আপডেট : ০৮ April ২০২২
আখাউড়া-আগরতলা ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণ (বাংলাদেশ অংশ) প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে তিনবার। কিন্তু এর মেয়াদকাল ছিল ১৮ মাস। আরো একবার বাড়ানো হলো এর সময়। এবার রেলমন্ত্রী সরেজমিনে দেখে জানালেন আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সব কাজ শেষ করতে হবে। ডিসেম্বরেই রেল যাবে আগরতলা। গতকাল বৃহস্পতিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া-আগরতলা ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ কাজের অগ্রগতি দেখে এসব কথা জানান রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। এসময় সার্বিক কাজের অগ্রগতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। এরপর তিনি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন। গতকাল বেলা ১১টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী শিবনগর এলাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামীকে সঙ্গে নিয়ে প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন শেষে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে এ নির্দেশনা দেন তিনি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রেলপথমন্ত্রী বলেন, এটি আমাদের উভয় দেশের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। কাজের অগ্রগতি দেখে আমরা দুপক্ষই হতাশ। যে ঠিকাদারকে আমরা নিয়োগ দিয়েছি-কাজটা দ্রুত শেষ করতে আমরা নির্দেশ দিয়েছি। আগামী জুনের মধ্যে রেলপথ বসানোর কাজটি সম্পন্ন হবে বলে জানানো হয়েছে। বাকি কাজগুলো হয়তো আরেকটু সময় লাগতে পরে। তিনি বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বলছে কোভিডের কারণেই কাজ শেষ করতে পারেনি। এটি অযৌক্তিকভাবে ফেলেও দিতে পারছি না। অবস্থার প্রেক্ষিতে আমাদের এটি গ্রহণ করতে হচ্ছে। আগামী জুন পর্যন্ত সময় দেওয়া আছে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি যা দেখছি-আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেও যদি কাজ শেষ করতে পারে, তাহলেও আমরা খুশি থাকব। তিনি আরো বলেন, আশাকরি ঠিকাদার আমাদের উদ্বেগের বিষয়টি বুঝবেন। যদি দেখি ওনার কোনো গাফিলতির কারণে কাজটা থেমে আছে তাহলে বাধ্য হবো চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ এনে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ করতে। ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী বলেন, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। বর্ধিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হবে বলে আশা করছি। কাজের অগ্রগতি দেখার জন্য আমার সহকর্মীরা নিয়মিত এখানে আসছে। প্রকল্পটির কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য আমরাও চাপে আছি। এ সময় রেলপথমন্ত্রীর সঙ্গে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রকল্প শুরু থেকে এ পর্যন্ত কেটে গেছে ৪৩ মাস। তবুও সম্পন্ন হচ্ছে না দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট এই প্রকল্পের কাজ। সাড়ে ১০ কিলোমিটার রেলপথের ভারতের আগরতলা অংশে পড়েছে ৪ কিলোমিটার, বাকিটা বাংলাদেশ অংশে। ভারতের অংশের কাজ প্রায় শেষ হলেও বাংলাদেশ অংশে অগ্রগতির ধীরগতিতে দেখা দিয়েছে অসন্তোষ। প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হচ্ছে ভারতীয় ঋণে। বাস্তবায়ন করছে ভারতের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টেক্সমেকো রেল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড। বর্তমানে প্রকল্পের বাংলাদেশ অংশের ভৌত অগ্রগতি ৫২ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৪০ দশমিক ৫৪ শতাংশ। সবশেষ বেঁধে দেওয়া সময়ের (২০২২ সালের জুন) মধ্যেও শেষ হচ্ছে না প্রকল্পের কাজ। ফলে মেয়াদ আরো এক বছর বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না জানিয়ে যথাসময়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন না করলে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। সূত্র জানায়, সমপ্রতি রেলপথ মন্ত্রণালয়ে সচিব ড. মো. হুমায়ুন কবীরের সভাপতিত্বে প্রকল্পটির ওপর অনুষ্ঠিত প্রজেক্ট স্টিয়ারিং কমিটির (পিএসসি) সভা হয়। সভায় প্রকল্পের মেয়াদ আরো এক বছর বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সভায় আরো কিছু বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। এর মধ্যে অন্যতম প্রকল্প বাস্তবায়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতা পরিহার করতে ব্যয় ও মেয়াদ এক বছর বাড়ানো। চুক্তির মেয়াদে ঠিকাদার প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে চুক্তির সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ এবং নিয়ম অনুযায়ী ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রকল্পের মেয়াদ বাড়লেও ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হবে না। বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা এস এম সলিমুল্লাহ বাহার বলেন, ‘কোভিডসহ নানা কারণে প্রকল্পের মেয়াদ আরও একবছর বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। এটা বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) সুপারিশ করলে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগ মতামত দেবে। এরপর পরিকল্পনা কমিশন প্রকল্পের মেয়াদ বাড়াবে। ঠিকাদার ও কোভিড-১৯ এর কারণে মূলত প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ছে।’ প্রকল্পের পরিচালক মো. আবু জাফর মিয়া বলেন, ‘ভারতের অংশের রেললাইনের কাজ হয়ে গেছে। এটা আমি দেখেছি।’ যাতায়াতে সুবিধা ছাড়াও ব্যবসায়িক সুবিধা বাড়বে জানিয়ে প্রকল্প পরিচালক বলেন, ‘একটা আলাদা রুট তৈরি হবে। এতে শুধু যাত্রী নয়, পণ্যও সরবরাহ করা যাবে। তবে কী কী পণ্য আমদানি-রপ্তানি হবে সেটা উভয় দেশ সিদ্ধান্ত নেবে অন্যান্য রুটের মতো।’ প্রকল্পটি জুন ২০২২-এ শেষ করার জন্য পরিকল্পনা কমিশন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, আইএমইডি ও বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। প্রকল্পের বাস্তবায়ন মেয়াদের বিষয়ে একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হলেও ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হবে না বলেই জানান সংশ্লিষ্টরা। এরফলে সময় বাড়ে আরো একবার।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১