বাংলাদেশের খবর

আপডেট : ২০ August ২০২১

গরু ও মুরগির খামার করে সংসার চালান স্কুল শিক্ষকরা


করোনার কারণে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। কবে খুলবে তারও কোন নিশ্চয়তা নেই। দির্ঘদিন বেকার থেকে অবশেষে সংসার চালানোর জন্য গরু ও মুরগির খামার গড়ে তুলেছেন ঢাকার ধামরাইয়ে দুই স্কুল শিক্ষক। স্কুলে ম্যাচ চালু করার সিন্ধান্ত নিয়েছে এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মালিক। যতদিন স্কুল বন্ধ থাকবে ততদিন ম্যাচে লোকজন ভাড়া থাকবে।

মর্নিং ফ্লাওয়ার স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবু হাসান উপজেলার বড় চন্দ্রাইল এলাকার মোখলেসুর রহমানের বড় ছেলে। তিনি গরুর খামার করে বর্তমানে সংসার চালাচ্ছেন। অপরদিকে, শাহিন একাডেমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক শাহিনুর রহমান পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি মুরগীও কোয়েলের খামার গড়ে তুলেছেন স্কুল বন্ধের মধ্যে । এখন এভাবেই সংসার চালাচ্ছেন স্কুল শিক্ষক শাহিন।

সরেজমিনে জানা যায়, আবু হাসান কোন প্রতিষ্ঠানে চাকরি না করে নিজেই মর্নিং ফ্লাওয়ার নামে একটি প্রাইভেট স্কুল চালু করেন। বেশ ভালোই চলছিল প্রতিষ্ঠানটি। সুনামের সাথে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চললেও করোনার কারণে গত দুই বছর ধরে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। তাই নিজের প্রতিষ্ঠানের লোকসান গুনতে গুনতে অন্যান্য শিক্ষকরা নিজের মতো করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে অনেকেই চলে গেছেন। সকল দিক বিবেচনা করে আবু হাসান শেষ মেষ সংসার চালানোর জন্য নিজেই গরুর খামার দিয়ে এখন নতুন করে আয়ের পথ খুঁজছে। ৭/ ৮ জনের সংসার এখন গরু পালনের উপর নির্ভরশীল। স্কুল খোলার পর নতুন করে প্রতিষ্ঠান চালু করাও হয়ে পড়বে কষ্টকর।

স্থানীয়রা বলেন, আবু হাসানের মর্নিং ফ্লাওয়ার স্কুলটি বেশ সুনামের সাথেই চলছিল। শিক্ষার মানও ছিল বেশ ভালো। কিন্তু করোনার কারণে তিনি এখন গরুর খামার দিয়ে সংসার চালাচ্ছেন। শুধু আবু হাসানই নয় এরকম অনেক শিক্ষকেরই করুন অবস্থা।

আবু হাসান বলেন, অন্যত্র চাকরির সন্ধান না করে শিক্ষা বিস্তারের জন্য স্কুল চালু করেছিলাম। কিন্তু করোনার কারণে আজ বেহাল অবস্থা। স্কুলের মাঠে বড় বড় ঘাসে ভরে গেছে। সরকার কবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু করবে তার কোন সঠিক খবর নেই। আমরা এখন চরম বিপাকে আছি।

শাহিন একাডেমিক স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক শাহিন পরিবার চালানোর জন্য নিজের বাড়ির উঠানে ব্রয়লার মুরগী ও কোয়েলের ফার্ম করেছেন স্কুল বন্ধের সময়। বর্তমানে ২০০ টি ব্রয়লার মুরগী ও ১০০ টি কোয়েল রয়েছে তার খামারে। এভাবেই চলছে বর্তমানে স্কুল শিক্ষক শাহিনের সংসার। অনেক শিক্ষকই তার প্রতিষ্ঠান থেকে অন্যত্র কর্মের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছে। প্রায় দুই বছর ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় লোকসান গুনছে প্রতিষ্ঠান মালিক।

এ বিষয়ে শাহিন একাডেমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক শাহিনুর রহমান বলেন, করোনার কারণে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। লোকসান গুনতে গুনতে হতাশ হয়ে পড়েছি। তাই সকল দিক বিবেচনা করে সংসার চালাতে মুরগী ও কোয়েলের ফার্ম তৈরি করেছি।কারণ কখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলবে তা এখনও অনিশ্চিত।

তিনি আরো বলেন, স্কুল না খোলার কারণে কি করবো, শেষে স্কুলের ভিতর ম্যাচ চালু করার সিন্ধান্ত নিয়েছি।তাও যদি কিছু আয় হয়। শিক্ষকদের কিছুটা হলেও বেতন দেওয়া যাবে।


বাংলাদেশের খবর

Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.

বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com

অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com

ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১