বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ২৯ April ২০২২

আখাউড়া আশ্রয়ণ প্রকল্প: অনিয়মে নির্মাণ কাজ বন্ধ করলো ডিসি


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের নির্মাণ কাজে নিম্ন নির্মাণ সামগ্রী দেওয়াসহ বিভিন্ন অনিয়মের কারণে বন্ধ করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। কাজের নির্দেশনা অনুযায়ী রড কম দেওয়া, রডের বদলে তার দেওয়া, রড কোথাও রড দেওয়া হলে দুরত্ব অনুযায়ী না দেওয়াসহ বিভিন্ন অনিয়ম দেখা যায়। তাছাড়া ইট বালু সিমেন্টের মান নিয়ে ও উঠে নানা প্রশ্ন। জেলা প্রশাসক মো: শাহগীর আলম আশ্রয়ণ প্রকল্পের নির্মাণ কাজ পরিদর্শনে এসে কাজের বিভিন্ন অনিয়ম দেখতে পান। তাৎক্ষনিক ভাবে তিনি ওইসব অনিয়মের কারণে ঘরের নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে কাজ বন্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কর্মকর্তাকে তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে। তিন কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়। অনিয়মের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা এবং ফৌজদারী মামলা করা হবে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জেলা প্রশাসক মো: শাহগীর আলম তিনি নিজেই আশ্রয়ন প্রকল্প পরিদর্শনে আসেন। সঙ্গে তিনি রাজমিস্ত্রি ও শ্রমিক নিয়ে আসেন। বিভিন্ন জায়গায় কাজের অনিয়ম দেখে কিছু কিছু ভবনের অংশ তিনি ভাঙতে বলেন। এসময় কাজে নিন্মমান সামগ্রী দেওয়ার বিষয়টি বের হয়ে আসে। ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি ইউএনও ,অ্যাসিল্যান্ড ও পিআইওকে ভৎসনা করেন। উপজেলার খলাপাড়া, ঘাঘুটিয়াসহ ৮৮টি ঘর নির্মাণে অনিয়ম পেয়ে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন তিনি। এরপর থেকে আশ্রয়ণ প্রকল্পের কাজ বন্ধ আছে।

জানা গেছে, আখাউড়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য ২ শতক ভূমিতে আধা পাকা ঘর নির্মাণ করে দিচ্ছে সরকার। ইতোমধ্যে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে ১৩৮টি ঘর নির্মাণ শেষে উপকারভোগীদের মাঝে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকী ঘর গুলোর নির্মাণ কাজ চলছিল। ৩০ শে জুনের মধ্যে বাকী ঘরগুলো নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। গতকাল নির্মাণ কাজ পরিদর্শণে আসেন জেলা প্রশাসক শাহগীর আলম। দুপুর পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে নির্মাণ কাজ দেখেন। সেসময় কাজের সঠিকতা যাচাই করতে গ্রেড ভিম, পিলার, লিন্টারের কিছু অংশ ভেঙ্গে ভেঙ্গে দেখেন। এসময় তিনি দেখতে পান সঠিক মাপের রড দেওয়া হয়নি। রড কম দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট দূরত্বে রডের রিং না দিয়ে অতিরিক্ত দূরে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ইট, বালি, সিমেন্টেও কিছু ত্রæটি পাওয়া গেছে। এসব কারণে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ওইসব ঘরের নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক।

একাধিক সূত্র জানায়, প্রকল্প বাস্তবায়নে জায়গা নির্ধারণ শুরু করে সব ক্ষেত্রেই নানা অনিয়ম করা হচ্ছে। ৩০-৪০ হাজার টাকার জায়গা এক থেকে দেড় লাখ টাকা শতক করে কিনছেন। কেনা একটি টিলা কেটে কয়েক লাখ টাকার মাটি বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় এক ঠিকাদার ও দু’জন গণমাধ্যমকর্মীকে ইউএনও দায়িত্ব দিয়েছেন এসব দেখভাল করার।

এদিকে এসব কাজে যেন মুখ না খুলেন সেজন্য স্থানীয় প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদদের ম্যানেজ করতে ইউএনও ৮০টি পাঞ্জাবি, বেশকিছু শাড়ি কিনেছেন ঈদকে সামনে রেখে দেওয়ার জন্য। উপজেলা মনিয়ন্দ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো: মাহবুবুল আলম চৌধুরী দীপক জানায়, জেলা প্রশাসক তার এলাকায় আশ্রয়ণ প্রকল্প পরিদর্শন করেন। এসময় ঘর নির্মাণে নিন্মমানের সামগ্রী ব্যবহারসহ নানা অনিয়ম পাওয়ায় কাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন।

একটি সূত্রে জানা গেছে এ বিষয়ে প্রাথমিক ভাবে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তাপস চক্রবর্তী, ঠিকাদার নূরুজ্জামান ভূইয়া, মোঃ আক্তার মাস্টার এবং মোঃ লিটনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। অন্য কোন সরকারী কর্মকর্তা অনিয়মের সাথে জড়িত কিনা সেটি খতিয়ে দেখা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আক্তার গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে জেলা প্রশাসকের নির্দেশনার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। কাজের অনিয়ম পাওয়ায় বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক। ৫ সদস্যের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি আমি। সদস্য সচিব প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তাপস চক্রবর্তী। তিনিই কাজের মনিটরিং করছেন। অনিয়মের বিষয়ে আমাকে কখনও কোন তথ্য দেননি। ঠিকাদারের দায়িত্বে আছেন নুরুজ্জামান ভূইয়া এবং আক্তার মাস্টার । তারা যে কাজ খারাপ করবে তা ভাবতে পারিনি।

ঠিকাদার নূরুজ্জামান ভূইয়া বলেন, আমি নির্মাণ সামগ্রী সাপ্লাই দিয়েছি। কাজের সাথে আমি জড়িত নই।

এ ব্যপারে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক মো: শাহগীর আলম বলেন, তিনি উপজেলার একাধিক আশ্রয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন। রড কম দেওয়াসহ বড় ধরনের অনিয়ম পাওয়া যায়। তিনি আরো বলেন আশ্রয়ণ প্রকল্প নিয়ে কোনো ধরণের অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না। এ বিষয়ে কোনো কর্মকর্তার অনিয়ম গাফিলতি পাওয়া গেলে প্রয়োজনে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১