আপডেট : ২৩ April ২০২১
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিপাকে পড়েছেন ফুল চাষিরা। বিক্রি না হওয়ায় তারা এবার ফুল খাওয়াচ্ছেন গরু-ছাগলকে। জেলার ৬ উপজেলায় ১৭৩ হেক্টর জমিতে ফুলের আবাদ হয়েছিল। এরমধ্যে গাঁদা ১১৩ ও রজনী ২৪ হেক্টর; বাকি জমিতে অন্যান্য ফুলের চাষ হয়েছে। গেল বছর এ জেলায় চাষ হয়েছিল ২৪৫ হেক্টর। প্রতি বছর সব থেকে বেশি ফুলের চাষ হয় উপজেলার গান্না ও কালীগঞ্জ উপজেলার ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নে। ২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়ার পর অঘোষিত লকডাউন শুরু হয়। ফলে ফুল বিক্রিতে ধস নামায় জেলার ফুলচাষিদের ব্যপক লোকসান হয়েছিল। বিক্রি করতে না পারায় ফুল গরু-ছাগলকে খাওয়ানো হয়েছিল। করোনার প্রভাব কিছুটা কমে আসার পর আবারো চাষিরা নতুন করে ফুলের চাষ শুরু করেন। সেই ক্ষতি পুষিয়ে উঠার স্বপ্ন নিয়ে সবেমাত্র ফুল বিক্রি শুরু করেছিল। কিন্তু এবারো করোনার কারণে সরকার লকডাউন ঘোষণা করায় সে স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। কালীগঞ্জ ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের শাহপুর ঘিঘাটি গ্রামের হোসেন আলী চলমান লকডাউনে ফুল বিক্রি করতে না পেরে দুই বিঘা গাঁদা ও এক বিঘা জমির রজনীগন্ধা তুলে অন্য শস্য চাষ করেছেন। করোনার কারণে সবকিছু কবে স্বাভাবিক হবে তা অনিশ্চিত জেনেই অধিকাংশ জমির ফুল তুলে নিয়েছেন তিনি। দুই বিঘা জমিতে গাঁদা ফুলের চাষ করেছিলেন কৃষক আনোয়ার হোসেন। এক সপ্তাহ হলো ফুল বেচাকেনা বন্ধ। ফলে জমিতেই ফুল নষ্ট হচ্ছে। এদিকে ফুল তুলে ফেলে না দিলে গাছ মরে যাচ্ছে। গাছ থেকে একবার ফুল তুলে ফেলে দিতে প্রায় ৪ হাজার টাকা খরচ হয়। এক সপ্তাহ আগে একবার ক্ষেত থেকে ফুল তুলে ফেলে দিয়েছেন। এদিকে কবে ফুলের বাজার শুরু হবে তাও অনিশ্চিত। পকেটের টাকা খরচ করে এভাবে ফুলগাছ বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব না। তাই বাধ্য হয়ে এখন ফুল গাছ তুলে ফেলে দিতে হচ্ছে। ১৪ এপ্রিল থেকে সারা দেশে চলছে সর্বাত্মক লকডাউন। ফলে দেশের সব ফুলের বাজার বন্ধ হয়ে গেছে। আনোয়ার হোসেন বলেন, এ বছর প্রায় ৭০ হাজার টাকা খরচ করে ফুল চাষ করেছিলাম। করোনার কারণে সবই মাটি হয়ে গেল। ফুলচাষি শফিকুল ইসলাম বলেন, দুই বিঘা জমিতে গরম জাতের গাঁদা ফুল ছিল। লকডাউনে পরিবহন ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় ক্ষেতের ফুল তুলে একেবারেই বাজারে বিক্রি করতে পারছিলাম না। যার কারণে সব গাছ কেটে ফেলি। এতে আমার লোকসান হয় দেড় লাখ টাকার মতো। এবার আবার সে ক্ষতি পুষিয়ে নিয়ে গাঁদা ফুল চাষ করেছিলাম; কিন্তু আবারো করোনা আমাদের সব স্বপ্ন ধুলিষ্যাৎ করে দিয়েছে। সব থেকে বেশি ফুলচাষ হওয়া এলাকা বালিয়াডাঙ্গা ও গান্না ঘুরে দেখা যায়, কৃষকরা পকেটের টাকা খরচ করে ক্ষেত থেকে ফুল তুলে ফেলে দিচ্ছে। অনেকে ফুল গবাদিপশুর খাবার হিসেবে ব্যবহার করছেন। ফুলচাষি লিটন হোসেন বলেন, এবছর আমার দুই বিঘা জমিতে লাল ও হলুদ গোলাপের চাষ হয়েছিল। এ ছাড়া প্রায় পাঁচ বিঘা জমিতে বিদেশি ফুল জারবেরা। এখান থেকে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার গোলাপ ও দুই হাজার জারবেরা ফুল তুলতাম। প্রতিটি ফুল গড় ৫ টাকা করে বিক্রি হতো। কিন্তু করোনার কারণে কোনো বেচা বিক্রি নেই। গান্না বাজার ফুল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি দাউদ হোসেন জানালেন, ফুলের ভরা মৌসুমে করোনার হানায় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। কবে নাগাদ ফুলের বেচাকেনা হবে তাও অনিশ্চিত। ফলে কৃষকরা বাধ্য হয়ে ফুল গরু ছাগল দিয়ে খাওয়াচ্ছে। ঝিনাইদহ কৃষি সস্প্রসারণ অধিপ্তরের উপ-পরিচালক আজগর আলী জানান, করোনা ভাইরাসের কারণে ফুলচাষিরা চরম বিপদে পড়েছেন। তারা ফুল বিক্রি করতে পারছেন না। আবার ক্ষেতে ফুল রাখতেও পারছেন না। বাধ্য হয়ে গরু ছাগল দিয়ে খাওয়াচ্ছেন। অনেকে ফুল তুলে ফেলছেন। ফুলচাষ দেশের অর্থনীতিতে বিরাট ভূমিকা রাখলেও দ্রুত পচনশীল হওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছে এ অঞ্চলের কৃষকরা। তবে কী পরিমাণ ক্ষতি হবে তা বলতে পারেননি এই জেলা কৃষি কর্মকর্তা।
Plot-314/A, Road # 18, Block # E, Bashundhara R/A, Dhaka-1229, Bangladesh.
বার্তাবিভাগঃ newsbnel@gmail.com
অনলাইন বার্তাবিভাগঃ bk.online.bnel@gmail.com
ফোনঃ ৫৭১৬৪৬৮১