আপডেট : ০১ March ২০২২
কৃষি বিভাগের মনিটরিং না থাকায় পাবনার চাটমোহর উপজেলার কৃষকদের ঠকিয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করছেন কিছু অসাধু সার ব্যবসায়ীরা। ফলে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষক। এতে প্রচারিত হচ্ছেন শতশত কৃষক। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকারের কৃষি মন্ত্রনালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং অধিশাখা সরকারী-বেসরকারী পর্যায় হতে ডিলার কর্তৃক উত্তোলন পূর্বক উপবরাদ্দকৃত সার সরকার নির্ধারিত মূল্যে কৃষক পর্যায়ে বিতরণ নিশ্চিত করার নির্দেশ রয়েছে। এ নির্দেশ না মেনে সার ব্যবসায়ীরা সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে প্রায়শই বিক্রি করছেন সার। ডিলার, সাব ডিলার, খুচরা বিক্রেতা কেউই ক্রেতাদের কোন রসিদ দিচ্ছেন না। সাব ডিলাররা মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করায় অসচেতন কৃষক সারের সরকার নির্ধারিত মূল্য জানতেই পারছেন না। চাহিদার বিপরীতে ফেব্রুয়ারী-২০২২ মাসে পাবনা জেলায় ৯৩৯ মেট্রিক টন তিউনিশিয়ার টিএসপি সার, ২৯৫৭ মেট্রিক টন মরক্কোর ডিএপি সার ও ৮৮৩ মেট্রিক টন রাশিয়ান এমওপি সার বরাদ্দ হয়। জেলার এ বরাদ্দ থেকে চাটমোহরের উপবরাদ্দের সার টিএসপি ১১০০ টাকা বস্তা, ইউরিয়া ৮০০ টাকা বস্তা, ডিএপি ৮০০ টাকা বস্তা এবং এমওপি ৭৫০ টাকা বস্তা বিক্রি করার কথা। কিন্তু এ সব সারই চাটমোহরে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। টিএসপি ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকা বস্তা এবং এমওপি ১১০০ টাকা বস্তা বিক্রি হচ্ছে। দানাদার এমওপি বিক্রি হচ্ছে ১৩০০ টাকা বস্তা। সাব ডিলারদের সরকারি দামে সার সরবরাহের কথা থাকলেও চাটমোহরের ডিলাররা সাবডিলারদের নিকট বেশি দামে সার বিক্রি করছেন। খুচরা বিক্রেতারা অধিক দামে কিনে আবার লাভ রেখে বিক্রি করছেন কৃষকের কাছে। ডিলাররা সরকার নির্ধারিত দামে সার বিক্রি করছেন এ দাবী করলেও সাবডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা বলছেন ডিলাররা বেশি দাম নিচ্ছেন। এ তিন শ্রেণীর মানুষের অধিক মুনাফা করার প্রবনতা ও কৃষি অফিসের মনিটরিং না থাকায় ন্যায্য মূল্যে সার পাচ্ছে না। ফলে তাদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। হরিপুর ইউনিয়নের ডিলার আনন্দ সাহার বিক্রয় প্রতিনিধি সদানন্দ সাহা জানান, তারা প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) ইউরিয়া সার ৮০০ টাকায়, টিএসপি ১১০০ টাকায়, ডিএপি ৮০০ টাকায় এবং এমওপি ৭৫০ টাকায় বিক্রি করছেন। কাটেঙ্গা গ্রামের কৃষক রেজাউল করিম অভিযোগ করেন, অতি সম্প্রতি চাটমোহর থানা বাজার এলাকার একজন সাব ডিলারের নিকট থেকে তিনি এমওপি ও টিএসপি সার কেনেন। তিনি এমওপি সারের দাম নেন ২২ টাকা কেজি এবং টিএসপি সারের দাম নেন ২৮ টাকা কেজি। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দাম নেওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। হান্ডিয়ালের হাসুপুর গ্রামের কৃষক ইয়ার মাহমুদ জানান, অতি সম্প্রতি হান্ডিয়ালের একজন সাব ডিলার তার নিকট থেকে প্রতি বস্তা এমওপি সারের দাম নিয়েছেন এক হাজার টাকা। ডিলাররা যে সকল সারের বরাদ্দ পাননা অন্যত্র থেকে অনৈতিক পন্থায় সেসব সার এনে ইচ্ছামতো দামে বিক্রি করছেন। ১১ টি ইউনিয়নে ও একটি পৌরসভায় ১জন করে মোট ১২ জন বিসিআইসি ডিলার রয়েছেন। ইউনিয়ন পর্যায়ে ডিলারদের সার বিক্রির নিয়ম থাকলেও কয়েকজন ডিলার এ নিয়ম না মেনে পৌরসদরে বসে সার বিক্রি করেন। এতে কৃষকের পরিবহন খরচ বেড়ে যায়। অনেকে দশ বারো কিলোমিটার দুর থেকে পৌর সদরে না এসে গ্রামের দোকান থেকে বেশি দামে সার কিনতে বাধ্য হন। গ্রামে গ্রামে অনুমোদন বিহীন সারের দোকানে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে সার। এ ব্যাপারে চাটমোহর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এএ মাসুম বিল্লাহ জানান, ফেব্রুয়ারী মাসে এমওপি সারের বরাদ্দ কম এসেছিল। টিএসপি সারের দাম বেশি হওয়ায় ড্যাপ সার ব্যবহারে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। কৃষকের নিকট থেকে সকল ব্যবসায়ী বেশি দামে সার বিক্রি করছেন এটা ঠিক নয়। কিছু ব্যবসায়ী সামান্য কিছু দাম বেশি নিতে পারে। এসকল অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। আর উপজেলার বিভিন্ন সার ডিলারদের গোডাউনে গিয়ে নিয়মিত পরিদর্শন করে আগমানি বার্তায় সাক্ষর করা হয়। বীজ সার মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈকত ইসলাম জানান, সারের মূল্য বেশি নেওয়া হচ্ছে এমন অভিযোগ কোন কৃষক আমার নিকট করেনি। সার ব্যবসায়ীরা এমন কাজ করলে আমি গোপনে মনিটরিং করে ঐ সকল অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
পক্ষান্তরে বিলচলন ইউনিয়নের রামনগর ব্লকের সাব ডিলার আব্দুর রহমানসহ অন্য সাব ডিলাররা জানান, ডিও হলে সরকার নির্ধারিত দামে সাব ডিলারদের সার সরবরাহের কথা থাকলেও ডিলাররা আমাদের সরকার নির্ধারিত দামে সার সরবরাহ করেন না। আমাদের নিকট থেকে বেশি দাম নেওয়া হলেও কোন রশীদ দেয় না ডিলাররা। ডিলাররা কবে বরাদ্দের সার পান তা আমরা জানতেই পারি না।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১