ধন সনদ, নাগরিকত্ব সনদ, ওয়ারিশ সনদ ও প্রত্যায়ন পত্র করে দিতেন। এটা আমি দেখতাম কিন্তু আমি এ কাজের সাথে জড়িত ছিলাম না। স্যার(রাসেল) মোটর সাইকেল চালাতে জানতো না,তাই তিনি আমাকে মোটরসাইকেলে লক্ষীপুর পাসপোর্ট অফিসসহ বিভিন্ন কাজে অফিস ও মানুষের বাড়িতে এসব কাগজপত্র পোছে দিতে পাঠাতেন।
আটকৃত রাসেল বলেন, পাসপোর্ট করাতে ও পরিচিত কোন মানুষ আসলে এ সব কাজ করে দিতাম। মোটর সাইকেল এক্সিডেন্ট হওয়ার পর এক বছর থেকে আর করি না।
চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, উপজেলা নির্বাচন অফিসে আমাদের সিল ও স্বাক্ষর জাল ৬টি সার্টিফিকেট পাওয়া যায়। পরবর্তিতে লামচর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান অনুসন্ধান করেন। পরে তিনি সন্ধান পেয়ে আমাদেরকে খবর দিলে আমরা তিন চেয়ারম্যান এক সাথে তাদেও ২জনকে ২টি করে প্যাড ,নাগরিকত্ব সনদের বই , ১০টি সিল এবং ৫টি ওয়ারিশ ওজন্মসনদ ও ৩টি ল্যাপটপসহ হাতেনাতে আটক করে পুলিশ হাতে সর্পদ করি। এ ব্যাপারে লামচরের চেয়ারম্যান বাদী হয়ে মামলা করে। আমি ও করপাড়ার চেয়ারম্যান সাক্ষী হয়েছি।
রামগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এমদাদুল হক বলেন, এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান ফয়েজুল্লাহ জিসান দাবী হয়ে একটি প্রতারনা মামলা করেন। মামলায় আটকৃত আসামীদেরকে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১