আপডেট : ২৭ June ২০২১
প্রভাবশালীদের দখলের দাপটে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের ভুরঘাটা-আগৈলঝাড়া ভায়া ঘোষেরহাট খাল। খালের গৌরনদী উপজেলার বাকাই বন্দরের প্রায় দুই কিলোমিটার জায়গা দখল করে শতাধিক আওয়ামী লীগ-বিএনপির নেতাকর্মী পাকা-আধাপাকা ভবন, দোকানপাট ও স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে চরম বিরোধ থাকলেও সরকারি খাল ভোগদখলে তারা মিলেমিশে একাকার। জানা গেছে, ঘোষেরহাট ১৫ কিলোমিটার খালটি গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলার ব্যবসায়ী ও কৃষকদের জন্য আশীর্বাদ হিসেবে পরিচিত। গৌরনদীর বাকাই বন্দর ও আগৈলঝাড়ার রাজিহার, বাশাইল বাজারসহ কয়েক হাজার ব্যবসায়ী, ক্রেতা-বিক্রেতার মালামাল পরিবহনসহ ১৫টি গ্রামের ৫০ হাজার কৃষকদের ফসল উৎপাদন ও পরিবহনে খালটি খুবই গুরুত্বপর্ণ। আওয়ামীলীগ ও বিএনপি নেতাকর্মীরা খালটির বিভিন্ন স্থানে দুই কিলোমিটার জায়গা দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করছে। দখলদারদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক রাজীব মাতুব্বর (৪৫), খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন হাওলাদার (৪৫), ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ১নং ওয়ার্ড কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি কুদ্দুস মাতুব্বর। খাঞ্জাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান প্রজন্ম বরিশাল উত্তর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাদল মিয়া, ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সম্পাদক প্রবাসী রিপন সরদার (৩৫), ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক জিয়া ফকিরসহ (৪০) দুই দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী-সমর্থকসহ শতাধিক ব্যক্তি। দখলদারদের কাছে অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে কুদ্দুস মাতুব্বর ৪০ ফুট দখলের কথা স্বীকার করে বলেন, আমি বৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করছি। থানা ও উপজেলা ভূমি অফিসের লোকজন এসে নির্মাণ কাজে বাধা দিলে পরে আমার বৈধ কাগজপত্র দেখে তারা চলে যান। উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক রাজীব মাতুব্বর বলেন, খালটি সরকারি, তবে আমি লিজ নিয়ে দোকান ঘর নির্মাণ করছি। খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, সবাই দখল করে, তাই আমরা তিন বন্ধু দোকান ঘর নির্মাণের জন্য জায়গা দখল করেছি। গৌরনদীর খাঞ্জাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান প্রজন্ম বরিশাল উত্তর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাদল মিয়া বলেন, আমি জিয়া ফকিরের কাছ থেকে লিজ নিয়ে দোকান ঘর নির্মাণ করেছি। ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক জিয়াউর রহমান ফকির বলেন, জেলা পরিষদের উচ্চমান সহকারী মুজাহিদুল ইসলাম আমার নামে ৪০ ফুট খাল লিজ এনে দিয়েছে। উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানান, উপজেলার জেএল নং ৮ পূর্ব বাকাই মৌজার খতিয়ান নং ৩ দাগ নং ৪৪ ও ৪৫ খালের রেকর্ডীয় মালিক সরকার। ওই জমিতে কোনো ব্যক্তির মালিকানাস্বত্ব নেই। উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা দীপংকর বাড়ৈ বলেন, এই খালের পানি ব্যবহার করে বোরো মৌসুমে গৌরনদী আগৈলঝাড়ার ১৫টি গ্রামের ৫০ হাজার কৃষক বোরো চাষে করে থাকে। খালে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে কৃষকরা সেচ সংকটে পড়বে। খাঞ্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নুর আলম সেরনিয়াবাত বলেন, এই খালটি সরকারি। অবৈধ দখলের ফলে খালটি সংকুচিত হয়ে আসছে। জরুরি ভিত্তিতে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করা প্রয়োজন। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফুল ইসলাম বলেন, অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিপিন চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, দখলদাররা যেই হোক না কেন কাউকে জনস্বার্থ বিরোধী কাজ করতে দেয়া হবে না। খালটি দখলমুক্তসহ দখলদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১