আপডেট : ১৭ April ২০২৩
সাইফুল ইসলাম সিংগাইর মানিকগঞ্জ:
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার মাহিন্দ্র ট্রাক ও ভেক্যিু ব্যবসায়ির নদী দখল কৃষকের জমি নদী গর্ভ দখলের সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশ করায় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে একটি হয়রানি মূলক মিথ্যে চাঁদাবাজি মামলা করা হয়। ঐ মামলার বাদী শ্রমিকলীগ নেতা হায়দার ইসলাম সিংগাইর উপজেলার চর আজিমপুর গ্রামের দিনমজুর জিন্নত আলীর ছেলে।
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি হায়দারের নদী দখলের সংবাদটি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে ছাপা হলেও একটি কুচক্রী মহলের ইন্দ্রনে সিংগাইর উপজেলা দৈনিক ইত্তেফাকের সংবাদদাতা মানবেন্দ্র চক্রবর্ত্তীকে আসামি করে ৭ র্মাচ মানিকগঞ্জ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলাটি করেন ঐ নেতা । এছাড়াও মামলায় আসামি করা হয় প্রতিবাদি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ও। আবার মামলায় স্বাক্ষী করা হয়েছে হায়দার বাহিনীর নদী দখলের সাথে জড়িতদের দিয়ে। এছাড়া নিজের অপকর্ম ঢাকতে ১৩ এপ্রিল পুলিশ সুপার বরাবরও একটি মিথ্যে লিখিত অভিযোগও দিয়েছে হাইব্রিড এই নেতা।
’’সিংগাইরে নদী ভরাট করতে গিয়ে পিছু হটলেন শ্রমিক লীগ নেতা’’ বিক্ষুদ্ধ জনতার প্রতিবাদ’’ শিরোনামে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি দৈনিক ইত্তেফাকে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের বক্তব্য এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগের সূত্র ধরে এ সংবাদটি হয়। সংবাদে উল্লেখ করা হয় বিক্ষুদ্ধ জনতার প্রতিবাদের মুখে ধলেশ্বরী নদীর মাঝখানে ভরাট করে বালুর ট্রাক চলাচলের রাস্তা করতে গিয়ে পিছু হটলেন উপজেলা শ্রমিক লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মো. হায়দার ইসলাম। সিংগাইর পৌরসভার কাশিমনগর ধলেশ্বরী নদীর খেয়াঘাটে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি এ ঘটনা ঘটে। এ সময় হায়দার বাহিনীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় ঐ গ্রামের ক্ষতিগ্রস্থ শত শত নারী-পুরুষ। ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে হায়দার তার বাহিনী নিয়ে বালু ব্যবসার সুবিধার্থে জোর করেই খনন যন্ত্র দিয়ে নদী ভরাট করতে থাকেন। এ সময় ভেকু দিয়ে ভেঙ্গে ফেলা হয় নদী পারাপারের সুবিধার্থে গ্রামবাসীর কয়েক লাখ টাকার ব্যায়ে তৈরি বাঁশের সেতুটিও।
এ হাই ব্রীড নেতা নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে নদী খনন করায় কৃষকের সর্বনাশসহ ফসলি জমি,বাড়িঘর ভেঙ্গে গেছে।এমনকি মসজিদ,কবরস্থানের জায়গার মাটিও কেটে নিয়েছে সে। সেখানে বাড়ি ঘর দেবে যাচ্ছে। তার আদ্যপ্রান্ত মাটি ব্যবসায়ির কারণে নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যেতে পারে নদীর তীরবর্তী জনপদ। নদী খননের কর্মযজ্ঞ শেষ হয়েছে অনেক আগেই।এরপরেও ঠিকাদার হায়দার ইসলাম নিয়ম বহির্ভূতভাবে খননের শিডিউল না মেনে শুধু বালু ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। পানি প্রবাহের জন্য নদী খননের কাজ হাতে নিলেও এখানে সরকারের অর্থ অপচয় ছাড়া কিছুই হয়নি। এছাড়া ড্রাম্প ট্রাক দিয়ে বালু সরবরাহের ফলে গ্রামীণ সড়কেরও ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হচ্ছে। এখন নদী ডাইভার্সন হলে পানিপ্রবাহ বিঘ্নিত হবে এবং কৃষি কাজ ব্যাহত হবে।সরকারের সব টাকা বেহাত হলেও একসময়ে সেলুন দোকানদার হায়দার কোটি পতি বনে গেছেন ।
পুলিশের তথ্যমতে হায়দারের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ১৪মে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এফআই আর নং ২৪ ধামরাই থানায় একটি মামলা হয়। নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার আসামি নেতা হওয়ায় ত্যাগী আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে।
পৌর মেয়র আবু নাঈম মো. বাশার বলেন, হায়দারের এক সময় সেলুন ছিল।এর পর হয় ট্রলি চালক। এখন শ্রমিক লীগ নেতা হয়ে হায়দার এন্টারপ্রাইজের মালিক। সে মাদকের সাথেও জড়িত।একটি বড় গরুর ফারর্ম, কয়েকটি ট্রাক, মাহিন্দ্র ও ভেকু ছাড়াও রয়েছে অনেক সম্পত্তি। রাতারাতি কি করে শত কোটি টাকার মালিক হলেন। সরকারকে ইনকাম ট্যাক্স ঠিকমত দেয় কিনা। অবৈধ আয়ের উৎস কি। এছাড়া তার রাজনীতি হচ্ছে ব্যবসায়ী কৌশল। এগুলো তদন্ত করা দরকার।
থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুর রহমান বলেন,গরীব ঘরের ছেলে আমিই ওকে আমাদের দলে টেনে এনেছিলাম মাটির ব্যবসা করে খেতে।কিন্তু হঠাৎ করেই এখন টাকার মালিক হওয়াতে সে আমারও নির্দেশ মানছে না। সে কি করে এ মিথ্যে মামলা করতে সাহস পেল। যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক সায়েদুল ইসলাম ও পৌর যুবলীগের সভাপতি জসিম উদ্দিন খান বলেন,ওকে সব সময় বিএনপির মিছিলে দেখা যেত। এখন সে শ্রমিকলীগ নেতা। আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুস সালাম খান বলেন, কিছুই ছিল না তার। আমাদের দলে এসেই শত কোটি টাকার মালিক। দলে আনাটাই আমাদের ভুল হয়েছে। তার পিতা মাতাকে মারধর করতে যায় বলে আমরা সালিশ করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছি।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১